০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

অভিনেতা ড. ইনামুল হক মারা গেছেন

ড. ইনামুল হক

অভিনেতা ডঃ ইনামুল হক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেয়ে জামাই লিটু আনাম। মৃত্যুকালের তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। আকস্মিকভাবে সোমবার দুপুরে মারা যান বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

লিটু আনাম বলেন, কোনো ধরনের অসুস্থতা ছিলো না তার। তিনি বাসায় চেয়ারে বসা অবস্থাতেই মারা গেছেন। দাফনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদরের মটবী এলাকায় জন্ম হয় তার। বাবার নাম ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। ড. ইনামুল হকের পুরো পরিবারই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তার দাম্পত্য সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক (স্বামী লিটু আনাম) আর প্রৈতি হক (স্বামী সাজু খাদেম)। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই জন্মদিন কাটছে তার।

ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেনন ড. ইনামুল হক।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নটরডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন।

ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. ইনামুল হক। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ নাটকে।

এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। বর্তমানে দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুণী এই নাট্যজন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

অর্থনীতিতে নোবেল জয় করলেন রবার্ট হল, মাইকেল উডফোর্ট

অভিনেতা ড. ইনামুল হক মারা গেছেন

প্রকাশিত : ০৪:৪৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১

অভিনেতা ডঃ ইনামুল হক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেয়ে জামাই লিটু আনাম। মৃত্যুকালের তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। আকস্মিকভাবে সোমবার দুপুরে মারা যান বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

লিটু আনাম বলেন, কোনো ধরনের অসুস্থতা ছিলো না তার। তিনি বাসায় চেয়ারে বসা অবস্থাতেই মারা গেছেন। দাফনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদরের মটবী এলাকায় জন্ম হয় তার। বাবার নাম ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। ড. ইনামুল হকের পুরো পরিবারই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তার দাম্পত্য সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক (স্বামী লিটু আনাম) আর প্রৈতি হক (স্বামী সাজু খাদেম)। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই জন্মদিন কাটছে তার।

ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেনন ড. ইনামুল হক।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নটরডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন।

ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. ইনামুল হক। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ নাটকে।

এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। বর্তমানে দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুণী এই নাট্যজন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ