১০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

গণমানুষের নেত্রী হয়েই ফিরেছিলেন তিনি

১৭ মে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নিজ দেশে ফিরে আসার দিন। ১৯৮১ সালের এই দিনেই তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন একটি স্বপ্নের বাংলাদেশের নির্মাতা হওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে।
নতুন প্রজন্মের অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে নিজভূমে তিনি আসবেন তাই তো স্বাভাবিক, এখানে আবার ফিরে আসার কথা আসে কেন? সে কারণে এই প্রশ্নের উত্তর ছোট করে হলেও টানতে হয়- সপরিবারে পিতার মৃত্যুর পর প্রবাসজীবন বাধ্যতামূলক হয়ে যায় শেখ হাসিনার জন্য। একদিকে দেশে আসতে না পারা- অন্যদিকে জীবনের প্রতি হুমকি। সব মিলিয়ে দুঃষহ জীবনের মধ্যে বেঁচে থাকা। এরই মধ্যে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই দায়িত্বভার গ্রহণ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জীবন নিয়ে সব শঙ্কাকে তুচ্ছ করে নিজ দেশে তিনি ফিরে আসেন। ু
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার সংবাদ পরদিন (১৮ মে, ১৯৮১) ঢাকার বিভিন্ন সংবাদপত্রে গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়। তৎকালীন দেশসেরা পত্রিকা ‘দৈনিক সংবাদ’ তাদের রিপোর্টে এভাবে ঐদিনের ঘটনাটি ব্যাখ্যা দিয়েছে, ‘রাজধানী ঢাকা গতকাল ১৭ মে মিছিলের শহরে পরিণত হয়েছিল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মিছিল। শুধু মিছিল আর মিছিল। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিও মিছিলের গতিরোধ করতে পারেনি। স্লোগানেও ভাটা পড়েনি। লাখো কণ্ঠের স্লোগান নগরীকে প্রকম্পিত করেছে। গতকালের ঢাকা ন’বছর আগের কথাই বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশে এসেছিলেন, সেদিন স্বজন হারাবার ব্যথা ভুলে গিয়েও লাখ লাখ জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিল নেতাকে একনজর দেখার জন্য। গতকালও হয়েছে তাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনাকে একনজর দেখার জন্য ঢাকায় মানুষের ঢল নেমেছিল। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। ফার্মগেট থেকে কুর্মিটোলা বিমানবন্দর পর্যন্ত ট্রাফিক বন্ধ ছিল প্রায় ছ’ঘণ্টা।’
দলের একজন কর্মীর কাছে তার দলের নেতা ফিরে আসাটা সত্যি আনন্দের; কিন্তু একজন সাধারণের কাছে কি ততটা আনন্দের? হ্যাঁ সাধারণের কাছে তখনই আনন্দের যখন সার্বজনীনভাবে এই ফিরে আসাটি যদি অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। যেমন- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে ফিরে আসার ঘটনা ছিল জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা।

ট্যাগ :

গজারিয়ায় ফিলিং স্টেশন, খাদ্যগুদাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি কামরুজ্জামান রতন

গণমানুষের নেত্রী হয়েই ফিরেছিলেন তিনি

প্রকাশিত : ১২:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ মে ২০২১

১৭ মে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নিজ দেশে ফিরে আসার দিন। ১৯৮১ সালের এই দিনেই তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন একটি স্বপ্নের বাংলাদেশের নির্মাতা হওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে।
নতুন প্রজন্মের অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে নিজভূমে তিনি আসবেন তাই তো স্বাভাবিক, এখানে আবার ফিরে আসার কথা আসে কেন? সে কারণে এই প্রশ্নের উত্তর ছোট করে হলেও টানতে হয়- সপরিবারে পিতার মৃত্যুর পর প্রবাসজীবন বাধ্যতামূলক হয়ে যায় শেখ হাসিনার জন্য। একদিকে দেশে আসতে না পারা- অন্যদিকে জীবনের প্রতি হুমকি। সব মিলিয়ে দুঃষহ জীবনের মধ্যে বেঁচে থাকা। এরই মধ্যে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই দায়িত্বভার গ্রহণ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জীবন নিয়ে সব শঙ্কাকে তুচ্ছ করে নিজ দেশে তিনি ফিরে আসেন। ু
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার সংবাদ পরদিন (১৮ মে, ১৯৮১) ঢাকার বিভিন্ন সংবাদপত্রে গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়। তৎকালীন দেশসেরা পত্রিকা ‘দৈনিক সংবাদ’ তাদের রিপোর্টে এভাবে ঐদিনের ঘটনাটি ব্যাখ্যা দিয়েছে, ‘রাজধানী ঢাকা গতকাল ১৭ মে মিছিলের শহরে পরিণত হয়েছিল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মিছিল। শুধু মিছিল আর মিছিল। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিও মিছিলের গতিরোধ করতে পারেনি। স্লোগানেও ভাটা পড়েনি। লাখো কণ্ঠের স্লোগান নগরীকে প্রকম্পিত করেছে। গতকালের ঢাকা ন’বছর আগের কথাই বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশে এসেছিলেন, সেদিন স্বজন হারাবার ব্যথা ভুলে গিয়েও লাখ লাখ জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিল নেতাকে একনজর দেখার জন্য। গতকালও হয়েছে তাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনাকে একনজর দেখার জন্য ঢাকায় মানুষের ঢল নেমেছিল। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। ফার্মগেট থেকে কুর্মিটোলা বিমানবন্দর পর্যন্ত ট্রাফিক বন্ধ ছিল প্রায় ছ’ঘণ্টা।’
দলের একজন কর্মীর কাছে তার দলের নেতা ফিরে আসাটা সত্যি আনন্দের; কিন্তু একজন সাধারণের কাছে কি ততটা আনন্দের? হ্যাঁ সাধারণের কাছে তখনই আনন্দের যখন সার্বজনীনভাবে এই ফিরে আসাটি যদি অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। যেমন- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে ফিরে আসার ঘটনা ছিল জাতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা।