সিরাজগঞ্জে এবার সরিষার চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের কৃষকের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। এ জেলার মাঠে মাঠে এখন সরিষা ফুলের হলুদের সমারোহ। প্রেমিক প্রেমিকারা এ সরিষার ফুলে মুগ্ন হয়ে ক্যামেরাবন্দী করেও রাখছে। আর এ ফুলের বাগানে মধু চাষীরা মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৫৪ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ করেছে কৃষকেরা। সরিষার মধ্যে রয়েছে, বারি ০৯, ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, বিনা ০৯, টোরি ০৭ ও স্থানীয় সরিষা। এরমধ্যে বারি ০৯ ও ১৪ বেশি চাষাবাদ করেছে কৃষকেরা। তবে এ জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, বেলকুচি ও কামারখন্দ উপজেলার কৃষকেরা এ সরিষা চাষাবাদ বেশি করেছে।
স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকেরা এ লাভজনক সরিষা চাষাবাদ করেছে। এবার সরিষা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার ২১৫ মেঃ টন। ইতিমধ্যেই মাঠে মাঠে সরিষার এ ফুলের বাগান ফুটেছে। এ বাগানের হলুদের সমারোহে মৌমাছির গুঞ্জন ও প্রকৃতি হাসিমুখে নতুন সাজে সেজেছে। বিশেষ করে পরন্ত বেলায় প্রেমিক প্রেমিকারা এ হলুদের দৃশ্য দেখতে মাঠে মাঠে আসছে এবং নানা দৃষ্টি ভঙ্গিতে ছবিও উঠছে। এ সরিষা ফুলের মুঠো ধরে প্রেম শপথও নিচ্ছে অনেক প্রেমিক প্রেমিকা।
এদিকে সরিষা ফুলের কলি ফোটার প্রায় মুহূর্তেই জেলার বিভিন্ন স্থানে সরিষা ক্ষেত বাগানে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছে মধুু চাষীরা। ইতিমধ্যেই সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও অনান্য স্থান থেকে আসা মধু সংগ্রহকারীরা হাজার হাজার বাক্স বসিয়ে এ মধূ সংগ্রহ শুরু করেছে। তাড়াশ, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ ও রায়গঞ্জে বেশি মধূ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হানিফ বলেন, আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে এবার সরিষা চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। মাঠে মাঠে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২২০ মেঃ টন এবং যার মূল্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। ৪/৫ সপ্তাহের মধ্যেই কৃষকেরা এ সরিষা মাড়াই করে ঘরে তুলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

























