০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বোলিং অলরাউন্ডারের ভিড়

তিনটা বাজতেই খেলা শেষ! ওভাবে হারার পর হোটেলে গোমড়া মুখে বসে থাকার কোনো মানে হয় না, তাই সিলেট থেকে সন্ধ্যার ফ্লাইট ধরে ওই দিন ঢাকা ফিরে আসেন দলের নয়জন। বাকিরা গতকাল কোচিং স্টাফদের সঙ্গে ঢাকা পৌঁছান। যাদের বিশ্বাস, মিরপুরে অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। ‘এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এই ছেলেরাই টেস্ট আর ওয়ানডে জিতেছে। ওরা জানে কীভাবে টি২০ জিততে হয়। আমি ব্যাটসম্যানদের ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছি না।’

টাইগারদের ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি মুখে বললেও কিছু ব্যাপার তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ক্যারিবীয়দের সঙ্গে গেম প্ল্যানটা ঠিক কাজে আসেনি। দলের একাদশ নিয়ে মুখ ফুটে তিনি কিছু না বললেও এটা পরিস্কার হয়েছে যে, শাই হোপদের বিপক্ষে অন্তত ১৭০ থেকে ১৮০ রান করতেই হবে এবং সেটা করতে গেলে বোলিং অলরাউন্ডারের ভিড় কমিয়ে একাদশে সলিড ব্যাটসম্যানের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তামিম, লিটন, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক আর মাহমুদুল্লাহ- আগের ম্যাচটিতে এভাবেই সাজানো ছিল ব্যাটিং অর্ডার। কিন্তু এরপর- আরিফুল হক, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, আবু হায়দার রনি আর মুস্তাফিজুর রহমান। দল সাজানোর সময় যদিও বলা হচ্ছে একাদশে আছেন নয় ব্যাটসম্যান! কিন্তু আদতেও কি তাই? মুস্তাফিজকে বাদ দিলে আরিফুল, সাইফউদ্দিন, মিরাজ আর আবু হায়দার রনিকেও ব্যাটসম্যান বলা হচ্ছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কতটুকু রান পাচ্ছে দল।

আধুনিক টি২০-তে স্লগ ওভারগুলোতে টেল এন্ডারও তিন ওভারে ২৫/৩০ রান করতে পারে। সেখানে টাইগারদের লেজের শক্তি যে একেবারেই দুর্বল। বোলিং অলরাউন্ডার কোটায় সাকিব ছাড়াও মিরাজ, আরিফুল আর সাইফউদ্দিনকে খেলানো হচ্ছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ পর্যন্ত সাতটি টি২০ খেলে ফেলা আরিফুল বোলিং করেছেন মাত্র ১ ওভার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ওভার বোলিং করে ১৩ রান দিয়ে একটি উইকেট তার বোলিংয়ের খতিয়ান। আর ব্যাট হাতে সাত ম্যাচে তার মোট রান ৫৯, সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৮ রান। সাতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো ছক্কা নেই, চার মেরেছেন মাত্র চারটি!

টি২০ ম্যাচে সাত নম্বরে নামা ব্যাটসম্যান যেখানে গেম চেঞ্জের ভূমিকা রাখেন, সেখানে তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সিলেটের ম্যাচেও ১৮ বলে ১৭ করেছেন। আরিফুলের মতো সাইফউদ্দিনও বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবেই দলে সুযোগ পাচ্ছেন। তিনিও সাতটি আন্তর্জাতিক টি২০ খেলে ফেলেছেন। মোট রান তার ৮৯। তবে ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি ৩টি। স্ট্রাইক রেটও মন্দ নয় ১০৯.৮। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজ থাকতেও আবু হায়দার রনিকে রাখা হয় একাদশে এই জন্য যে, তিনি নেটে অন্তত কিছু শট খেলতে পারেন। বিপিএলেও কিছু রান পেয়েছেন তিনি। কিন্তু জাতীয় দলে, ওভারপ্রতি ৮.৬ রান দিয়ে উইকেট শিকার পাঁচটি আর ব্যাট হাতে মোট ৩৬ রান।

কিন্তু প্রতিটি দলেই এ জায়গাটিতে হার্ডহিটার দেখা যায়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই যে, বাংলাদেশ দলে নিচের পাঁচ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে ইদানীং আশানুরূপ ফল মিলছে না। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে প্রথম ম্যাচটিতে ভেঙে পড়েছিল টপঅর্ডার। ৪৩ রানে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল, সেই ম্যাচে নিচের পাঁচ ব্যাটসম্যান মিলে ৪৫ বল খেলে সাকল্যে ৩৮ রান করতে পেরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রান আসে সেখানে। পরের দুটো ম্যাচে স্লগ ওভারে টপ অর্ডারের একজন থাকায় শেষ পাঁচ ওভারে ৫৫ রান এসেছিল। কোনো কোনো ম্যাচে টপঅর্ডার ভেঙে পড়তেই পারে, সেখান থেকে টেল এন্ডারদের বিস্ম্ফোরক ইনিংস খেলার অনেক উদাহরণ আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

কিন্তু টাইগাররা যেন সাত আর আট নম্বরে তেমন কাউকেই পাচ্ছে না। ফর্মে থাকার সময় সাব্বির রহমান রুম্মান ওই জায়গাটিতে দারুণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে ওই শূন্যতা আর পূরণ করতে পারেননি কেউ। বিপিএলের পারফরম্যান্স দেখে আরিফুল আর সাইফউদ্দিনের দলে আসা। কিন্তু তাদের সেই ঘরোয়া পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত অন্তত জাতীয় দলে দেখা যায়নি। ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তিত নির্বাচকরাও। শুধু ওপরের পাঁচজনকে দিয়ে দিনের পর দিন ইনিংস টেনে নেওয়ার আশা করাটা ভুল।

তাদের ব্যর্থতার দিনে যে নিচের কেউ ভালো খেলবেন, সেই ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত মেলেনি। তাই মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কথিত বোলিং অলরাউন্ডারের ভিড় কমিয়ে মোহাম্মদ মিঠুনের মতো সলিড কোনো ব্যাটসম্যানকে দেখা যেতে পারে এবং আবু হায়দার রনির জায়গায় দেখা মিলতে পারে সলিড বোলার রুবেলকে। চার বোলারের সঙ্গে ছয় ব্যাটসম্যান আর অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এভাবেই সাজানো হতে পারে মিরপুরের একাদশ।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

বোলিং অলরাউন্ডারের ভিড়

প্রকাশিত : ০৩:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

তিনটা বাজতেই খেলা শেষ! ওভাবে হারার পর হোটেলে গোমড়া মুখে বসে থাকার কোনো মানে হয় না, তাই সিলেট থেকে সন্ধ্যার ফ্লাইট ধরে ওই দিন ঢাকা ফিরে আসেন দলের নয়জন। বাকিরা গতকাল কোচিং স্টাফদের সঙ্গে ঢাকা পৌঁছান। যাদের বিশ্বাস, মিরপুরে অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। ‘এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এই ছেলেরাই টেস্ট আর ওয়ানডে জিতেছে। ওরা জানে কীভাবে টি২০ জিততে হয়। আমি ব্যাটসম্যানদের ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছি না।’

টাইগারদের ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি মুখে বললেও কিছু ব্যাপার তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ক্যারিবীয়দের সঙ্গে গেম প্ল্যানটা ঠিক কাজে আসেনি। দলের একাদশ নিয়ে মুখ ফুটে তিনি কিছু না বললেও এটা পরিস্কার হয়েছে যে, শাই হোপদের বিপক্ষে অন্তত ১৭০ থেকে ১৮০ রান করতেই হবে এবং সেটা করতে গেলে বোলিং অলরাউন্ডারের ভিড় কমিয়ে একাদশে সলিড ব্যাটসম্যানের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তামিম, লিটন, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক আর মাহমুদুল্লাহ- আগের ম্যাচটিতে এভাবেই সাজানো ছিল ব্যাটিং অর্ডার। কিন্তু এরপর- আরিফুল হক, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, আবু হায়দার রনি আর মুস্তাফিজুর রহমান। দল সাজানোর সময় যদিও বলা হচ্ছে একাদশে আছেন নয় ব্যাটসম্যান! কিন্তু আদতেও কি তাই? মুস্তাফিজকে বাদ দিলে আরিফুল, সাইফউদ্দিন, মিরাজ আর আবু হায়দার রনিকেও ব্যাটসম্যান বলা হচ্ছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কতটুকু রান পাচ্ছে দল।

আধুনিক টি২০-তে স্লগ ওভারগুলোতে টেল এন্ডারও তিন ওভারে ২৫/৩০ রান করতে পারে। সেখানে টাইগারদের লেজের শক্তি যে একেবারেই দুর্বল। বোলিং অলরাউন্ডার কোটায় সাকিব ছাড়াও মিরাজ, আরিফুল আর সাইফউদ্দিনকে খেলানো হচ্ছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ পর্যন্ত সাতটি টি২০ খেলে ফেলা আরিফুল বোলিং করেছেন মাত্র ১ ওভার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ওভার বোলিং করে ১৩ রান দিয়ে একটি উইকেট তার বোলিংয়ের খতিয়ান। আর ব্যাট হাতে সাত ম্যাচে তার মোট রান ৫৯, সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৮ রান। সাতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো ছক্কা নেই, চার মেরেছেন মাত্র চারটি!

টি২০ ম্যাচে সাত নম্বরে নামা ব্যাটসম্যান যেখানে গেম চেঞ্জের ভূমিকা রাখেন, সেখানে তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সিলেটের ম্যাচেও ১৮ বলে ১৭ করেছেন। আরিফুলের মতো সাইফউদ্দিনও বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবেই দলে সুযোগ পাচ্ছেন। তিনিও সাতটি আন্তর্জাতিক টি২০ খেলে ফেলেছেন। মোট রান তার ৮৯। তবে ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি ৩টি। স্ট্রাইক রেটও মন্দ নয় ১০৯.৮। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজ থাকতেও আবু হায়দার রনিকে রাখা হয় একাদশে এই জন্য যে, তিনি নেটে অন্তত কিছু শট খেলতে পারেন। বিপিএলেও কিছু রান পেয়েছেন তিনি। কিন্তু জাতীয় দলে, ওভারপ্রতি ৮.৬ রান দিয়ে উইকেট শিকার পাঁচটি আর ব্যাট হাতে মোট ৩৬ রান।

কিন্তু প্রতিটি দলেই এ জায়গাটিতে হার্ডহিটার দেখা যায়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই যে, বাংলাদেশ দলে নিচের পাঁচ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে ইদানীং আশানুরূপ ফল মিলছে না। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে প্রথম ম্যাচটিতে ভেঙে পড়েছিল টপঅর্ডার। ৪৩ রানে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল, সেই ম্যাচে নিচের পাঁচ ব্যাটসম্যান মিলে ৪৫ বল খেলে সাকল্যে ৩৮ রান করতে পেরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রান আসে সেখানে। পরের দুটো ম্যাচে স্লগ ওভারে টপ অর্ডারের একজন থাকায় শেষ পাঁচ ওভারে ৫৫ রান এসেছিল। কোনো কোনো ম্যাচে টপঅর্ডার ভেঙে পড়তেই পারে, সেখান থেকে টেল এন্ডারদের বিস্ম্ফোরক ইনিংস খেলার অনেক উদাহরণ আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

কিন্তু টাইগাররা যেন সাত আর আট নম্বরে তেমন কাউকেই পাচ্ছে না। ফর্মে থাকার সময় সাব্বির রহমান রুম্মান ওই জায়গাটিতে দারুণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে ওই শূন্যতা আর পূরণ করতে পারেননি কেউ। বিপিএলের পারফরম্যান্স দেখে আরিফুল আর সাইফউদ্দিনের দলে আসা। কিন্তু তাদের সেই ঘরোয়া পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত অন্তত জাতীয় দলে দেখা যায়নি। ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তিত নির্বাচকরাও। শুধু ওপরের পাঁচজনকে দিয়ে দিনের পর দিন ইনিংস টেনে নেওয়ার আশা করাটা ভুল।

তাদের ব্যর্থতার দিনে যে নিচের কেউ ভালো খেলবেন, সেই ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত মেলেনি। তাই মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কথিত বোলিং অলরাউন্ডারের ভিড় কমিয়ে মোহাম্মদ মিঠুনের মতো সলিড কোনো ব্যাটসম্যানকে দেখা যেতে পারে এবং আবু হায়দার রনির জায়গায় দেখা মিলতে পারে সলিড বোলার রুবেলকে। চার বোলারের সঙ্গে ছয় ব্যাটসম্যান আর অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এভাবেই সাজানো হতে পারে মিরপুরের একাদশ।

বিবি/রেআ