০৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জে জ্বীনের বাদশা গ্রেফতার, অনলাইন অ্যাপসে ২১ লাখ টাকা আত্মসাত

oplus_2097154

জ্বীনের বাদশা সেজে এবং বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোঃ আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নাজরান রউফ।

পুলিশ জানায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা: মমতাজ বেগম (৩১) গত ১ জুন সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল হামিদ ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি সোলার প্যানেলভিত্তিক অ্যাপসে বিনিয়োগ করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে বাদীর মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন গ্রাহক সংগ্রহ করেন।

এভাবে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

পরবর্তীতে ‘সিইএফ’ নামের আরেকটি অ্যাপসে বিনিয়োগের কথা বলে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে গ্রাহকরা আগের অ্যাপসে প্রবেশ করতে না পারলে নতুন অ্যাপসে বিনিয়োগের নামে আরও প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, মামলার পর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু-এর নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে সলঙ্গা থানার বনবাড়ীয়া এলাকা থেকে আব্দুল হামিদকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি ওয়ালটন ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, আব্দুল হামিদ বিভিন্ন সময় নতুন নতুন অ্যাপস চালু করে স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। কিছুদিন পর অ্যাপসগুলো অকার্যকর করে দিয়ে আবার নতুন অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগের ফাঁদ তৈরি করতেন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তিনি Hamkail Moakael, নামের একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে নিজেকে জ্বীনের বাদশা, পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করতেন বলেও তদন্তে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :

বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা বুধবার

সিরাজগঞ্জে জ্বীনের বাদশা গ্রেফতার, অনলাইন অ্যাপসে ২১ লাখ টাকা আত্মসাত

প্রকাশিত : ০৫:২২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

জ্বীনের বাদশা সেজে এবং বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোঃ আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নাজরান রউফ।

পুলিশ জানায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা: মমতাজ বেগম (৩১) গত ১ জুন সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল হামিদ ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি সোলার প্যানেলভিত্তিক অ্যাপসে বিনিয়োগ করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে বাদীর মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন গ্রাহক সংগ্রহ করেন।

এভাবে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

পরবর্তীতে ‘সিইএফ’ নামের আরেকটি অ্যাপসে বিনিয়োগের কথা বলে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে গ্রাহকরা আগের অ্যাপসে প্রবেশ করতে না পারলে নতুন অ্যাপসে বিনিয়োগের নামে আরও প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, মামলার পর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু-এর নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে সলঙ্গা থানার বনবাড়ীয়া এলাকা থেকে আব্দুল হামিদকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি ওয়ালটন ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, আব্দুল হামিদ বিভিন্ন সময় নতুন নতুন অ্যাপস চালু করে স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। কিছুদিন পর অ্যাপসগুলো অকার্যকর করে দিয়ে আবার নতুন অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগের ফাঁদ তৈরি করতেন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তিনি Hamkail Moakael, নামের একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে নিজেকে জ্বীনের বাদশা, পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করতেন বলেও তদন্তে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিএস./