মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক বিজিবি সদস্য মো. অলিউর রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারিবারিক জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং এ ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. অলিউর রহমান বলেন, রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের জোড়াপুর এলাকায় তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে। তবে সম্প্রতি আওয়ামী দূসর ছয়ফুর রহমান, আলহাজ মিয়া, জিয়াউর রহমান ও মুজিব মিয়াসহ কয়েকজন তাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বর্গাচাষীদের জমিতে যেতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং প্রতিনিয়ত জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গ্রামে বসবাস করতে না দেওয়া এবং প্রাণনাশের ভয়ও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত ৭ মে সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের জমিতে জোরপূর্বক বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করে। বাধা দিলে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর তিনি রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে, তার বাবা ও মাকে আসামি করে হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তের আগে তাদের অভিযোগের কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অলিউর রহমান বলেন, মামলার পর তার বাবা-মা আদালত থেকে জামিন পেলেও তাকে প্রায় দুই মাস আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হয়েছে। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। এ সময় তার পরিবার সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়ে। তার ছোট বোনও ভীতির কারণে স্কুলে যেতে ও পরীক্ষা দিতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ সরকারি সার্ভের খুঁটি উপড়ে ফেলেছে, তাদের জমিতে জোরপূর্বক বেড়া দিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জেলা পুলিশ, প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এবং বিচার বিভাগের প্রতি ৭ মে’র ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, তাদের দেওয়া অভিযোগের যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ডিএস./



















