০৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল

করোনায় মৃত্যুর মিছিল দিন দিন বড় হচ্ছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো রবিবারও শতাধিক মৃত্যু হয়েছে করোনায়। তবে আগের দুই দিনের রেকর্ড ভেঙে ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে গতকাল। এর আগে শুক্র ও শনিবার ১০১ জন করে মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে মৃত্যুর মিছিল বড় হলেও লকডাউনের মধ্যে শনাক্ত কমে আসছে। রবিবার করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন। এর আগে শনাক্ত ৭ হাজার পার করেছিল। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলেছেন, ৫ এপ্রিল থেকে দুই ধাপে দেওয়া কঠোর বিধি-নিষেধের সুফল মিলতে শুরু করেছে। যে কারণে দৈনিক শনাক্তের পরিমাণ নিচের দিকে নামছে। প্রথম দফার পর গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় লকডাউনের আদলে আট দিনের জন্য কঠোর বিধি-নিষেধ। আজ সোমবার এর ষষ্ঠ দিন চলছে। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে এই বিধি-নিষেধের মেয়াদ। তবে সংক্রমণ কমার প্রাথমিক সাফল্য আরো জোরদার ও নিশ্চিত করতে চলমান বিধি-নিষেধের মেয়াদ কমপ¶ে এক সপ্তাহ বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার। পাশাপাশি বিধি-নিষেধ একেবারে তুলে না দিয়ে ধাপে ধাপে শিথিল করার বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, চলমান বিধি-নিষেধের মেয়াদ ২১ এপ্রিল থেকে বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত নেওয়ার ব্যাপারে কাজ চলছে। এর পরে হয়তো অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হবে। তবে আন্ত জেলা যোগাযোগ, পর্যটন, বিনোদনকেন্দ্র, সভা-সমাবেশ, সামাজিক আয়োজন ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বন্ধ রাখার প¶ে জোর দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, গত ১৪ এপ্রিল লকডাউনের আগে সংশ্লিষ্ট সব প¶কে নিয়ে হওয়া বৈঠকে অন্তত ১৪ দিনের লকডাউনের কথা আলোচনা হয়। এক সপ্তাহ করে তা প্রয়োগ করার কথা ভাবা হয়। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প¶ থেকে অন্তত ২১ দিন লকডাউন ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধে সুফল পাওয়া যাবে না বলে সতর্ক করা হয়।
এসব মতামত ও পরামর্শ এবং সার্বিক পরিস্থিতির প্রে¶াপটে লকডাউন আরো বাড়ানো হবে কি না, বাড়ালে কত দিন এবং কী মাত্রায় হবে, সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে কভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় সরকারের গঠিত জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটিও সরকারকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বর্তমান কঠোর বিধি-নিষেধের সময়সীমা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছে। অন্য জনস্বাস্থ্যবিদরাও একই মত দিচ্ছেন কয়েক দিন ধরেই। তাঁদের মতে, এখন যেভাবে শনাক্ত কম থাকছে, সেটা আরো কমাতে হলে আরো এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। তা না হলে ২১ তারিখ পর্যন্ত বিধি-নিষেধ রেখে এরপর তুলে দিলে পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মানুষের বেপরোয়া চলাফেরায় সংক্রমণ ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকের তুলনায় লাফিয়ে লাফিয়ে ১০-১২ গুণ বেড়ে গিয়েছিল, শনাক্তের হার ২ শতাংশের ঘর থেকে ২১ শতাংশে উঠে গেছে, দিনে ২০০-৩০০ জন থেকে সাত হাজার জনে উঠে গিয়েছিল। ওই সময়ের শনাক্তকৃতদের মধ্য থেকেই এখন মৃত্যু ঘটছে। তবে সরকারের কঠোর বিধি-নিষেধের মাধ্যমে সংক্রমণ বিস্তারের চেইন অনেকটাই ছিন্ন করা সম্ভব হয়েছে। ফলে গত চার-পাঁচ দিন ধরে শনাক্তও কমেছে। এটা ধরে না রাখলে বিপদ কমবে না, আর ধরে রাখতে হলে এবং সংক্রমণ আরো কমাতে হলে চলমান বিধি-নিষেধ আরো এক-দুই সপ্তাহ বহাল রাখার জন্য আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলছি। অন্য দেশগুলোও একই পথে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটাও ভাবছি, বেশিদিন সব কিছু বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয় মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে। তাই অন্তত আরো এক সপ্তাহ এখনকার মতো কঠোর অবস্থা রেখে এরপর ধাপে ধাপে কিছুটা ছাড় দেওয়া যায়। পাশাপাশি মানুষ যাতে টিকা দেয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেটা দেখতে হবে।’
এদিকে রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রবিবার ১০২ জনের মৃত্যু নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩৮৫ জন। রবিবার নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৮ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ জন। রোববার এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ১২১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি ২৫৭টি ল্যাবরেটরিতে ১৮হাজার ৯২৮টি নমুনা সংগ্রহ ও ১৯ হাজার ৪০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫১ লাখ ৭০ হাজার ৬৭টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। মৃত ১০২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৮, চট্টগ্রামে ২২, রাজশাহীতে ৩, খুলনায় ১, বরিশালে ৪ এবং ময়মনসিংহে ৪ জন মারা গেছেন। মৃত ১০২ জনের মধ্যে পুরুষ৫৯ ও নারী ৪৩ জন। এদের মধ্যে ৯৭ জন হাসপাতালে এবং ৫ জন বাড়িতে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১০ হাজার ৩৮৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৬৯৪ জন এবং নারী ২ হাজার ৬৯১ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়া ১০২ জনের মধ্যে ৬৩ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ২৩, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ১৪ এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের ২ জন রয়েছেন। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জামালপুরে ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশিত : ১২:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১

করোনায় মৃত্যুর মিছিল দিন দিন বড় হচ্ছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো রবিবারও শতাধিক মৃত্যু হয়েছে করোনায়। তবে আগের দুই দিনের রেকর্ড ভেঙে ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে গতকাল। এর আগে শুক্র ও শনিবার ১০১ জন করে মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে মৃত্যুর মিছিল বড় হলেও লকডাউনের মধ্যে শনাক্ত কমে আসছে। রবিবার করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন। এর আগে শনাক্ত ৭ হাজার পার করেছিল। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলেছেন, ৫ এপ্রিল থেকে দুই ধাপে দেওয়া কঠোর বিধি-নিষেধের সুফল মিলতে শুরু করেছে। যে কারণে দৈনিক শনাক্তের পরিমাণ নিচের দিকে নামছে। প্রথম দফার পর গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় লকডাউনের আদলে আট দিনের জন্য কঠোর বিধি-নিষেধ। আজ সোমবার এর ষষ্ঠ দিন চলছে। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে এই বিধি-নিষেধের মেয়াদ। তবে সংক্রমণ কমার প্রাথমিক সাফল্য আরো জোরদার ও নিশ্চিত করতে চলমান বিধি-নিষেধের মেয়াদ কমপ¶ে এক সপ্তাহ বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার। পাশাপাশি বিধি-নিষেধ একেবারে তুলে না দিয়ে ধাপে ধাপে শিথিল করার বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, চলমান বিধি-নিষেধের মেয়াদ ২১ এপ্রিল থেকে বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত নেওয়ার ব্যাপারে কাজ চলছে। এর পরে হয়তো অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হবে। তবে আন্ত জেলা যোগাযোগ, পর্যটন, বিনোদনকেন্দ্র, সভা-সমাবেশ, সামাজিক আয়োজন ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বন্ধ রাখার প¶ে জোর দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, গত ১৪ এপ্রিল লকডাউনের আগে সংশ্লিষ্ট সব প¶কে নিয়ে হওয়া বৈঠকে অন্তত ১৪ দিনের লকডাউনের কথা আলোচনা হয়। এক সপ্তাহ করে তা প্রয়োগ করার কথা ভাবা হয়। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প¶ থেকে অন্তত ২১ দিন লকডাউন ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধে সুফল পাওয়া যাবে না বলে সতর্ক করা হয়।
এসব মতামত ও পরামর্শ এবং সার্বিক পরিস্থিতির প্রে¶াপটে লকডাউন আরো বাড়ানো হবে কি না, বাড়ালে কত দিন এবং কী মাত্রায় হবে, সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে কভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় সরকারের গঠিত জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটিও সরকারকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বর্তমান কঠোর বিধি-নিষেধের সময়সীমা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছে। অন্য জনস্বাস্থ্যবিদরাও একই মত দিচ্ছেন কয়েক দিন ধরেই। তাঁদের মতে, এখন যেভাবে শনাক্ত কম থাকছে, সেটা আরো কমাতে হলে আরো এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। তা না হলে ২১ তারিখ পর্যন্ত বিধি-নিষেধ রেখে এরপর তুলে দিলে পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মানুষের বেপরোয়া চলাফেরায় সংক্রমণ ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকের তুলনায় লাফিয়ে লাফিয়ে ১০-১২ গুণ বেড়ে গিয়েছিল, শনাক্তের হার ২ শতাংশের ঘর থেকে ২১ শতাংশে উঠে গেছে, দিনে ২০০-৩০০ জন থেকে সাত হাজার জনে উঠে গিয়েছিল। ওই সময়ের শনাক্তকৃতদের মধ্য থেকেই এখন মৃত্যু ঘটছে। তবে সরকারের কঠোর বিধি-নিষেধের মাধ্যমে সংক্রমণ বিস্তারের চেইন অনেকটাই ছিন্ন করা সম্ভব হয়েছে। ফলে গত চার-পাঁচ দিন ধরে শনাক্তও কমেছে। এটা ধরে না রাখলে বিপদ কমবে না, আর ধরে রাখতে হলে এবং সংক্রমণ আরো কমাতে হলে চলমান বিধি-নিষেধ আরো এক-দুই সপ্তাহ বহাল রাখার জন্য আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলছি। অন্য দেশগুলোও একই পথে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটাও ভাবছি, বেশিদিন সব কিছু বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয় মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে। তাই অন্তত আরো এক সপ্তাহ এখনকার মতো কঠোর অবস্থা রেখে এরপর ধাপে ধাপে কিছুটা ছাড় দেওয়া যায়। পাশাপাশি মানুষ যাতে টিকা দেয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেটা দেখতে হবে।’
এদিকে রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রবিবার ১০২ জনের মৃত্যু নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩৮৫ জন। রবিবার নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৮ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ জন। রোববার এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ১২১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি ২৫৭টি ল্যাবরেটরিতে ১৮হাজার ৯২৮টি নমুনা সংগ্রহ ও ১৯ হাজার ৪০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫১ লাখ ৭০ হাজার ৬৭টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। মৃত ১০২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৮, চট্টগ্রামে ২২, রাজশাহীতে ৩, খুলনায় ১, বরিশালে ৪ এবং ময়মনসিংহে ৪ জন মারা গেছেন। মৃত ১০২ জনের মধ্যে পুরুষ৫৯ ও নারী ৪৩ জন। এদের মধ্যে ৯৭ জন হাসপাতালে এবং ৫ জন বাড়িতে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১০ হাজার ৩৮৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৬৯৪ জন এবং নারী ২ হাজার ৬৯১ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়া ১০২ জনের মধ্যে ৬৩ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ২৩, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ১৪ এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের ২ জন রয়েছেন। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।