সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে ।সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ভর্তির প্রলোভন দিয়ে যাচ্ছে একটি অসাধু চক্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির বিষয়ে ভুয়া তথ্য সরবরাহ করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
“brur চান্স ১০০% করে দিব” নামের গ্রুপ থেকে একটি বার্তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শেয়ার করা হয়। ওই বার্তায় বলা হয়, যারা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি, তাদের চান্স পেয়ে দেব। এতে খরচ হবে ২০ হাজার টাকা। অগ্রিম পেমেন্ট করতে হবে ৮৫০ টাকা। একই গ্রুপ থেকে আরেকটি বার্তা শেয়ার করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, “যারা রেজাল্ট চেঞ্জ করার জন্য ৮৫০ টাকা দিয়েছেন তাদের রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে। বিকেল ৫টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে রেজাল্ট পাবেন। বাকি টাকা ভর্তির পর দেবেন।”
সিআইডি সাইবার টিম এব্যাপরে তৎপর হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। অনুসন্ধান চালানো হয় বেশ কয়েকদিন। অবশেষে প্রতারক চক্রের মূলহোতা’কে সনাক্ত করেন সিআইডি। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতি সঙ্গেও যুক্ত। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসএ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতো।
সিআইডি সাইবার টীমের ১৭ জানুয়ারী ২২ ইং তারিখে নড়াইল জেলার লোহাগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূল হোতা মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জানা যায়, সে ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে। প্রতারক চক্র মূলত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুদের সাথে যোগাযোগ করত। তাদের দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইয়ে দেওয়ার জন্য আশ্বস্ত করা হতো এবং নিবন্ধনের টাকা দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হতো।বিশ্ববিদ্যালয়রে ভর্তির রেজাল্টের পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বন্ধ করে দেওয়া হতো ।সাথে এডমিন নম্বর এবং বিকাশ নম্বরও বন্ধ করে দিতো এই প্রতারক ।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

























