পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক আঞ্চলিক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের মোট ৩৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে এক ব্যক্তি নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একজন হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ীর সঙ্গে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিনি ব্যবসায়ীকে জানান, তার ওষুধ সেবন করে এক শিশু মারা গেছে এবং মামলা এড়াতে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে ওই ব্যবসায়ী নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠান।
একই ব্যক্তি ৩০ মে নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে অপর এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে অভিযোগ করেন যে, তার দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। মামলা না দেওয়ার শর্তে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের পর তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বগুড়া জেলার আদমদীঘী উপজেলার নামা পোওতা গ্রামের বাসিন্দা মো. নাইম হোসেন (২৮) কে সান্তাহার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন, ৩টি সক্রিয় সিম এবং বিভিন্ন কোম্পানির আরও ৩৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি স্বীকার করেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনো পুলিশ সুপার, কখনো থানার ওসি, কখনো জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা রাজনৈতিক নেতার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডিএস./






















