০৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তির নামে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ: কর্মবিরতিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্তির নামে চার শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো রসিদ, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেনের তথ্য কিংবা অন্য কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি এই প্রতিবেদনের হাতে আসেনি। ফলে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি আপাতত অভিযোগকারীদের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুন।

এদিকে এমপিও প্রস্তাব পাঠাতে গড়িমসি, সময়ক্ষেপণ এবং অভিযোগ তোলায় শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর চাপ ও হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও এমপিও-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।

শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ জুলাই রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয়। এরপর বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও আরও কয়েকজনের এমপিও প্রস্তাব পাঠানো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

আবেদনকারীদের দাবি, বাকি সাতজনের মধ্যে চারজনের এমপিও প্রস্তাব ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর পাঠানো হলেও অপর তিনজনের প্রস্তাব এখনো পাঠানো হয়নি।
তাদের অভিযোগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারিশ থাকার পরও এমপিও প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
চারজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, এমপিওভুক্তির জন্য তিনজন শিক্ষক ও একজন নাইটগার্ডসহ চারজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়। তাদের এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুন অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, চারজনের কাছ থেকে মোট প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ দেওয়ার পরও তারা এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও দীর্ঘদিনেও এর সমাধান হয়নি। বরং অর্থ নেওয়ার অভিযোগসহ এমপিও-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলায় তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করা হচ্ছে।

নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেও বেতন-ভাতা না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুন বলেন, “বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের নিয়োগ ২০২২ সালে হলেও তাদের নিয়োগ ২০০৫ সালে দেখানো হয়েছে। তাদের ফাইল কয়েকবার জমা দেওয়া হলেও সেগুলো ফেরত এসেছে।”তিনি আরও বলেন, “শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানের ফাইল নয়, আরও প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের ফাইল ফেরত এসেছে। ডিডি স্যার কামরুজ্জামান মারা গেছেন। ২০২২ সালে যদি তাদের নাম থাকে, তাহলে এত বছর তারা কোথায় ছিলেন এ প্রশ্নও রয়েছে।”

চারজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগকারীদের প্রমাণ দিতে বলেন এবং অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও এমপিও-সংক্রান্ত বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতির বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন এবং গত ছয় মাসে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন কি না এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

এমপিও-সংক্রান্ত জটিলতা, শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং তাদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, “রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কয়েক দিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছে বিষয়টি আমি জানি। তিনি আরোও বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমার কাছে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির বিষয় নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন। দুই পক্ষের বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে সমস্যা চলছে। এজন্যই হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।”

১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই। অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব), (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি এবং উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোঃ মিজানুর রহমানকে মুঠো ফোনে কল করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

এ দিকে শিক্ষক-কর্মচারীরা চারজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে এমপিও প্রস্তাব পাঠাতে কোনো অনিয়ম বা ইচ্ছাকৃত গড়িমসি হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের কাগজপত্রে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের জটিলতা রয়েছে এবং প্রস্তাব পাঠানো বা ফেরত আসার প্রকৃত কারণ কী তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নীলফামারীতে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

কুষ্টিয়ায় প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তির নামে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ: কর্মবিরতিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা

প্রকাশিত : ০৫:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্তির নামে চার শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো রসিদ, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেনের তথ্য কিংবা অন্য কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি এই প্রতিবেদনের হাতে আসেনি। ফলে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি আপাতত অভিযোগকারীদের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুন।

এদিকে এমপিও প্রস্তাব পাঠাতে গড়িমসি, সময়ক্ষেপণ এবং অভিযোগ তোলায় শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর চাপ ও হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও এমপিও-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।

শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ জুলাই রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয়। এরপর বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও আরও কয়েকজনের এমপিও প্রস্তাব পাঠানো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

আবেদনকারীদের দাবি, বাকি সাতজনের মধ্যে চারজনের এমপিও প্রস্তাব ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর পাঠানো হলেও অপর তিনজনের প্রস্তাব এখনো পাঠানো হয়নি।
তাদের অভিযোগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারিশ থাকার পরও এমপিও প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
চারজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, এমপিওভুক্তির জন্য তিনজন শিক্ষক ও একজন নাইটগার্ডসহ চারজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়। তাদের এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুন অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, চারজনের কাছ থেকে মোট প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ দেওয়ার পরও তারা এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও দীর্ঘদিনেও এর সমাধান হয়নি। বরং অর্থ নেওয়ার অভিযোগসহ এমপিও-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলায় তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করা হচ্ছে।

নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেও বেতন-ভাতা না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুন বলেন, “বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের নিয়োগ ২০২২ সালে হলেও তাদের নিয়োগ ২০০৫ সালে দেখানো হয়েছে। তাদের ফাইল কয়েকবার জমা দেওয়া হলেও সেগুলো ফেরত এসেছে।”তিনি আরও বলেন, “শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানের ফাইল নয়, আরও প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের ফাইল ফেরত এসেছে। ডিডি স্যার কামরুজ্জামান মারা গেছেন। ২০২২ সালে যদি তাদের নাম থাকে, তাহলে এত বছর তারা কোথায় ছিলেন এ প্রশ্নও রয়েছে।”

চারজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগকারীদের প্রমাণ দিতে বলেন এবং অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও এমপিও-সংক্রান্ত বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতির বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন এবং গত ছয় মাসে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন কি না এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

এমপিও-সংক্রান্ত জটিলতা, শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং তাদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রেশমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, “রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কয়েক দিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছে বিষয়টি আমি জানি। তিনি আরোও বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমার কাছে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির বিষয় নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন। দুই পক্ষের বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে সমস্যা চলছে। এজন্যই হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।”

১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই। অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব), (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি এবং উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোঃ মিজানুর রহমানকে মুঠো ফোনে কল করলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

এ দিকে শিক্ষক-কর্মচারীরা চারজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে এমপিও প্রস্তাব পাঠাতে কোনো অনিয়ম বা ইচ্ছাকৃত গড়িমসি হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের কাগজপত্রে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের জটিলতা রয়েছে এবং প্রস্তাব পাঠানো বা ফেরত আসার প্রকৃত কারণ কী তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।