০৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

শিক্ষকের করা অপমান সইতে না পেরে ছাত্রীর আত্মহত্যা

ফেনীর দাগনভূঞায় মাদরাসা সুপারের ওপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের আমু ভূঞার হাট হাছানিয়া দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৪)। সে রাজাপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে। জানা গেছে, গত দু’দিন ধরে মাদরাসা সুপার মাওলানা বেলাল হোসেন ওই ছাত্রীর অভিভাবককে মাদরাসায় নিয়ে আসার জন্য বলে। তার বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকা ও মা অসুস্থ থাকায় কেউ যেতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই ছাত্রী মাদরাসায় গেলে মাদরাসা সুপার মাওলানা বেলাল, সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর ও গিয়াস উদ্দিন মিঞা অভিভাবক কেন নিয়ে আসে নাই, এ জন্য তাকে বকাঝকা করে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। ক্লাসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে এ অপমান সহ্য করতে না পেরে সে বাড়িতে চলে যায়। আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার নিজ ঘরে সে গলায় দঁড়িতে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর ও গিয়াস উদ্দিন মিঞাকে বারবার ফোন কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আমু ভূঞার হাট হাছানিয়া দাখিল মাদরাসা সুপার মাওলানা বেলাল হোসেন বলেন, ছাত্রীর বিষয়ে কিছু অভিযোগ রয়েছে, সে জন্য ওই ছাত্রীর অভিভাবককে নিয়ে আসার জন্য গত কয়েক দিন ধরে বলতেছি। কিন্তু কোনো অভিভাবকই আসেনি। আজ ক্লাসে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে তার মাকে মাদরাসায় আসার জন্য বললে তিনি তাকে বকাঝকা করেন। পরে আমি ও সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর ও গিয়াস উদ্দিন মিঞা তাকে বলি অভিভাবক নিয়ে না আসা পর্যন্ত ক্লাস করার দরকার নেই। তখন সে বাড়ি চলে যায়। তাকে কোনো বকা দেওয়া হয়নি।

দাগনভূঞা থানার ওসি মো. হাসান ইমাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে বলে ওসি জানান। অভিযুক্ত তিন জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা যায়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কালীগঞ্জে জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনায় কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

শিক্ষকের করা অপমান সইতে না পেরে ছাত্রীর আত্মহত্যা

প্রকাশিত : ০৫:১০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুন ২০২২

ফেনীর দাগনভূঞায় মাদরাসা সুপারের ওপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের আমু ভূঞার হাট হাছানিয়া দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৪)। সে রাজাপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে। জানা গেছে, গত দু’দিন ধরে মাদরাসা সুপার মাওলানা বেলাল হোসেন ওই ছাত্রীর অভিভাবককে মাদরাসায় নিয়ে আসার জন্য বলে। তার বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকা ও মা অসুস্থ থাকায় কেউ যেতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই ছাত্রী মাদরাসায় গেলে মাদরাসা সুপার মাওলানা বেলাল, সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর ও গিয়াস উদ্দিন মিঞা অভিভাবক কেন নিয়ে আসে নাই, এ জন্য তাকে বকাঝকা করে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। ক্লাসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে এ অপমান সহ্য করতে না পেরে সে বাড়িতে চলে যায়। আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার নিজ ঘরে সে গলায় দঁড়িতে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর ও গিয়াস উদ্দিন মিঞাকে বারবার ফোন কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আমু ভূঞার হাট হাছানিয়া দাখিল মাদরাসা সুপার মাওলানা বেলাল হোসেন বলেন, ছাত্রীর বিষয়ে কিছু অভিযোগ রয়েছে, সে জন্য ওই ছাত্রীর অভিভাবককে নিয়ে আসার জন্য গত কয়েক দিন ধরে বলতেছি। কিন্তু কোনো অভিভাবকই আসেনি। আজ ক্লাসে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে তার মাকে মাদরাসায় আসার জন্য বললে তিনি তাকে বকাঝকা করেন। পরে আমি ও সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর ও গিয়াস উদ্দিন মিঞা তাকে বলি অভিভাবক নিয়ে না আসা পর্যন্ত ক্লাস করার দরকার নেই। তখন সে বাড়ি চলে যায়। তাকে কোনো বকা দেওয়া হয়নি।

দাগনভূঞা থানার ওসি মো. হাসান ইমাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে বলে ওসি জানান। অভিযুক্ত তিন জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা যায়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর