পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে শর্তসাপেক্ষে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেলেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই অনুমতি দিয়েছেন। আগামী ২৫ জুলাই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।
পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না এবং তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারবেন বলে রুল জারি করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
মোশাররফকে আগামী ১৩ জুনের মধ্যে লাহোর রেজিস্ট্রি অফিসে সশরীরে হাজির হয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে হবে।
আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন।
২০১৩ সালে পেশওয়ার হাই কোর্ট মুশাররফকে রাজনীতিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওই বছরের জাতীয় নির্বাচনেও তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছিল।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে আপিল করেন মুশাররফ।
বৃহস্পতিবার ওই আপিলের শুনানিতে মুশাররফের আইনজীবী প্রধান বিচারপতির কাছে তার মক্কেল দেশে ফিরলে অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করা হবে না বলে মর্মে লিখিত নির্দেশ জারির আবেদন করেন।
জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “মুশাররফকে দেশে ফিরতে বলুন। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না।”
মুশাররফের আইনজীবী তারপর গত নির্বাচনে তার মক্কেলের মনোনয়ন পত্র গ্রহণ না কারার কথা বলেন।
জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি তিনি মনোনয়ন পত্র জমা দেন তবে রিটানিং অফিসার তা গ্রহণ করবেন।
সম্প্রতি মুশাররফের দল অল পাকিস্তান মুসলিম লিগের মহাসচিব মোহাম্মদ আমজাদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ঈদের পর’ মুশাররফ দেশে ফিরবেন।
“যদি তার আপিল আবেদন খারিজও হয়ে যায় তবুও সাবেক প্রেসিডেন্ট দেশে ফিরবেন। নির্বাচনের সময় তিনি দলের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি কয়েক দিনের মধ্যে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন।”
১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মোশাররফ।
মোশাররফের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহসহ ১৯৯৯ সালে সেনা প্রধান হিসাবে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল সংক্রান্ত অন্যান্য অভিযোগে মামলা চলছে। দেশদ্রোহের মামলার শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ২০০৭ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে লাল মসজিদের ধর্মীয় নেতা গাজী আব্দুল রশীদ হত্যা মামলায় ২০১৫ সালে ইসলামাবাদের একটি আদালত শাররফের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
মোশাররফ একই সঙ্গে ২০০৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলার পলাতক আসামি।
২০১৬ সালের মার্চে ৭৪ বছরের মোশাররফ চিকিৎসার নামে দুবাই গিয়ে আর পাকিস্তানে ফেরেননি। বর্তমানে তিনি সেখানেই বসবাস করছেন।

























