০১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

দাম না পেয়ে উৎপাদিত সবজি গর্তে ফেলছে কৃষক!

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শহরগুলোতে উৎপাদিত সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ কমেছে। এতে বেশি দামে সবজিসহ উৎপাদিত অন্যান্য পণ্য কিনতে নাগরিকদের। অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতে সমস্যায় পড়েছে কৃষক। লকডাউন অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনের সমস্যাতো রয়েছেই, এরপরেও কষ্ট করে মোকামে নিয়ে আসা পণ্যেরও উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না তারা। এ অবস্থায় নিজেদের উৎপাদিত পণ্য জমির পাশেই গর্ত করে ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছে কৃষক। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার শষ্যভাণ্ডার খ্যাত আলীরটেক-বক্তাবলী ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

নগরীর আল্লামা ইকবাল রোডে সবজি বিক্রি করেন নূরে আলম। এমনিতে তিনি গার্মেন্টস শ্রমিক। তবে করোনার কারণে গার্মেন্টস বন্ধ থাকায়, তিনি সবজি বিক্রিতে নেমেছেন। দেশি বেগুন বিক্রি করছিলেন ৬০ টাকায়, টমেটো, উস্তা, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি করছিলেন ৪০-৫০ টাকায়। সবজির দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে নূরে আলম বলেন, শহরে সবজি কম আসছে। যে কারণে ভোরবেলা নগরীর একমাত্র পাইকারি বাজার দ্বিগুবাবুর বাজারে গিয়ে সবজি ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে হয়। তবে এটাও ঠিক এত কষ্ট করে সংগ্রহ করা সবজিও প্রতিদিন সব বিক্রি হয় না।

এরপর সবজির পাইকারী বাজারের খোঁজে যাওয়া হয় নারায়ণগঞ্জের নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল বক্তাবলীতে-আলীরটেকে। বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগরে বসে এ এলাকার সবচেয়ে বড় সবজির মোকাম। অন্য সময় মোকাম বেলা ১০টা পর্যন্ত চললেও, এখন সকাল ৮টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। কৃষকরা দাম পায় না, পরিবহনে অসুবিধা। তাই মোকামে সবজি আনা কৃষকের সংখ্যা কমে গেছে।

মোকামের একটু পর থেকেই শুরু একরের পর একর সবজি জমির। জমিতে ফলেছে বেগুন, টমেটো, ভুট্টা, পোটল, ডাটাসহ নানা সবজি। এর কোনোটা পেকে পচে যাচ্ছে। কোনোটা পচে মিশে গেছে মাটির সঙ্গে।

তরুণ কৃষক আসাদুল্লাহদের জমির পাশেই একটা গর্তে প্রচুর বেগুন পড়ে উঁচু হয়ে আছে। আসাদুল্লাহ বেগুন সরিয়ে দেখালো বেগুনের স্তুপের নিচে আছে টমেটো আর উস্তা।

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের শুরুতে বক্তাবলী-আলীরটেকের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরের যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রশাসন। তখন পচতে থাকে বিভিন্ন ধরনের সবজি। মণকে মণ টমেটো, উস্তা, বেগুন মাঠের পাশের গর্তে ফেলে দেন আসাদুল্লা ও তার পরিবার।’

বক্তাবলীতে ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন সবজির জমির পাশেই এমন গর্ত। ভালো দাম না পাওয়ায় এবং বিক্রি করতে না পারায় এসব গর্তই হচ্ছে উৎপাদিত সবজির ঠিকানা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

ইরানে বোমা অপসারণের সময় বিস্ফোরণে ১৪ আইআরজিসি সদস্য নিহত

দাম না পেয়ে উৎপাদিত সবজি গর্তে ফেলছে কৃষক!

প্রকাশিত : ০৫:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শহরগুলোতে উৎপাদিত সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ কমেছে। এতে বেশি দামে সবজিসহ উৎপাদিত অন্যান্য পণ্য কিনতে নাগরিকদের। অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতে সমস্যায় পড়েছে কৃষক। লকডাউন অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনের সমস্যাতো রয়েছেই, এরপরেও কষ্ট করে মোকামে নিয়ে আসা পণ্যেরও উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না তারা। এ অবস্থায় নিজেদের উৎপাদিত পণ্য জমির পাশেই গর্ত করে ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছে কৃষক। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার শষ্যভাণ্ডার খ্যাত আলীরটেক-বক্তাবলী ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

নগরীর আল্লামা ইকবাল রোডে সবজি বিক্রি করেন নূরে আলম। এমনিতে তিনি গার্মেন্টস শ্রমিক। তবে করোনার কারণে গার্মেন্টস বন্ধ থাকায়, তিনি সবজি বিক্রিতে নেমেছেন। দেশি বেগুন বিক্রি করছিলেন ৬০ টাকায়, টমেটো, উস্তা, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি করছিলেন ৪০-৫০ টাকায়। সবজির দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে নূরে আলম বলেন, শহরে সবজি কম আসছে। যে কারণে ভোরবেলা নগরীর একমাত্র পাইকারি বাজার দ্বিগুবাবুর বাজারে গিয়ে সবজি ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে হয়। তবে এটাও ঠিক এত কষ্ট করে সংগ্রহ করা সবজিও প্রতিদিন সব বিক্রি হয় না।

এরপর সবজির পাইকারী বাজারের খোঁজে যাওয়া হয় নারায়ণগঞ্জের নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল বক্তাবলীতে-আলীরটেকে। বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগরে বসে এ এলাকার সবচেয়ে বড় সবজির মোকাম। অন্য সময় মোকাম বেলা ১০টা পর্যন্ত চললেও, এখন সকাল ৮টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। কৃষকরা দাম পায় না, পরিবহনে অসুবিধা। তাই মোকামে সবজি আনা কৃষকের সংখ্যা কমে গেছে।

মোকামের একটু পর থেকেই শুরু একরের পর একর সবজি জমির। জমিতে ফলেছে বেগুন, টমেটো, ভুট্টা, পোটল, ডাটাসহ নানা সবজি। এর কোনোটা পেকে পচে যাচ্ছে। কোনোটা পচে মিশে গেছে মাটির সঙ্গে।

তরুণ কৃষক আসাদুল্লাহদের জমির পাশেই একটা গর্তে প্রচুর বেগুন পড়ে উঁচু হয়ে আছে। আসাদুল্লাহ বেগুন সরিয়ে দেখালো বেগুনের স্তুপের নিচে আছে টমেটো আর উস্তা।

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের শুরুতে বক্তাবলী-আলীরটেকের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরের যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রশাসন। তখন পচতে থাকে বিভিন্ন ধরনের সবজি। মণকে মণ টমেটো, উস্তা, বেগুন মাঠের পাশের গর্তে ফেলে দেন আসাদুল্লা ও তার পরিবার।’

বক্তাবলীতে ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন সবজির জমির পাশেই এমন গর্ত। ভালো দাম না পাওয়ায় এবং বিক্রি করতে না পারায় এসব গর্তই হচ্ছে উৎপাদিত সবজির ঠিকানা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর