০৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নবীনগরে তোরজোরে চলছে নৌকা তৈরী ও বিক্রি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বর্ষায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শুরু হয়েছে নৌকা তৈরী বিক্রি ও তোরজোরে । এই নিয়ে এলাকায় মিস্ত্রীদের মহাব্যবস্থতা এখন মৌসুমি ডিঙ্গি নৌকা তৈরিতে ব্যস্থ সময় কাটাচ্ছে কাঠ মিস্ত্রীরা। বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে এ আশ-পাশের গ্রামে গৃৃহস্থলি কাজে এবং খেয়া পারাপারে ও গো-খাদ্যের জন্য কোষা ও ডিঙি নৌকার কদর বেড়ে যায় কয়েক গুণ। আর এ সুবাদে গড়ে উঠে ডিঙি ও কোষা নৌকা তৈরী ও বিক্রির অস্থায়ী বাজার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের পছন্দের নৌকা এখান থেকে কিনে থাকেন। তিতাস , মেঘনা ও বুড়ি নদী ঘেরা নবীনগর উপজেলার প্রায় গ্রাম বর্ষা প্লাবিত । বর্ষা মৌসুম এলেই এই এলাকার মানুষের চলাচলের বাহন হিসেবে নৌকা ব্যবহার করে থাকে। উপজেলার নদীর তীরবর্তী গ্রাম গুলিতে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা নৌকার মাধ্যমে স্কুলে যাতায়াত করে থাকে। বর্ষা মৌসুমি জেলেরা নৌকা দিয়ে রাত দিন মাছ শিকারে ব্যস্থ হয়ে পড়ে। সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার, সাদেক পুর,আয়তলা, মনিপুর, চিত্রি চর লাপাং মাছ ধরার ও চলাচলের উপযোগী নৌকা অথবা ট্রলার তৈরির ধুম পড়েছে। কেউ তার পুরানো নৌকা অথবা কাঠের ট্রলারটিকে মেরামত করছেন। কেউ নতুন নৌকা তৈরী অথবা কেউ কেউ মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নৌকায় রং ও আলকাতরা দিয়ে ব্যাবহারের উপযোগী করছে। নৌকার মালিক ও মিস্ত্রি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নবীনগর শত শত নতুন নৌকা নির্মিত হচ্ছে। আলমনগর, লাপাং, শিবপুর,বাঙ্গরা, শ্রীরঘর,খাগাতুয়া,লহরী,রাধানগর ইত্যাদি গ্রাম গুলোতে নৌকার ব্যবহার হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। এ সব গ্রামের প্রায় বাড়িতেই এই বর্ষাকালে যাতায়াতের জন্য একটি করে নৌকা আছে। এক সময় বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পালতুলা নৌকা চলতো। বিভিন্ন হাট বাজারে মালা মাল আনা নেওয়ার জন্য গয়না, ডিঙ্গি নৌকার ব্যবহার হত। নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মধু সূত্রধর জানান, ছোট বেলা থেকেই বাবার সাথে নৌকা তৈরির কাজ করছি। বর্ষা এলেই নৌকা তৈরির কাজ বেড়ে যায়। নৌকা তৈরিতে বিশেষ কোন কাঠ নিদিষ্ট ভাবে ব্যবহার হয় না। আগে ভাল কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরী করতাম, এখন কড়াই, চাম্বল ও মেহগনি দিয়েই বেশী নৌকা তৈরি করি। নৌকা তৈরিতে কাঠ ছাড়াও মাটিয়া তৈল, আলকাতরা, তাড়কাটা, গজাল, পাতাম ইত্যাদি লাগে । একজনে প্রতিদিন একটি ডিঙ্গি নৌকা তৈরি করতে পারি। বার হাতের একটি নৌকা তৈরিতে ৭ হাজার ৮ হাজার টাকা খরচ হয় আর বিক্রি হয় সারে বার হতে পনের হাজার টাকায়। একটু ছোট ডিঙ্গি তৈরিতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয় বিক্রি হয় সাত থেকে আট হাজার টাকায়। গ্রামের অবনির নাথ অজয় জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারে ও বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। এবার আগে থেকেই অনেক অর্ডার ও পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, গত বছরে দুইশ’র বেশি নৌকা বিক্রি করেছি । একটি ১০ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রশস্থ নৌকা তৈরিতে ৪ জন মিস্ত্রির একদিন সময় লাগে। এ বছর কাঠ ও তৈরির সামগ্রীর দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

নবীনগরে তোরজোরে চলছে নৌকা তৈরী ও বিক্রি

প্রকাশিত : ০৩:২৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বর্ষায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শুরু হয়েছে নৌকা তৈরী বিক্রি ও তোরজোরে । এই নিয়ে এলাকায় মিস্ত্রীদের মহাব্যবস্থতা এখন মৌসুমি ডিঙ্গি নৌকা তৈরিতে ব্যস্থ সময় কাটাচ্ছে কাঠ মিস্ত্রীরা। বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে এ আশ-পাশের গ্রামে গৃৃহস্থলি কাজে এবং খেয়া পারাপারে ও গো-খাদ্যের জন্য কোষা ও ডিঙি নৌকার কদর বেড়ে যায় কয়েক গুণ। আর এ সুবাদে গড়ে উঠে ডিঙি ও কোষা নৌকা তৈরী ও বিক্রির অস্থায়ী বাজার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের পছন্দের নৌকা এখান থেকে কিনে থাকেন। তিতাস , মেঘনা ও বুড়ি নদী ঘেরা নবীনগর উপজেলার প্রায় গ্রাম বর্ষা প্লাবিত । বর্ষা মৌসুম এলেই এই এলাকার মানুষের চলাচলের বাহন হিসেবে নৌকা ব্যবহার করে থাকে। উপজেলার নদীর তীরবর্তী গ্রাম গুলিতে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা নৌকার মাধ্যমে স্কুলে যাতায়াত করে থাকে। বর্ষা মৌসুমি জেলেরা নৌকা দিয়ে রাত দিন মাছ শিকারে ব্যস্থ হয়ে পড়ে। সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার, সাদেক পুর,আয়তলা, মনিপুর, চিত্রি চর লাপাং মাছ ধরার ও চলাচলের উপযোগী নৌকা অথবা ট্রলার তৈরির ধুম পড়েছে। কেউ তার পুরানো নৌকা অথবা কাঠের ট্রলারটিকে মেরামত করছেন। কেউ নতুন নৌকা তৈরী অথবা কেউ কেউ মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নৌকায় রং ও আলকাতরা দিয়ে ব্যাবহারের উপযোগী করছে। নৌকার মালিক ও মিস্ত্রি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নবীনগর শত শত নতুন নৌকা নির্মিত হচ্ছে। আলমনগর, লাপাং, শিবপুর,বাঙ্গরা, শ্রীরঘর,খাগাতুয়া,লহরী,রাধানগর ইত্যাদি গ্রাম গুলোতে নৌকার ব্যবহার হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। এ সব গ্রামের প্রায় বাড়িতেই এই বর্ষাকালে যাতায়াতের জন্য একটি করে নৌকা আছে। এক সময় বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পালতুলা নৌকা চলতো। বিভিন্ন হাট বাজারে মালা মাল আনা নেওয়ার জন্য গয়না, ডিঙ্গি নৌকার ব্যবহার হত। নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মধু সূত্রধর জানান, ছোট বেলা থেকেই বাবার সাথে নৌকা তৈরির কাজ করছি। বর্ষা এলেই নৌকা তৈরির কাজ বেড়ে যায়। নৌকা তৈরিতে বিশেষ কোন কাঠ নিদিষ্ট ভাবে ব্যবহার হয় না। আগে ভাল কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরী করতাম, এখন কড়াই, চাম্বল ও মেহগনি দিয়েই বেশী নৌকা তৈরি করি। নৌকা তৈরিতে কাঠ ছাড়াও মাটিয়া তৈল, আলকাতরা, তাড়কাটা, গজাল, পাতাম ইত্যাদি লাগে । একজনে প্রতিদিন একটি ডিঙ্গি নৌকা তৈরি করতে পারি। বার হাতের একটি নৌকা তৈরিতে ৭ হাজার ৮ হাজার টাকা খরচ হয় আর বিক্রি হয় সারে বার হতে পনের হাজার টাকায়। একটু ছোট ডিঙ্গি তৈরিতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয় বিক্রি হয় সাত থেকে আট হাজার টাকায়। গ্রামের অবনির নাথ অজয় জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারে ও বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। এবার আগে থেকেই অনেক অর্ডার ও পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, গত বছরে দুইশ’র বেশি নৌকা বিক্রি করেছি । একটি ১০ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রশস্থ নৌকা তৈরিতে ৪ জন মিস্ত্রির একদিন সময় লাগে। এ বছর কাঠ ও তৈরির সামগ্রীর দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর