০৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

হালদার উজানে চলছে অবাধে তামাক চাষ!

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র “হালদা নদীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও হালদা উৎসের পোনার বাজার সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির হালদা পাড়ে তামাক চাষীর বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে সরকারী ও বেসরকারী প্রণোদনা চলমান থাকা স্বত্তেও একটি সংঘবদ্ধ চক্র তামাক চাষ অব্যাহত রাখায় নদীর পানি ও পরিবেশ দূর্ষিত হচ্ছে! ভেস্তে যাচ্ছে সরকারী সহযোগিতা ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)’র প্রকল্প।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এশিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী “বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ” হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে নদীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও হালদা উৎসের পোনার বাজার সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নদীর উজানস্থলে তামাক চাষ বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে সরকারী ও বেসরকারী প্রণোদনায় প্রান্তিক কৃষকদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি সরকারের গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় কাজ করছেন ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)।

২০১৮ সাল থেকে হালদার উজান উপজেলার,যোগ্যাছোলা,আচারতলী, বাটনাতলী, গোরখানা, ছদুরখীল এলাকায় তামাক চাষীদের বিকল্প জীবিকায়ন সৃষ্টির লক্ষে কৃষকে প্রশিক্ষণ শেষে মওসুমী সবজি বীজ, মাছের পোনা, মুরগীর বাচ্চা, উন্নত প্রজাতির পেঁপে, আম, কাঁঠাল, শরিফাসহ বিদেশি ফল রামবুটান ও ড্রাগনে চারা বিতরণ করে আসছে সংস্থাটি।

তারপরও একটি মহল ওই এলাকায় গত দু’ বছর ছোট ছোট পরিসরে তামাক চাষ করলেও এই বছর প্রায় ৮০ একর জমিতে বৃট্রিশ ট্যোবাকো’র অর্থায়নে তামাক চাষ করেছেন গোরখানার মো. কামাল হোসেন, মাসুম মিয়া, নাছির উদ্দিন, এরশাদ মিয়া আবদুল মালেক, গিয়াস উদ্দিনসহ অন্তত ১০জন কৃষক! এ প্রসঙ্গে হালদা প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও আইডিএফ’র মৎস কর্মকর্তা মো.মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামের হালদা নদী এশিয়া মহাদেশের একমাত্র মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র । এই ঐতিহ্য রক্ষা এবং গুরুত্ব নিয়ে মৎস্য গবেষকদের দীর্ঘ দিনে গবেষণার ফলে হালদা নদী জাতীয় ঐতিহ্য ‘বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর নদীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও হালদা উৎসের পোনার বাজার সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নদীর উজান স্থলে তামাক চাষীর বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে সরকারী ও বেসরকারী প্রণোদনার অংশ হিসেবে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি সরকারের গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় কাজ করছেন ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)। কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারী ও বেসরকারী এত প্রণোদনা গ্রহণের সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেও একটি মহল আমাদের প্রকল্পের আওতায় না এসে দাপটে নদীর চর বা তৎসংলগ্ন চরে অবাধে তামাক চাষ করছে। তামাকের চুলা ও গাছের নিগৃত রস নদীতে পড়ে মাছের বিষম ক্ষতি হচ্ছে! অচিরেই এ অঞ্চলে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করে আইন প্রণোনয়ন সময়ের দাবী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাসিনুর রহমান বলেন, হালদা নদীর উজানে তামাক চাষ নিরুসাহিত করতে কৃষি বিভাগ ওই অঞ্চলের কৃষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারী প্রণোদণা দেওয়া হয়। তারপরও অতি লোভী কিছু লোক দাপট দেখিয়ে তামাক চাষ চালিয়ে যাচ্ছে! এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না মাহমুদ বলেন, তামাক চাষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের ফিরিয়ে এনে বিকল্প চাষাবাদে সম্পৃক্ত করতে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে কাজ চলছে। প্রণোদনায় বিকল্প হিসেবে সবজি চাষসহ কৃষি উৎপাদনে কৃষককে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এখনো যারা তামাক চাষ করছে,তাঁদের বিকল্প চাষাবাদে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। তামাক চাষি মো.মাসুম বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে বৃট্রিশ টোবাকো থেকে বীজ ও অগ্রিম টাকা নিয়ে তামাক চাষ করে লাভবান হচ্ছি! এখানে সবজি চাষ করে যথা সময়ে বাজারজাত করা যায় কঠিন। ফলে এ বছর আমি প্রায় ২শ কানি তামাক চাষ করেছি। তামাকের পাতা চুলায় শুকানো হলে কোম্পানীর সহযোগিতায় তা বৃট্রিশ ট্যোবাকোর ফ্যাক্টরী সীতাকুন্ডে পাঠানো হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

হালদার উজানে চলছে অবাধে তামাক চাষ!

প্রকাশিত : ০৪:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র “হালদা নদীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও হালদা উৎসের পোনার বাজার সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির হালদা পাড়ে তামাক চাষীর বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে সরকারী ও বেসরকারী প্রণোদনা চলমান থাকা স্বত্তেও একটি সংঘবদ্ধ চক্র তামাক চাষ অব্যাহত রাখায় নদীর পানি ও পরিবেশ দূর্ষিত হচ্ছে! ভেস্তে যাচ্ছে সরকারী সহযোগিতা ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)’র প্রকল্প।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এশিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী “বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ” হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে নদীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও হালদা উৎসের পোনার বাজার সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নদীর উজানস্থলে তামাক চাষ বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে সরকারী ও বেসরকারী প্রণোদনায় প্রান্তিক কৃষকদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি সরকারের গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় কাজ করছেন ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)।

২০১৮ সাল থেকে হালদার উজান উপজেলার,যোগ্যাছোলা,আচারতলী, বাটনাতলী, গোরখানা, ছদুরখীল এলাকায় তামাক চাষীদের বিকল্প জীবিকায়ন সৃষ্টির লক্ষে কৃষকে প্রশিক্ষণ শেষে মওসুমী সবজি বীজ, মাছের পোনা, মুরগীর বাচ্চা, উন্নত প্রজাতির পেঁপে, আম, কাঁঠাল, শরিফাসহ বিদেশি ফল রামবুটান ও ড্রাগনে চারা বিতরণ করে আসছে সংস্থাটি।

তারপরও একটি মহল ওই এলাকায় গত দু’ বছর ছোট ছোট পরিসরে তামাক চাষ করলেও এই বছর প্রায় ৮০ একর জমিতে বৃট্রিশ ট্যোবাকো’র অর্থায়নে তামাক চাষ করেছেন গোরখানার মো. কামাল হোসেন, মাসুম মিয়া, নাছির উদ্দিন, এরশাদ মিয়া আবদুল মালেক, গিয়াস উদ্দিনসহ অন্তত ১০জন কৃষক! এ প্রসঙ্গে হালদা প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও আইডিএফ’র মৎস কর্মকর্তা মো.মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামের হালদা নদী এশিয়া মহাদেশের একমাত্র মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র । এই ঐতিহ্য রক্ষা এবং গুরুত্ব নিয়ে মৎস্য গবেষকদের দীর্ঘ দিনে গবেষণার ফলে হালদা নদী জাতীয় ঐতিহ্য ‘বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর নদীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও হালদা উৎসের পোনার বাজার সম্প্রসারণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নদীর উজান স্থলে তামাক চাষীর বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে সরকারী ও বেসরকারী প্রণোদনার অংশ হিসেবে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি সরকারের গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় কাজ করছেন ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)। কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারী ও বেসরকারী এত প্রণোদনা গ্রহণের সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেও একটি মহল আমাদের প্রকল্পের আওতায় না এসে দাপটে নদীর চর বা তৎসংলগ্ন চরে অবাধে তামাক চাষ করছে। তামাকের চুলা ও গাছের নিগৃত রস নদীতে পড়ে মাছের বিষম ক্ষতি হচ্ছে! অচিরেই এ অঞ্চলে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করে আইন প্রণোনয়ন সময়ের দাবী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাসিনুর রহমান বলেন, হালদা নদীর উজানে তামাক চাষ নিরুসাহিত করতে কৃষি বিভাগ ওই অঞ্চলের কৃষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারী প্রণোদণা দেওয়া হয়। তারপরও অতি লোভী কিছু লোক দাপট দেখিয়ে তামাক চাষ চালিয়ে যাচ্ছে! এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না মাহমুদ বলেন, তামাক চাষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের ফিরিয়ে এনে বিকল্প চাষাবাদে সম্পৃক্ত করতে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে কাজ চলছে। প্রণোদনায় বিকল্প হিসেবে সবজি চাষসহ কৃষি উৎপাদনে কৃষককে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এখনো যারা তামাক চাষ করছে,তাঁদের বিকল্প চাষাবাদে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। তামাক চাষি মো.মাসুম বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে বৃট্রিশ টোবাকো থেকে বীজ ও অগ্রিম টাকা নিয়ে তামাক চাষ করে লাভবান হচ্ছি! এখানে সবজি চাষ করে যথা সময়ে বাজারজাত করা যায় কঠিন। ফলে এ বছর আমি প্রায় ২শ কানি তামাক চাষ করেছি। তামাকের পাতা চুলায় শুকানো হলে কোম্পানীর সহযোগিতায় তা বৃট্রিশ ট্যোবাকোর ফ্যাক্টরী সীতাকুন্ডে পাঠানো হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর