০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

এসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন: ড. আতিউর

করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এসএমই খাতের জন্য সরকারের নীতি সহায়তায় আরও অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। এসএমই ফাউন্ডেশন এবং এফইএস বাংলাদেশ আয়োজিত ‘দি ফিউচার অব এসএমইএস আফটার দি করোনা ক্রাইসিস: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচিউনিটিস’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ছিলেন ড. আতিউর রহমান। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ, অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী এবং ইউএনডিপি’র কান্ট্রি ইকোনোমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান।

এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘দি ফিউচার অব এসএমইএস আফটার দি করোনা ক্রাইসিস: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচিউনিটিস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫ ভাগ। এই খাতের অবকাঠামো ও ক্লাস্টার উন্নয়নে ‘এসএমই নীতিমালা ২০১৯’ সরকারের একটি কার্যকর উদ্যোগ।

সেই সঙ্গে এসএমই পণ্যের বাজার সংযোগের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে এই নীতিমালায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব ৬৬% কমেছে, ৭৬% পণ্য অবিক্রিত রয়ে গেছে। এই খাতের ৪২% কর্মী আংশিক বেতন পেয়েছেন, ৪% কর্মী বেতনই পাননি।’ এমন পরিস্থিতিতে এসএমই খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই খাতের জন্য আরও অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ভারত এসএমই খাতের জন্য মোট প্রণোদনা প্যাকেজের ৩৮%, থাইল্যান্ড ৩৩%, মালয়েশিয়া ২৪ ভাগ বরাদ্দ করলেও বাংলাদেশের বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র ২২%।’ তাই এ তিনি এসএমই খাতের জন্য সরকারের প্রণোদনার পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত। কোভিড-১৯ এর কারণে এই খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ইতোমধ্যে এসএমই খাতকে প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তা দিয়েছে।’ সেই ধারাবাহিকতায় এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় গত অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকার মতো, চলতি অর্থবছরেও ২০০ কোটি টাকা বিতরণে এসএমই ফাউন্ডেশন সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রণোদনার অংশ হিসেবে মাত্র ৯৫ হাজার এসএমই উদ্যোক্তার মাঝে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুসারেই দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৮ লাখের বেশি। তাই দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর তা বাতিল, হস্তান্তর কিংবা ভাগাভাগি সম্ভব নয়

এসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন: ড. আতিউর

প্রকাশিত : ১২:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এসএমই খাতের জন্য সরকারের নীতি সহায়তায় আরও অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। এসএমই ফাউন্ডেশন এবং এফইএস বাংলাদেশ আয়োজিত ‘দি ফিউচার অব এসএমইএস আফটার দি করোনা ক্রাইসিস: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচিউনিটিস’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ছিলেন ড. আতিউর রহমান। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ, অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী এবং ইউএনডিপি’র কান্ট্রি ইকোনোমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান।

এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘দি ফিউচার অব এসএমইএস আফটার দি করোনা ক্রাইসিস: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচিউনিটিস’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫ ভাগ। এই খাতের অবকাঠামো ও ক্লাস্টার উন্নয়নে ‘এসএমই নীতিমালা ২০১৯’ সরকারের একটি কার্যকর উদ্যোগ।

সেই সঙ্গে এসএমই পণ্যের বাজার সংযোগের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে এই নীতিমালায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব ৬৬% কমেছে, ৭৬% পণ্য অবিক্রিত রয়ে গেছে। এই খাতের ৪২% কর্মী আংশিক বেতন পেয়েছেন, ৪% কর্মী বেতনই পাননি।’ এমন পরিস্থিতিতে এসএমই খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই খাতের জন্য আরও অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ভারত এসএমই খাতের জন্য মোট প্রণোদনা প্যাকেজের ৩৮%, থাইল্যান্ড ৩৩%, মালয়েশিয়া ২৪ ভাগ বরাদ্দ করলেও বাংলাদেশের বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র ২২%।’ তাই এ তিনি এসএমই খাতের জন্য সরকারের প্রণোদনার পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত। কোভিড-১৯ এর কারণে এই খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ইতোমধ্যে এসএমই খাতকে প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তা দিয়েছে।’ সেই ধারাবাহিকতায় এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় গত অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকার মতো, চলতি অর্থবছরেও ২০০ কোটি টাকা বিতরণে এসএমই ফাউন্ডেশন সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রণোদনার অংশ হিসেবে মাত্র ৯৫ হাজার এসএমই উদ্যোক্তার মাঝে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুসারেই দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৮ লাখের বেশি। তাই দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’