০২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

তাড়াশ থেকে নারায়নগঞ্জ গিয়ে করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন ডা. মশিউর

দেশের ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা রোগীদের সেবাদানের জন্য আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা নিবেদিত হাসপাতাল সমূহে সরকারি ডাক্তারদের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আমি ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা টিমে বদলি হয়ে করোনা রোগীদের সেবা করতে ইচ্ছুক।’এটি একজন চিকিৎসকের আবেদন।

 

তিনি সহকারি সার্জন ডা. মশিউর রহমান। তাঁর এই আবেদনটি পুরো স্বাস্থ্য বিভাগেই নাড়া দেয়। আবেদন গৃহীত হয়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওই চিকিৎসক এখন নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

মশিউর রহমান ৩০ এপ্রিল থেকে হাসপাতালটিতে সংযুক্তি হিসেবে কর্মরত আছেন। কখনো করোনা সন্দেহে আসা রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আবার কখনো আইসোলশনে থাকা অন্তত ৭০ রোগীর দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

ডা. মশিউর রহমান বলেন, ‘মরতে তো হবেই। মরবো যখন ভালো পথেই মরি”। মানুষের সেবা করেই মরি। আমার নানা সুবেদার হাবিবুর রহমান (বীর উত্তম) দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে ৪৬ বছর পঙ্গুতের সঙ্গে লড়েছেন। নানার কাছ থেকে অনেক শিক্ষা পেয়েছি। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারি নি সংগত কারণেই। তাই ভেবেছি দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে করোনার সঙ্গে যুদ্ধটা চালিয়ে যাই।’ বদলি হওয়ার আবেদনেও উল্লেখ আছে নানার বীরত্বের কথা।

 

ডা. মশিউর রহমানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দিতে। সাবেক সরকারি চাকুরে (বিজিবি’র ক্লার্ক) মো. বজলুর রহমান ও গৃহিনী শিরিনা আক্তার এর বড় ছেলে তিনি। সংসারে বাবা, মা ছাড়াও দুই ভাই ও এক বোন আছেন। মশিউর রহমান ৩৯তম বিসিএস ক্যাডার। এক ভাই আইন পেশায় জড়িত, আরেক ভাই পড়াশুনা করছেন। একমাত্র বোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

মশিউর রহমানের নানার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মৈন্দ গ্রামে। তাঁর নানা হাবিবুর রহমান (বীর উত্তম) মুক্তিযুদ্ধের একজন বীরসেনানী। ঢাকার নিউ মার্কেটে হাবিবুর রহমানের নামে একটি গেইট রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ
ট্যাগ :

তাড়াশ থেকে নারায়নগঞ্জ গিয়ে করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন ডা. মশিউর

প্রকাশিত : ০৩:১৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২০

দেশের ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা রোগীদের সেবাদানের জন্য আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা নিবেদিত হাসপাতাল সমূহে সরকারি ডাক্তারদের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আমি ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা টিমে বদলি হয়ে করোনা রোগীদের সেবা করতে ইচ্ছুক।’এটি একজন চিকিৎসকের আবেদন।

 

তিনি সহকারি সার্জন ডা. মশিউর রহমান। তাঁর এই আবেদনটি পুরো স্বাস্থ্য বিভাগেই নাড়া দেয়। আবেদন গৃহীত হয়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওই চিকিৎসক এখন নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

মশিউর রহমান ৩০ এপ্রিল থেকে হাসপাতালটিতে সংযুক্তি হিসেবে কর্মরত আছেন। কখনো করোনা সন্দেহে আসা রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আবার কখনো আইসোলশনে থাকা অন্তত ৭০ রোগীর দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

ডা. মশিউর রহমান বলেন, ‘মরতে তো হবেই। মরবো যখন ভালো পথেই মরি”। মানুষের সেবা করেই মরি। আমার নানা সুবেদার হাবিবুর রহমান (বীর উত্তম) দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে ৪৬ বছর পঙ্গুতের সঙ্গে লড়েছেন। নানার কাছ থেকে অনেক শিক্ষা পেয়েছি। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারি নি সংগত কারণেই। তাই ভেবেছি দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে করোনার সঙ্গে যুদ্ধটা চালিয়ে যাই।’ বদলি হওয়ার আবেদনেও উল্লেখ আছে নানার বীরত্বের কথা।

 

ডা. মশিউর রহমানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দিতে। সাবেক সরকারি চাকুরে (বিজিবি’র ক্লার্ক) মো. বজলুর রহমান ও গৃহিনী শিরিনা আক্তার এর বড় ছেলে তিনি। সংসারে বাবা, মা ছাড়াও দুই ভাই ও এক বোন আছেন। মশিউর রহমান ৩৯তম বিসিএস ক্যাডার। এক ভাই আইন পেশায় জড়িত, আরেক ভাই পড়াশুনা করছেন। একমাত্র বোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

মশিউর রহমানের নানার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মৈন্দ গ্রামে। তাঁর নানা হাবিবুর রহমান (বীর উত্তম) মুক্তিযুদ্ধের একজন বীরসেনানী। ঢাকার নিউ মার্কেটে হাবিবুর রহমানের নামে একটি গেইট রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ