ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের প্রশ্নে আস্থা ভোটে আরো অন্তত এক বছরের জন্যে টিকে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। বুধবার রাতে ভোটাভুটিতে তার পক্ষে পড়েছে ২০০ ভোট আর বিপক্ষে ১১৭।
আস্থা ভোটে তেরেসা মে জিতেছেন ৮৩ ভোটে, যার অর্থ ৬৩ শতাংশ কনজারভেটিভ এমপি তার পক্ষে আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ৩৭ শতাংশ। তিনি হেরে গেলে দলের প্রধানের পদ থেকে তাকে সরে দাঁড়াতে হতো, সেইসাথে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও সরে যেতে হতো।
জয়ের পর মে বলেন, এটি খুব দীর্ঘ ও উত্তেজনাপূর্ণ দিন ছিল। তবে দিন শেষে আমি আমার সহকর্মীদের ধন্যবাদ দেব ব্যালটের মাধ্যমে আমাকে সমর্থন জানানোর জন্যে, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নিজ দলের এই সমর্থন তাকে ব্রেক্সিট নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি। এর আগে ডাউনিং স্ট্রিটে এক বক্তব্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি জনগণের দেয়া ভোটে নির্ধারিত ব্রেক্সিট রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য দুই বছরের চেষ্টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যে চুক্তির খসড়া মে গত মাসে তৈরি করেছেন, তাতে ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেয়া কিংবা ব্রেক্সিট প্রশ্নে আরেকটি গণভোট আয়োজনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু মের ওই খসড়া তার দলের ভেতরেই প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছে।
ওই চুক্তির খসড়া নিয়ে সোমবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হওয়ার কথা থাকলেও পরাজয় নিশ্চিত জেনে মে তা বাতিল করে দেন। কিন্তু তাতেই তার দলে বিদ্রোহ প্রকাশ্যে চলে আসে। এরপর কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের মধ্যে ইইউবিরোধীরা মের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে আস্থা ভোট ডেকে বসেন।
তবে কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের মধ্যে মধ্যে ২০০ জন তার পক্ষে ভোট দিলেও ১১৭ জন জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে ব্রিটেনের নেতা হিসেবে তারা আর টেরিজা মেকে সঠিক ব্যক্তি বলে মনে করতে পারছেন না।
অনাস্থা প্রস্তাব আনা এমপিদের নেতৃত্বে থাকা এমপি জ্যাকব রেস-মগ এই ফলাফলকে প্রধানমন্ত্রীর জন্যে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি মে’কে পদত্যাগের আহবান জানান।
বিপক্ষে থাকা আরেক এমপি অ্যান্ড্রু ব্রিজেনের মতে, এটি নতুন একজন প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে নতুন করে ব্রেক্সিট আলোচনার বড় সুযোগ হাতছাড়া হলো। তবে সাবেক মন্ত্রী ডেমিয়েন গ্রিন একে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ‘নিষ্পত্তিমূলক’ বিজয় বলে উল্লেখ করেছেন।
ব্যাক বেঞ্চ এমপি স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডি যখন আস্থা ভোটের ফল ঘোষণা করেন, তখন টোরি এমপিরা উল্লাস করেন। তবে এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়নে মে’কে পার্লামেন্টে তার বিরোধীদলসহ নিজ দলের কয়েক ডজন সদস্যের সঙ্গে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে। সূত্র: বিবিসি
বিবি/জেজে





















