০৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভালো নেই মুচি সম্প্রদায়

মহামারী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নারায়ণঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুচি সম্প্রদায় । লকডাউনের এই সময়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে উপজেলার শতাধিক মুচি পরিবার। কষ্টে কাটছে তাদের দিন। মুচি বলা হয় যারা পুরাতন ছেঁড়া জুতা সেলাই করে মেরামত করাসহ রং মাখিয়ে নতুনের মত চাকচিক্য করে তুলা কারিগরদের। এছাড়া মুচিদের মূলত দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়, যথা কাশ্যপ এং শান্ডিল্য।
উপজেলার মুড়াপাড়া, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, বরপা, রূপসী, তারাবসহ তারা বসেন নির্দিষ্ট এক স্থানে আবার কেউ কেউ পাড়া-মহল্লায় গিয়ে জুতা মেরামতের কাজ করেন। তবে লকডাউনে বেশিরভাগ মুচি হয়ে আছেন ঘর বইটা । কাজ না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে মুচি সম্প্রদায়ের । কেউ কেউ লকডাউন পরিস্থিতিতে জীবিকার তাগিদে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বসলেও আগের মত অহরহ মিলছে না কাস্টমার।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে তাদের অনেককেই হাতে কাজ না থাকায় মলিন মুখে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে ভুলতা এলাকায় । তবে তাদের কারো কাছেই মাস্ক ছাড়া করোনা ভাইরাসের অন্য কোন সুরক্ষা সরঞ্জাম দেখা যায়নি।

কথা হয় উপজেলার গোলাকান্দাইল সাওঘাট এলাকার মৃত বিনতের ছেলে সত্যবান নামের এক মুচি সম্প্রদায়ের সাথে তিনি বলেন, “ ইনকাম না থাকায় পরিবার নিয়ে দুবেলা খাওয়াটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে কীভাবে এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম কিনে ব্যবহার করব । ইনকামের অবস্থা খুবই খারাপ । কাজ একদম কম । লকডাউনের কারণে তো আগের মতো মানুষের চলাফেরা নাই । গতকাল সারাদিনে মাত্র ৮০টাকার কাজ করছি । আজ সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল তবুও এক টাকার কাজও করতে পারলাম না। তবে লকডাউনের আগে প্রতিদিন ৪/৫‘শ টাকার কাজ করতে পারতাম। তিনি আরো বলেন, আমার বাপ-দাদার এই পেশা আমি অনেক কষ্টে ধরে রেখেছি । আমার পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে এক ছেলে । এ কাজ করে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়ে যায় । তাই ছেলে-মেয়েকে কয়েক ক্লাস পড়িয়ে বিয়ে শাদী দিয়েছি । ইনকামের এই দূরবস্থা দেখে আমার ছেলে সবুজ বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে এখন রিকশা চালায় । আমাদের অবস্থা বর্তমানে খুবই করুন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরপা এলাকার সুনীলের ছেলে রঞ্জন নামে আরেক মুচি বলেন, আমি সকাল থেকে মাত্র ১০ টাকার কাম করছি আর গতকাল ৩০টাকার কাম করছিলাম । বর্তমানে এমন ইনকাম দেইখা আমার ছেলে চিনিবাস (২০) আমার এই কাম করতো রাজি হয় না । সে নাকি গ্যারেজের কাম করবো । কি আর করমুর। এহন স্কুল বন্ধ তাই গ্যারেজের কাম শিখাইতাছি ।
মৃত সতিশের ছেলে মুচি রাজীব চন্দ্র দাস বলেন, এই লকডাউনে সারাদিন জুতা সেলাই করে যা ইনকাম হয় তাতে পরিবারের জন্য একদিনের বাজার করতে হিমশিম খেতে হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের গণ পরিবহন বন্ধ। সড়কেও মানুষের চলাচল তেমন নাই । সকাল থেকে বসে আছি এখনো কোন কাজ করতে পারি নাই।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ’২৬ এ রাজারহাটে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অধ্যক্ষ প্রধান শিক্ষক শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত

ভালো নেই মুচি সম্প্রদায়

প্রকাশিত : ১২:০১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১

মহামারী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নারায়ণঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুচি সম্প্রদায় । লকডাউনের এই সময়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে উপজেলার শতাধিক মুচি পরিবার। কষ্টে কাটছে তাদের দিন। মুচি বলা হয় যারা পুরাতন ছেঁড়া জুতা সেলাই করে মেরামত করাসহ রং মাখিয়ে নতুনের মত চাকচিক্য করে তুলা কারিগরদের। এছাড়া মুচিদের মূলত দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়, যথা কাশ্যপ এং শান্ডিল্য।
উপজেলার মুড়াপাড়া, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, বরপা, রূপসী, তারাবসহ তারা বসেন নির্দিষ্ট এক স্থানে আবার কেউ কেউ পাড়া-মহল্লায় গিয়ে জুতা মেরামতের কাজ করেন। তবে লকডাউনে বেশিরভাগ মুচি হয়ে আছেন ঘর বইটা । কাজ না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে মুচি সম্প্রদায়ের । কেউ কেউ লকডাউন পরিস্থিতিতে জীবিকার তাগিদে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বসলেও আগের মত অহরহ মিলছে না কাস্টমার।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে তাদের অনেককেই হাতে কাজ না থাকায় মলিন মুখে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে ভুলতা এলাকায় । তবে তাদের কারো কাছেই মাস্ক ছাড়া করোনা ভাইরাসের অন্য কোন সুরক্ষা সরঞ্জাম দেখা যায়নি।

কথা হয় উপজেলার গোলাকান্দাইল সাওঘাট এলাকার মৃত বিনতের ছেলে সত্যবান নামের এক মুচি সম্প্রদায়ের সাথে তিনি বলেন, “ ইনকাম না থাকায় পরিবার নিয়ে দুবেলা খাওয়াটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে কীভাবে এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম কিনে ব্যবহার করব । ইনকামের অবস্থা খুবই খারাপ । কাজ একদম কম । লকডাউনের কারণে তো আগের মতো মানুষের চলাফেরা নাই । গতকাল সারাদিনে মাত্র ৮০টাকার কাজ করছি । আজ সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল তবুও এক টাকার কাজও করতে পারলাম না। তবে লকডাউনের আগে প্রতিদিন ৪/৫‘শ টাকার কাজ করতে পারতাম। তিনি আরো বলেন, আমার বাপ-দাদার এই পেশা আমি অনেক কষ্টে ধরে রেখেছি । আমার পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে এক ছেলে । এ কাজ করে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়ে যায় । তাই ছেলে-মেয়েকে কয়েক ক্লাস পড়িয়ে বিয়ে শাদী দিয়েছি । ইনকামের এই দূরবস্থা দেখে আমার ছেলে সবুজ বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে এখন রিকশা চালায় । আমাদের অবস্থা বর্তমানে খুবই করুন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরপা এলাকার সুনীলের ছেলে রঞ্জন নামে আরেক মুচি বলেন, আমি সকাল থেকে মাত্র ১০ টাকার কাম করছি আর গতকাল ৩০টাকার কাম করছিলাম । বর্তমানে এমন ইনকাম দেইখা আমার ছেলে চিনিবাস (২০) আমার এই কাম করতো রাজি হয় না । সে নাকি গ্যারেজের কাম করবো । কি আর করমুর। এহন স্কুল বন্ধ তাই গ্যারেজের কাম শিখাইতাছি ।
মৃত সতিশের ছেলে মুচি রাজীব চন্দ্র দাস বলেন, এই লকডাউনে সারাদিন জুতা সেলাই করে যা ইনকাম হয় তাতে পরিবারের জন্য একদিনের বাজার করতে হিমশিম খেতে হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের গণ পরিবহন বন্ধ। সড়কেও মানুষের চলাচল তেমন নাই । সকাল থেকে বসে আছি এখনো কোন কাজ করতে পারি নাই।