০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

কুয়াকাটায় জলকেলি উৎসবে-আনন্দে মাতোয়ারা রাখাইন কিশোর-কিশোরীরা

কুয়াকাটায় রাখাইনদের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর ৩ টার দিকে শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেটে অনুষ্ঠিত হয় এ উৎসব। পুরোনো বছরের সব দু:খ-গøানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সাংগ্রাই বা নবর্ষের এ উৎসবের আয়োজন করে ‘অং হেলফ এন্ড এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’। মাঠের মধ্যে রাখা হয়েছে একটি সাজানো-গোছানো নৌকা। নৌকার মধ্যে রাখা হয়েছে পানি। আর এ পানি একে অপরের গায়ে মারছেন রাখাইন কিশোর কিশোরীরা। এসময় রাখাইন সংগীতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় রাখাইন নৃত্য। আর এ উৎসব দেখতে ভীড় জমায় ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। তাই এ উৎসব পরিনত হয় সার্বজনীন উৎসবে। করোনার দীর্ঘ দুই বছর পর এ উৎসবে অংশগ্রহন করতে পেরে রাখাইন পরিবারগুলোর মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এ উৎসবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিলো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এর আগে দুপুরের আগে শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ ¯œানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক, কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার আবুল খায়ের ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব। এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ‘অং হেলফ এন্ড এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের’ প্রেসিডেন্ড নিউ নিউ খেইন।

কুয়াকাটার রাখাইন পাড়ার বাসিন্দা মংখেলা এ প্রতিনিধিকে জানান, পটুয়াখালী এবং বরগুনার রাখাইন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেছে। ১৩৮৪ সালকে বরন করতেই আমরা আসলে এই সাংগ্রাইয়ের আয়োজন করেছি। আমরা খুবই আনন্দিত। কারন গত দুই বছর আমরা এ অনুষ্ঠান করতে পারিনি। রাখাইন নর-নারীরা এ উৎসবে আজ মেতে উঠেছে। আরেক বাসিন্দা উবাচু জানান, সাংগ্রাই উৎসবে অংশগ্রহন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেছি। পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেই আমরা এ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়েছি। এ সংগ্রাইয়ের শেষ পর্ব হচ্ছে মৈত্রীয় জলবর্ষন বা জলকেলি। মূলত এ জলকেলি অনুষ্ঠান ছিলো সবার আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু।

কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও অং হেলফ এন্ড এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ড নিউ নিউ খেইন সাংবাদিকদের জানায়, করোনার কারনে বিগত দুই বছর আমরা এ উৎসব করতে পারিনি। বিগত বছরের দু:খ দুর্দশা ভুলে নতুন করে পথ চলার জন্যই আমাদের এ আয়োজন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত হয়ে এ অনুষ্ঠানকে ধন্য করেছে। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। মূলত: জলকেলি উপভোগ করতে সকল শ্রেনীর পেশার মানুষ এ উৎসবে মিলিত হয়েছে। তাই জলকেলি এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুয়াকাটায় জলকেলি উৎসবে-আনন্দে মাতোয়ারা রাখাইন কিশোর-কিশোরীরা

প্রকাশিত : ০৮:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২

কুয়াকাটায় রাখাইনদের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর ৩ টার দিকে শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেটে অনুষ্ঠিত হয় এ উৎসব। পুরোনো বছরের সব দু:খ-গøানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সাংগ্রাই বা নবর্ষের এ উৎসবের আয়োজন করে ‘অং হেলফ এন্ড এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’। মাঠের মধ্যে রাখা হয়েছে একটি সাজানো-গোছানো নৌকা। নৌকার মধ্যে রাখা হয়েছে পানি। আর এ পানি একে অপরের গায়ে মারছেন রাখাইন কিশোর কিশোরীরা। এসময় রাখাইন সংগীতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় রাখাইন নৃত্য। আর এ উৎসব দেখতে ভীড় জমায় ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। তাই এ উৎসব পরিনত হয় সার্বজনীন উৎসবে। করোনার দীর্ঘ দুই বছর পর এ উৎসবে অংশগ্রহন করতে পেরে রাখাইন পরিবারগুলোর মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এ উৎসবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিলো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এর আগে দুপুরের আগে শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ ¯œানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক, কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার আবুল খায়ের ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব। এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ‘অং হেলফ এন্ড এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের’ প্রেসিডেন্ড নিউ নিউ খেইন।

কুয়াকাটার রাখাইন পাড়ার বাসিন্দা মংখেলা এ প্রতিনিধিকে জানান, পটুয়াখালী এবং বরগুনার রাখাইন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেছে। ১৩৮৪ সালকে বরন করতেই আমরা আসলে এই সাংগ্রাইয়ের আয়োজন করেছি। আমরা খুবই আনন্দিত। কারন গত দুই বছর আমরা এ অনুষ্ঠান করতে পারিনি। রাখাইন নর-নারীরা এ উৎসবে আজ মেতে উঠেছে। আরেক বাসিন্দা উবাচু জানান, সাংগ্রাই উৎসবে অংশগ্রহন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেছি। পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেই আমরা এ অনুষ্ঠানে মিলিত হয়েছি। এ সংগ্রাইয়ের শেষ পর্ব হচ্ছে মৈত্রীয় জলবর্ষন বা জলকেলি। মূলত এ জলকেলি অনুষ্ঠান ছিলো সবার আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু।

কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও অং হেলফ এন্ড এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ড নিউ নিউ খেইন সাংবাদিকদের জানায়, করোনার কারনে বিগত দুই বছর আমরা এ উৎসব করতে পারিনি। বিগত বছরের দু:খ দুর্দশা ভুলে নতুন করে পথ চলার জন্যই আমাদের এ আয়োজন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত হয়ে এ অনুষ্ঠানকে ধন্য করেছে। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। মূলত: জলকেলি উপভোগ করতে সকল শ্রেনীর পেশার মানুষ এ উৎসবে মিলিত হয়েছে। তাই জলকেলি এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর