০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আসিয়ানের সম্পৃক্ততা চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারের পট পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো উদ্বিগ্ন। গণতন্ত্র এবং অং সান সুচির মুক্তির বিষয়টি এখন বেশি প্রাধান্য পাওয়ার কারণে রোহিঙ্গা বিষয়টি পেছনে পড়ে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক দেশগুলোর জোট-আসিয়ানকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করে বাংলাদেশ। আসিয়ান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসিয়ানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, সমস্যা সমাধানে তাদের আরও দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে।’মোমেন বলেন, ‘সম্প্রতি মিয়ানমার জান্তা আসিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং সেখানে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটার পরবর্তী পদক্ষেপ আমরা দেখতে চাই, বিশেষ করে প্রত্যাবাসন বিষয়ে।’পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আসিয়ান সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিয়ানমারের বিষয়ে বিশেষ দূত নিয়োগের। এই দূত নিয়োগ করা হলে তার সঙ্গে আমরাও কাজ করতে চাই।’তিনি বলেন, ‘আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের যে রাষ্ট্রদূতরা রয়েছেন তাদের আমরা এ বিষয়ে কাজে লাগাতে চাই। যাতে করে যেসব দেশ এ নিয়ে কাজ করছে, তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন।’ এ ক্ষেত্রে আসিয়ানের মানবিক সহায়তা সংস্থা-আহা সেন্টার ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিষয়ে মোমেন বলেন, ‘আমাদের অরিজিনাল পরিকল্পনা হচ্ছে, আসিয়ান প্লাস প্লাস অর্থাৎ সমস্যা সমাধানে আসিয়ান নেতৃত্ব দিলো এবং অন্য যেসব দেশ এবং জাতিসংঘের সংস্থা থাকতে চায় তারা থাকলো।’ প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এবং রোহিঙ্গাদের ভিতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি করার জন্য তারা কাজ করতে পারে বলে তিনি জানান। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মিয়ানমারকে প্রস্তাব দিয়েছে গ্রামভিত্তিক ব্যবস্থা অর্থাৎ একটি গ্রামের যত রোহিঙ্গা আছে তাদের চিহ্নিত করে একসঙ্গে ফেরত পাঠানোর। এই ব্যবস্থায় তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং তারা যেতে আগ্রহী হবে।’আসিয়ানের এই নেতৃত্ব বেসামরিক হবে এবং তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য সেবা খাতে নিয়োজিত হতে পারে বলে তিনি জানান। মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে মোমেন বলেন, ‘ওই দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং আমাদের রাষ্ট্রদূতরা সেখানে যোগাযোগ রাখছে।’তিনি বলেন, ‘যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু ফর্মাল সেটিংয়ে তাদের মধ্যে বসার আগ্রহ দেখছি না। তারা বলেছে, যেসব দ্বিপক্ষীয় কমিটিগুলো আছে, সেগুলো রিকনস্টিটিউট করতে হবে।’ তবে তাদের যদি আগ্রহ থাকে আমরা যেকোনও সময় বসতে রাজি বলে তিনি জানান। বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় রোহিঙ্গা বিষয়ে আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কাউন্সিল বা জাতিসংঘ বা অন্য যেকোনও জায়গায় আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। তবে মিয়ানমারের পট পরিবর্তনের কারণে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ একটু কম আছে।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আসিয়ানের সম্পৃক্ততা চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ১২:০১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

মিয়ানমারের পট পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো উদ্বিগ্ন। গণতন্ত্র এবং অং সান সুচির মুক্তির বিষয়টি এখন বেশি প্রাধান্য পাওয়ার কারণে রোহিঙ্গা বিষয়টি পেছনে পড়ে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক দেশগুলোর জোট-আসিয়ানকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করে বাংলাদেশ। আসিয়ান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসিয়ানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, সমস্যা সমাধানে তাদের আরও দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে।’মোমেন বলেন, ‘সম্প্রতি মিয়ানমার জান্তা আসিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং সেখানে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটার পরবর্তী পদক্ষেপ আমরা দেখতে চাই, বিশেষ করে প্রত্যাবাসন বিষয়ে।’পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আসিয়ান সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিয়ানমারের বিষয়ে বিশেষ দূত নিয়োগের। এই দূত নিয়োগ করা হলে তার সঙ্গে আমরাও কাজ করতে চাই।’তিনি বলেন, ‘আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের যে রাষ্ট্রদূতরা রয়েছেন তাদের আমরা এ বিষয়ে কাজে লাগাতে চাই। যাতে করে যেসব দেশ এ নিয়ে কাজ করছে, তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন।’ এ ক্ষেত্রে আসিয়ানের মানবিক সহায়তা সংস্থা-আহা সেন্টার ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিষয়ে মোমেন বলেন, ‘আমাদের অরিজিনাল পরিকল্পনা হচ্ছে, আসিয়ান প্লাস প্লাস অর্থাৎ সমস্যা সমাধানে আসিয়ান নেতৃত্ব দিলো এবং অন্য যেসব দেশ এবং জাতিসংঘের সংস্থা থাকতে চায় তারা থাকলো।’ প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এবং রোহিঙ্গাদের ভিতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি করার জন্য তারা কাজ করতে পারে বলে তিনি জানান। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মিয়ানমারকে প্রস্তাব দিয়েছে গ্রামভিত্তিক ব্যবস্থা অর্থাৎ একটি গ্রামের যত রোহিঙ্গা আছে তাদের চিহ্নিত করে একসঙ্গে ফেরত পাঠানোর। এই ব্যবস্থায় তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং তারা যেতে আগ্রহী হবে।’আসিয়ানের এই নেতৃত্ব বেসামরিক হবে এবং তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য সেবা খাতে নিয়োজিত হতে পারে বলে তিনি জানান। মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে মোমেন বলেন, ‘ওই দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং আমাদের রাষ্ট্রদূতরা সেখানে যোগাযোগ রাখছে।’তিনি বলেন, ‘যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু ফর্মাল সেটিংয়ে তাদের মধ্যে বসার আগ্রহ দেখছি না। তারা বলেছে, যেসব দ্বিপক্ষীয় কমিটিগুলো আছে, সেগুলো রিকনস্টিটিউট করতে হবে।’ তবে তাদের যদি আগ্রহ থাকে আমরা যেকোনও সময় বসতে রাজি বলে তিনি জানান। বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় রোহিঙ্গা বিষয়ে আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কাউন্সিল বা জাতিসংঘ বা অন্য যেকোনও জায়গায় আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। তবে মিয়ানমারের পট পরিবর্তনের কারণে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ একটু কম আছে।’