দেশে একদিনে নতুন করে ২৪২ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ১৮৫ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন। একইসঙ্গে একদিনে নতুন করে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীই রাজধানীর বাসিন্দা।
এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬১ জন। রোববার বিকেলে সারাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একদিনে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন ২৪২ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৩ জনে। ঢাকার ৪৫টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮১৪ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২২৯ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে সর্বমোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৩৫৭ জন।
তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৬ হাজার ২৫৩ জন রোগী। ডেঙ্গুতে এ সময়ে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত জানুয়ারিতে ৩২ জনের দেহে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বছর শুরু হয়। জুনে এটা ১৭২ জনে দাঁড়ায়। জুলাই মাসে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ২৮৬ জনে। সব মিলিয়ে এ বছরের প্রথম সাত মাসে মোট ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৬৫৮ জনে।
জুলাই থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। আগস্টে এসে চিত্রটি উদ্বেগজনক হয়ে পড়ে। ওই মাসটিতে ডেঙ্গু রোগী দাঁড়ায় সাত হাজার ৬৯৮ জনে। এদিকে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাত হাজার ১ জন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, বছরের প্রথম সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হলেও পরের এক মাসেই (আগস্ট) ৩৩ জনের মৃত্যু হয়।
এমনকি সেপ্টেম্বরের এই পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সবমিলিয়ে ডেঙ্গুতে চলতি বছর ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সেই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মারা যান ১৪৮ জন।
ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০০২ সালে, সেবার ৫৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ ছাড়া ২০০১ সালে ৪৪ জন মারা যান। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।




















