১২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

হামাসের সবচেয়ে বড় ভয় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে : বাইডেন

ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের সবচেয়ে বড় ভয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলাও সেই ভয় থেকেই ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সম্প্রতি হামাস যে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তার সবচেয়ে বড় কারণ— তারা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে ভয় পায়।’

‘মূলত তাদের সবচেয়ে বড় ভয় এবং এ কারণেই তারা বছরের পর বছর ধরে সন্ত্রাস, সহিংসতা, হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা যা চায়— তা আদায়ের জন্য এ পথকেই বেছে নিয়েছে।’

২০০৬ সালের নির্বাচনে জিতে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। সেই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে আসা জোট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এবং জোটের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ফাতাহকে উপত্যকা থেকে বিতাড়িত করে এই গোষ্ঠীটি।

হামাস সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা চায়। পাশাপাশি এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় এবং ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ নীতিতেও তাদের কোনো আস্থা নেই। গোষ্ঠীটির প্রথম সারির নেতারা কাতারে এবং মধ্যম সারির নেতারা লেবাননে থাকেন।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালানোর পর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। পরে ১৬ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনী।

ইসরায়েলি বাহিনীর টানা দেড় মাসের অভিযানে কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, নিহত হয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নিহত এই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।

অন্যদিকে, হামাস যোদ্ধাদের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক।

ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলার চালানোর দিন এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে শত শত সামরিক-বেসামরিক মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৪২ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে গিয়েছিলেন হামাসের যোদ্ধারা। এই জিম্মিদের মধ্যে ইসরায়েলিদের সংখ্যা ১০৪ জন। বাকি ১৩৮ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিকরা রয়েছেন।

গত নভেম্বরের মাঝামাঝি ইসরায়েলের যুদ্ধকালীণ মন্ত্রিসভার কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায় হামাস। সেই প্রস্তাবে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েল যদি গাজা উপত্যকায় চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, রাফাহ ক্রসিংয়ে অপেক্ষারত ত্রাণ, জ্বালানি ও মানবিক সহায়তা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে প্রবেশ করতে দেয় এবং ইসরায়েলি কারাগারগুলো থেকে অন্তত ১৫০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়, তাহলে নিজেদের হাতে থাকা জিম্মিদের মধ্যে থেকে ৫০ জনকে ছেড়ে দেবে হামাস।

ইসরায়েল সেই প্রস্তাব মেনে নিলে ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয় ৪ দিনের যুদ্ধবিরতি। সোমবার যুদ্ধবিরতির শেষ দিনে সেটির মেয়াদ আরও ২ দিন বাড়ানো হয়।

গত ৫ দিনে মোট ৮১ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। মুক্তিপ্রাপ্ত এই জিম্মিদের ৬০ জন ইসরায়েলি এবং ২১ জন বিদেশি নাগরিক। বিদেশিদের অধিকাংশই থাইল্যান্ডের।

অন্যদিকে সরায়েলের বিভিন্ন কারাগার থেকে ১৫০ জন ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, প্রতি ১০ জন জিম্মির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ একদিন করে বাড়াতে রাজি আছে ইসরায়েল।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

হামাসের সবচেয়ে বড় ভয় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে : বাইডেন

প্রকাশিত : ১২:৫০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের সবচেয়ে বড় ভয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলাও সেই ভয় থেকেই ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সম্প্রতি হামাস যে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তার সবচেয়ে বড় কারণ— তারা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে ভয় পায়।’

‘মূলত তাদের সবচেয়ে বড় ভয় এবং এ কারণেই তারা বছরের পর বছর ধরে সন্ত্রাস, সহিংসতা, হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা যা চায়— তা আদায়ের জন্য এ পথকেই বেছে নিয়েছে।’

২০০৬ সালের নির্বাচনে জিতে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। সেই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে আসা জোট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এবং জোটের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ফাতাহকে উপত্যকা থেকে বিতাড়িত করে এই গোষ্ঠীটি।

হামাস সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা চায়। পাশাপাশি এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় এবং ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ নীতিতেও তাদের কোনো আস্থা নেই। গোষ্ঠীটির প্রথম সারির নেতারা কাতারে এবং মধ্যম সারির নেতারা লেবাননে থাকেন।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালানোর পর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। পরে ১৬ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনী।

ইসরায়েলি বাহিনীর টানা দেড় মাসের অভিযানে কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, নিহত হয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নিহত এই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।

অন্যদিকে, হামাস যোদ্ধাদের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক।

ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলার চালানোর দিন এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে শত শত সামরিক-বেসামরিক মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৪২ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে গিয়েছিলেন হামাসের যোদ্ধারা। এই জিম্মিদের মধ্যে ইসরায়েলিদের সংখ্যা ১০৪ জন। বাকি ১৩৮ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিকরা রয়েছেন।

গত নভেম্বরের মাঝামাঝি ইসরায়েলের যুদ্ধকালীণ মন্ত্রিসভার কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায় হামাস। সেই প্রস্তাবে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েল যদি গাজা উপত্যকায় চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, রাফাহ ক্রসিংয়ে অপেক্ষারত ত্রাণ, জ্বালানি ও মানবিক সহায়তা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে প্রবেশ করতে দেয় এবং ইসরায়েলি কারাগারগুলো থেকে অন্তত ১৫০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়, তাহলে নিজেদের হাতে থাকা জিম্মিদের মধ্যে থেকে ৫০ জনকে ছেড়ে দেবে হামাস।

ইসরায়েল সেই প্রস্তাব মেনে নিলে ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয় ৪ দিনের যুদ্ধবিরতি। সোমবার যুদ্ধবিরতির শেষ দিনে সেটির মেয়াদ আরও ২ দিন বাড়ানো হয়।

গত ৫ দিনে মোট ৮১ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। মুক্তিপ্রাপ্ত এই জিম্মিদের ৬০ জন ইসরায়েলি এবং ২১ জন বিদেশি নাগরিক। বিদেশিদের অধিকাংশই থাইল্যান্ডের।

অন্যদিকে সরায়েলের বিভিন্ন কারাগার থেকে ১৫০ জন ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, প্রতি ১০ জন জিম্মির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ একদিন করে বাড়াতে রাজি আছে ইসরায়েল।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে