যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান তার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তন না আনলে এ ব্যবস্থা নেবে ওয়াশিংটন।
পম্পেও বলেন, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খা পরিত্যাগ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বন্ধ করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি দাবি মেনে না নিলে ইরান এ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ছেড়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণা করতে গিয়ে সোমবার এ হুমকি দেন পম্পেও।
পম্পেওরএই হুমকির কঠোর সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশসহ বিশ্বের স্বাধীনচেতা দেশগুলোর ব্যাপারে আমেরিকা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়ত নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তারা বিশ্বের সব দেশের জন্য সিদ্ধান্ত নেবে এটা মেনে নেয়া যায় না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ জারিফ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে তার ব্যর্থ নীতির গ্যাঁড়াকলে বন্দী তাই দেখা গেল মাইক পম্পেওর ঘোষণায় আর এর ফলাফল হবে ভয়াবহ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মঘেরিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেছেন, ২০১৫ সালে করা পরমাণু চুক্তি বাতিল করে কিভাবে মধ্যপ্রাচ্যকে নিরাপদ করা যায় তা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন পম্পেও।
ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তির জন্য পম্পেও যেসব শর্ত দিয়েছেন তার বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি সোমবার বুয়েন্স আয়ার্সে জি২০’ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের অবকাশে বলেন, পম্পেওর দেয়া শর্তগুলো একটি চুক্তির মধ্যে নিয়ে আসা অসম্ভব ব্যাপার ও মারাত্মক কঠিন কাজ।
তিনি বলেন, একটি চুক্তির মধ্যে এতগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বর্তমান পরমাণু সমঝোতাকে ‘অনেক ভালো চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেন।
ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দু’সপ্তাহ পর দেয়া বক্তৃতায় পম্পেও তেহরানের সঙ্গে যেকোনো ‘নতুন চুক্তি’র জন্য ১২টি কঠিন শর্ত আরোপ করেন। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে, সিরিয়া থেকে ইরানের সামরিক উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার ও ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের ওপর সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের মিত্রদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই মিত্র হচ্ছে সৌদি আরব ও ইসরাইল।
পম্পেও বলেন, ইরানের যেকোনো আগ্রাসন রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে তিনি কাজ করবেন। নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের ওপর নজিরবিহীন আর্থিক চাপ প্রয়োগ করা হবে। ইরানকে আটকাতে এই নিষেধাজ্ঞাকে মার্কিন প্রশাসনের প্ল্যান ‘বি’ বলা হচ্ছে।
তবে ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দাবির কাছে মাথা নত করার সম্ভাবনা তেমন নেই যে তা স্বীকার করে পম্পেও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন হবে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যে প্রভাব তা কমিয়ে আনাও সহজ হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে বের করে নেন। ২০১৫ সালে পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হওয়ার ফলে এটি একটি আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে বিবেচিত।
ইসরায়েল পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেও জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এবং চুক্তির অন্য দুই দেশ রাশিয়া ও চীনকে নিয়ে চুক্তি বাঁচানোর চেষ্টা করছে। সূত্র: বিবিসি

























