০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ফেনীতে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল ও পরিবার নির্যাতনের অভিযোগ আওয়ামী দোসর আজিজুল হকের বিরুদ্ধে

ফেনীর ফাজিলপুর ইউনিয়নের ফয়েজ ভূঁঞা বাড়ির বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মর্তুজা ভূঁঞার পরিবার আওয়ামী লীগের সহযোগী ও কথিত ভূমিদস্যু আজিজুল হক মাস্টারের হাতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও জমি দখলের শিকার হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

আজিজুল হক মাস্টারের হামলার শিকার মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে ফেনীর তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দীন হাজারী মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তাঁর সাথে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রভাব খাটিয়ে আজিজুল হক মাস্টার ফাজিলপুরের ফয়েজ ভূঁঞা বাড়ির একাধিক পরিবারের জমি দখলের চক্রান্ত শুরু করেন। একই সাথে ওই পরিবারের সদস্যদের নামে একের পর এক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের এবং নানাভাবে নিগৃহীত করা হতে থাকে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সে সময় নির্যাতন ও আতঙ্কে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মর্তুজা ভূঁঞা দুইবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (ব্রেইন স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। তাঁর এই শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর বসতভিটা দখলের অপচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়। তৎকালীন সময়ে তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে একজন অনার্সে অধ্যয়নরত, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী এবং অন্যজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পুরো পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে।

আজিজুল হক মাস্টারের হামলার শিকার মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

একপর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজের বসতভিটা দখলের কারণ জানতে চাইলে আজিজুল হক মাস্টার প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করে বলেন, “আমি নিজাম হাজারীর লোক। আমি এই জমি দখল করব কি করব না, সেটা আমার বিষয়।” অভিযোগ রয়েছে, এরপরই আজিজুল হকের অনুসারীরা ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করে। এই চরম অপমান ও মানসিক আঘাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে বারবার ন্যায়বিচার চেয়েও নিজাম হাজারীর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো প্রতিকার পায়নি পরিবারটি। এর ওপর, বীর মুক্তিযোদ্ধার জ্যেষ্ঠ পুত্র মঈনুল হোসেন জ্যাকসন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় তাঁকে পুলিশ দিয়ে একাধিকবার হয়রানি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ভয়ভীতি ও ধারাবাহিক নির্যাতনের মুখে একপর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়।

শুধু এই একটি পরিবারই নয়, অভিযোগ রয়েছে যে আজিজুল হক মাস্টার ফয়েজ ভূঁইয়া বাড়ির প্রায় প্রতিটি বাসিন্দার বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত বিরোধ তৈরি করে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে রেখেছেন।

আজিজুল হক মাস্টারের হামলার শিকার মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আজিজুল হক মাস্টার পুনরায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মর্তুজা ভূঁঞার জমির ওপর জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর (দেয়াল) নির্মাণের চেষ্টা চালান। পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দিলে আজিজুল হকের ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী তাঁদের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। ওই হামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সন্তানসহ একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাঁদের ফেনী সদর হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।

বর্তমান অপতৎপরতা ও ভুয়া পরিচয়: পরিবারের আরও অভিযোগ, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আজিজুল হক মাস্টার এখন বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এলাকায় পুনরায় নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। অতি সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করে জনমানুষের সহানুভূতি পাওয়ার অপচেষ্টাও করেছেন তিনি। তবে স্থানীয় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আজিজুল হকের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন; তিনি কখনোই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি।

সম্প্রতি তিনি ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর পুনরায় হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিবারের আকুল আবেদন: দীর্ঘ ১৭ বছরের নিরবচ্ছিন্ন নির্যাতন, বসতভিটা দখলের চক্রান্ত, বারবার হামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির পর ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়দানকারী আজিজুল হক মাস্টারসহ জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন

ট্যাগ :

ফেনীতে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল ও পরিবার নির্যাতনের অভিযোগ আওয়ামী দোসর আজিজুল হকের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত : ০৯:১৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ফেনীর ফাজিলপুর ইউনিয়নের ফয়েজ ভূঁঞা বাড়ির বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মর্তুজা ভূঁঞার পরিবার আওয়ামী লীগের সহযোগী ও কথিত ভূমিদস্যু আজিজুল হক মাস্টারের হাতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও জমি দখলের শিকার হচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

আজিজুল হক মাস্টারের হামলার শিকার মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে ফেনীর তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দীন হাজারী মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তাঁর সাথে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রভাব খাটিয়ে আজিজুল হক মাস্টার ফাজিলপুরের ফয়েজ ভূঁঞা বাড়ির একাধিক পরিবারের জমি দখলের চক্রান্ত শুরু করেন। একই সাথে ওই পরিবারের সদস্যদের নামে একের পর এক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের এবং নানাভাবে নিগৃহীত করা হতে থাকে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সে সময় নির্যাতন ও আতঙ্কে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মর্তুজা ভূঁঞা দুইবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (ব্রেইন স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। তাঁর এই শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর বসতভিটা দখলের অপচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়। তৎকালীন সময়ে তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে একজন অনার্সে অধ্যয়নরত, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী এবং অন্যজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পুরো পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে।

আজিজুল হক মাস্টারের হামলার শিকার মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

একপর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজের বসতভিটা দখলের কারণ জানতে চাইলে আজিজুল হক মাস্টার প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করে বলেন, “আমি নিজাম হাজারীর লোক। আমি এই জমি দখল করব কি করব না, সেটা আমার বিষয়।” অভিযোগ রয়েছে, এরপরই আজিজুল হকের অনুসারীরা ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করে। এই চরম অপমান ও মানসিক আঘাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে বারবার ন্যায়বিচার চেয়েও নিজাম হাজারীর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো প্রতিকার পায়নি পরিবারটি। এর ওপর, বীর মুক্তিযোদ্ধার জ্যেষ্ঠ পুত্র মঈনুল হোসেন জ্যাকসন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় তাঁকে পুলিশ দিয়ে একাধিকবার হয়রানি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ভয়ভীতি ও ধারাবাহিক নির্যাতনের মুখে একপর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়।

শুধু এই একটি পরিবারই নয়, অভিযোগ রয়েছে যে আজিজুল হক মাস্টার ফয়েজ ভূঁইয়া বাড়ির প্রায় প্রতিটি বাসিন্দার বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত বিরোধ তৈরি করে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে রেখেছেন।

আজিজুল হক মাস্টারের হামলার শিকার মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আজিজুল হক মাস্টার পুনরায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মর্তুজা ভূঁঞার জমির ওপর জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর (দেয়াল) নির্মাণের চেষ্টা চালান। পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দিলে আজিজুল হকের ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী তাঁদের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। ওই হামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সন্তানসহ একাধিক সদস্য গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাঁদের ফেনী সদর হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।

বর্তমান অপতৎপরতা ও ভুয়া পরিচয়: পরিবারের আরও অভিযোগ, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আজিজুল হক মাস্টার এখন বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এলাকায় পুনরায় নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। অতি সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করে জনমানুষের সহানুভূতি পাওয়ার অপচেষ্টাও করেছেন তিনি। তবে স্থানীয় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আজিজুল হকের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন; তিনি কখনোই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি।

সম্প্রতি তিনি ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর পুনরায় হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিবারের আকুল আবেদন: দীর্ঘ ১৭ বছরের নিরবচ্ছিন্ন নির্যাতন, বসতভিটা দখলের চক্রান্ত, বারবার হামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির পর ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়দানকারী আজিজুল হক মাস্টারসহ জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন