পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইউরোপের নীতি স্পষ্ট করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের এ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এর ক্ষতিপূরণের জন্য ইরান ইউরোপকে কয়েক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ইউরোপসহ আরো অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পরপরই ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরানের স্বার্থ বজায় রেখে তারা পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে কিনা তা স্পষ্ট করতে হবে। এর অন্যথায় ইরান পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতিসংঘের অনুমোদিত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র পদদলিত করে যেভাবে বিশ্বে অনাস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তাতে ইউরোপকে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। কেবল পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানানোটাই ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ কারণেই ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে অতি কম সময়ের মধ্যে পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে তাদের অবস্থান জানাতে বলেছেন, যেখানে ইরানের স্বার্থ পুরোপুরি বজায় থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এই চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউরোপের তিনটি দেশ অর্থাৎ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির দায়িত্ব ইরানের স্বার্থ বজায় রেখে চুক্তির ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যেমনটি বলেছেন, ইউরোপের ওই তিনটি দেশ যদি পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নে অটল না থাকে তাহলে এই চুক্তির কোনো মানে হয় না।
যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ইরানের সঙ্গে যে আচরণ করত এখনো সেই আচরণ বা বিদ্বেষী নীতি বহাল রেখেছে। তেহরানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষী নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিনটি ইরানি কোম্পানি ও ছয় ইরানি নাগরিকের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অজুহাতে এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। এ থেকে বোঝা যায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে টার্গেট করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ইরান সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।
সূত্র: এএফপি

























