০২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে গৌরীপুরের সানি এখন কৃষি উদ্যোক্তা

রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস মাহফুজুল হক সানি (৩১) এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

মাহফুজুল হক সানির বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের বারুয়ামারী গ্রামে। চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজ শুরু করে মাল্টার বাগান করছেন শোনে অনেকেই কটুক্তি করতেন। এমনকি পরিবারের লোকজনও আফসোস করতো। কিন্ত সফলতা দেখার পর এখন সবাই খুশি।

২০১৯সালের এপ্রিলে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক বিষয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। পরে জুলাই মাসে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির নেন।

২০২০ সালের মার্চে করোনা পরিস্থিতিতি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেন সানি। এরপর বাড়িতে থেকে কিছু একটা করার ভাবনা থেকেই ইউটিউব দেখে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ শুরু করেন তিনি।

বাড়ির পাশে পঞ্চাশ শতক জমি মাল্টা চাষের জন্য তৈরি করে শতাধিক চারা রোপণ করেন। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সঠিক পরিচর্যায় দ্রæত মাল্টা গাছগুলো বড় হয়ে উঠে। তিন বছরের মাথায় সানির বাগানের মাল্টার ভালো ফলন হয়। অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা বিক্রি শুরু করেন তিনি।

বারুয়ামারি গ্রামে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চারপাশে সবুজ ধানখেত। মাঝখানে মাল্টার বাগান। সারি সারি মাল্টা গাছের থোকায় থোকায় মাল্টা ঝুলছে। গাছ থেকে পাকা পাকা মাল্টা ছিঁড়ে বিক্রির জন্য সংগ্রহ করছেন সানি। গাছে প্রথম মাল্টা ফল ধরার পর থেকে পরবর্তী আরো ২০ বছর পর্যন্ত মাল্টা উৎপাদন করা যায়।

সানির বাগানের বারি-১ মাল্টা প্রতি কেজি পাইকারি ৮০ টাকা ও খুচরা ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। বাজারের মাল্টার তুলনায় দাম কম থাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে যান।

গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজার থেকে ৩০০ টাকা কেজি যে মাল্টা আমরা কিনি ওগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক দেয়া থাকে। আর সানির বাগানের তাজা মাল্টা সরাসরি গাছ থেকে ছিঁড়ে নিয়ে যাই।  ক্ষতিকর কোন কিছু নেই। দামে সাশ্রয়ী, খেতেও সুস্বাদু।

মাহফজুল হক সানি বলেন, আমার বৃক্ষপ্রেমী মায়ের সাথে থেকে আমারও গাছের প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে। তাই চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসে কৃষি ও মাল্টার বাগান করেছি। মাত্র ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে উৎপাদনের প্রথম বছরেই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। আরো মাল্টা গাছে ঝুলছে। আরো ২০বছর গাছগুলো থেকে মাল্টা উৎপাদন করতে পারবো। এখন আমার লক্ষ মাল্টা সহ অন্যান্য ফলের চারার নার্সারি করা।

সানির মামা ফারুক আহাম্মদ বলেন, সানি যখন চাকরি ছেড়ে কৃষি ও মাল্টা বাগান করে তখন অনেকের মত আমিও হতাশ হয়েছিলাম। কিন্ত আমার ভাগনে প্রমাণ করেছে পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে সফল হওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, মাল্টাচাষি সানি একজন আদর্শ উদ্যোক্তা। তিনি মাল্টা চাষ করে সফল হয়েছেন। তাকে দেখে গ্রামের অন্যান্য যুবকরাও বেকারত্ব ঘুচাতে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে গৌরীপুরের সানি এখন কৃষি উদ্যোক্তা

প্রকাশিত : ০৩:৪২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩

রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস মাহফুজুল হক সানি (৩১) এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

মাহফুজুল হক সানির বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের বারুয়ামারী গ্রামে। চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজ শুরু করে মাল্টার বাগান করছেন শোনে অনেকেই কটুক্তি করতেন। এমনকি পরিবারের লোকজনও আফসোস করতো। কিন্ত সফলতা দেখার পর এখন সবাই খুশি।

২০১৯সালের এপ্রিলে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক বিষয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। পরে জুলাই মাসে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির নেন।

২০২০ সালের মার্চে করোনা পরিস্থিতিতি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেন সানি। এরপর বাড়িতে থেকে কিছু একটা করার ভাবনা থেকেই ইউটিউব দেখে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ শুরু করেন তিনি।

বাড়ির পাশে পঞ্চাশ শতক জমি মাল্টা চাষের জন্য তৈরি করে শতাধিক চারা রোপণ করেন। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সঠিক পরিচর্যায় দ্রæত মাল্টা গাছগুলো বড় হয়ে উঠে। তিন বছরের মাথায় সানির বাগানের মাল্টার ভালো ফলন হয়। অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা বিক্রি শুরু করেন তিনি।

বারুয়ামারি গ্রামে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চারপাশে সবুজ ধানখেত। মাঝখানে মাল্টার বাগান। সারি সারি মাল্টা গাছের থোকায় থোকায় মাল্টা ঝুলছে। গাছ থেকে পাকা পাকা মাল্টা ছিঁড়ে বিক্রির জন্য সংগ্রহ করছেন সানি। গাছে প্রথম মাল্টা ফল ধরার পর থেকে পরবর্তী আরো ২০ বছর পর্যন্ত মাল্টা উৎপাদন করা যায়।

সানির বাগানের বারি-১ মাল্টা প্রতি কেজি পাইকারি ৮০ টাকা ও খুচরা ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। বাজারের মাল্টার তুলনায় দাম কম থাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে যান।

গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজার থেকে ৩০০ টাকা কেজি যে মাল্টা আমরা কিনি ওগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক দেয়া থাকে। আর সানির বাগানের তাজা মাল্টা সরাসরি গাছ থেকে ছিঁড়ে নিয়ে যাই।  ক্ষতিকর কোন কিছু নেই। দামে সাশ্রয়ী, খেতেও সুস্বাদু।

মাহফজুল হক সানি বলেন, আমার বৃক্ষপ্রেমী মায়ের সাথে থেকে আমারও গাছের প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে। তাই চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসে কৃষি ও মাল্টার বাগান করেছি। মাত্র ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে উৎপাদনের প্রথম বছরেই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। আরো মাল্টা গাছে ঝুলছে। আরো ২০বছর গাছগুলো থেকে মাল্টা উৎপাদন করতে পারবো। এখন আমার লক্ষ মাল্টা সহ অন্যান্য ফলের চারার নার্সারি করা।

সানির মামা ফারুক আহাম্মদ বলেন, সানি যখন চাকরি ছেড়ে কৃষি ও মাল্টা বাগান করে তখন অনেকের মত আমিও হতাশ হয়েছিলাম। কিন্ত আমার ভাগনে প্রমাণ করেছে পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে সফল হওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, মাল্টাচাষি সানি একজন আদর্শ উদ্যোক্তা। তিনি মাল্টা চাষ করে সফল হয়েছেন। তাকে দেখে গ্রামের অন্যান্য যুবকরাও বেকারত্ব ঘুচাতে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে