০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

পাঁঠাকাটা-আয়াপুর খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

নওগাঁর মান্দা-মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার “পাঁঠাকাটা- আয়াপুর” খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার বিপ্লব কুমার হাওলাদারের বিরুদ্ধে। বিগত বছরে জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে ঘাট ইজারাদার নির্মল কুমার হাওলাদার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় দুই উপজেলার বাসিন্দাসহ পাঁঠাকাটা বাজার ব্যবসায়িদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘাটে নদী পারাপারে ঘাট ইজারা নিয়ে বেশকিছুদিন থেকে পাঁঠাকাটা গ্রামের ইজারাদার বিপ্লব কুমার হাওলাদারের বড়ভাই নির্মল কুমার হাওলাদার এবং চকশ্রীকৃষ্ণ গ্রামের আতিকুর রহমান গ্রæপের মধ্যে ঘাট ইজারার অঙ্গীকারনামা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে উভয় পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংঘাত এড়াতে ভালাইন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম ও বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার উপস্থিতিতে ঘাটের একটি নৌকা তাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। কিন্ত আতিকুর রহমান গ্রæপের লোকজনকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করছেন ওই এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, মান্দা এবং মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার এপার-ওপার চলাচলের জন্য প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেয়া ঘাটে ২০২২ সালেও বিভিন্ন অযুহাতে যাত্রী সাধারণ এর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। নৌকায় চড়ে আত্রাই নদী পারাপারে জনপ্রতি ১০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিদিন এই খেয়া ঘাট দিয়ে নৌকা যোগে দৈনিক ২০ হাজার যাত্রী সাধারণ পারাপার হয়। তাদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাসহ স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে থাকে এবং পাঁঠাকাটা বাজারে কৃষকরা তাদের বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে হয় কেনা বেচা করতে। এছাড়াও নৌকা যোগে অনেক সময় পণ্যের ব্যাগসহ ছোট খাটো বস্তা প্রতি অধিক টাকা দিতে হয় ঘাট কর্তৃপক্ষকে।

এ ব্যাপারে অসংখ্য কৃষক বলেন,আমরা পাঁঠাকাটা বাজারে ১০ টাকার কিছু বিক্রি করতে গেলে সেখানেও ইজারা দিতে হয়। একটি সূত্রে জানা যায় ঘাট কর্তৃপক্ষ অবৈধ ভাবে পেশী শক্তি ব্যবহার করে সাধারণ জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোকা দিয়ে হাতিয়ে নিতো কোটি কোটি টাকা।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নজরে আসায় ইজারা নবায়ন করার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ এবং ভাড়ার তালিকা ঘাটে টাঙ্গানোর নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি নতুন বছরে মাইকিং করে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত রেটে নদী পারাপারের ভাড়া দেয়ার জন্য যাত্রী সাধারণকে আহবান জানানো হচ্ছে।

কিন্তু কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পূনরায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় শুরু করেন নতুন ইজারাদার বিপ্লব কুমার হাওলাদার। তার দাবি যে, অন্যান্য ঘাটে যেভাবে ভাড়া আদায় করছেন, তিনিও সেভাবে আদায় করছেন।সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কোন ভাড়া নেয়া হচ্ছে না।

এমতাবস্থায় পাঁঠাকাটা- আয়াপুর খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা ।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি অবগত নয়। তবে,এ বিষয় জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তারা প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাঁঠাকাটা-আয়াপুর খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৭:২৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২

নওগাঁর মান্দা-মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার “পাঁঠাকাটা- আয়াপুর” খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার বিপ্লব কুমার হাওলাদারের বিরুদ্ধে। বিগত বছরে জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে ঘাট ইজারাদার নির্মল কুমার হাওলাদার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় দুই উপজেলার বাসিন্দাসহ পাঁঠাকাটা বাজার ব্যবসায়িদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘাটে নদী পারাপারে ঘাট ইজারা নিয়ে বেশকিছুদিন থেকে পাঁঠাকাটা গ্রামের ইজারাদার বিপ্লব কুমার হাওলাদারের বড়ভাই নির্মল কুমার হাওলাদার এবং চকশ্রীকৃষ্ণ গ্রামের আতিকুর রহমান গ্রæপের মধ্যে ঘাট ইজারার অঙ্গীকারনামা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে উভয় পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংঘাত এড়াতে ভালাইন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম ও বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার উপস্থিতিতে ঘাটের একটি নৌকা তাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। কিন্ত আতিকুর রহমান গ্রæপের লোকজনকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করছেন ওই এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, মান্দা এবং মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার এপার-ওপার চলাচলের জন্য প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেয়া ঘাটে ২০২২ সালেও বিভিন্ন অযুহাতে যাত্রী সাধারণ এর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। নৌকায় চড়ে আত্রাই নদী পারাপারে জনপ্রতি ১০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিদিন এই খেয়া ঘাট দিয়ে নৌকা যোগে দৈনিক ২০ হাজার যাত্রী সাধারণ পারাপার হয়। তাদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাসহ স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে থাকে এবং পাঁঠাকাটা বাজারে কৃষকরা তাদের বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে হয় কেনা বেচা করতে। এছাড়াও নৌকা যোগে অনেক সময় পণ্যের ব্যাগসহ ছোট খাটো বস্তা প্রতি অধিক টাকা দিতে হয় ঘাট কর্তৃপক্ষকে।

এ ব্যাপারে অসংখ্য কৃষক বলেন,আমরা পাঁঠাকাটা বাজারে ১০ টাকার কিছু বিক্রি করতে গেলে সেখানেও ইজারা দিতে হয়। একটি সূত্রে জানা যায় ঘাট কর্তৃপক্ষ অবৈধ ভাবে পেশী শক্তি ব্যবহার করে সাধারণ জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোকা দিয়ে হাতিয়ে নিতো কোটি কোটি টাকা।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নজরে আসায় ইজারা নবায়ন করার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ এবং ভাড়ার তালিকা ঘাটে টাঙ্গানোর নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি নতুন বছরে মাইকিং করে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত রেটে নদী পারাপারের ভাড়া দেয়ার জন্য যাত্রী সাধারণকে আহবান জানানো হচ্ছে।

কিন্তু কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পূনরায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় শুরু করেন নতুন ইজারাদার বিপ্লব কুমার হাওলাদার। তার দাবি যে, অন্যান্য ঘাটে যেভাবে ভাড়া আদায় করছেন, তিনিও সেভাবে আদায় করছেন।সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কোন ভাড়া নেয়া হচ্ছে না।

এমতাবস্থায় পাঁঠাকাটা- আয়াপুর খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা ।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি অবগত নয়। তবে,এ বিষয় জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তারা প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর