০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পুলিশ এসোসিয়েশন

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানায় গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ন্যাক্কারজনক আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ৮ জুলাই ২০২৬ খ্রি. বুধবার সন্ধ্যায় বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৬) নামে চুরি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আটক রিয়াজ ফকির মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মাদক মামলাও রয়েছে। থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি মাদকের প্রভাবে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে ৯ জুলাই ২০২৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে একদল উত্তেজিত ব্যক্তি প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে। গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচারপ্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতিও সরাসরি আঘাত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনকালে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে থাকেন। কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের আগেই গুজব ছড়িয়ে জনতাকে উত্তেজিত করা, থানায় হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

যদি কোনো ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে অসুস্থ হন, আহত হন বা অন্য কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তবে তার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্তের যথাযথ ব্যবস্থা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা গুজবের ভিত্তিতে সহিংসতা সৃষ্টি করা বিচারপ্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ণ করে।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন মনে করে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা, গুজবনির্ভর উসকানি এবং পুলিশের মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে অবৈধ উদ্দেশ্য বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করতে পারে-এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, গুজবের উৎস শনাক্ত এবং হামলার পেছনে কোনো পরিকল্পিত উসকানি বা সংগঠিত ভূমিকা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। আমরা হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে প্রচলিত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে গুজব ছড়ানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে-যাচাইবিহীন তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনকে শ্রদ্ধা করুন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন এবং যেকোনো অভিযোগ বা অসন্তোষের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করুন।

রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, সংযম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।

ডিএস./

 

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিমানবন্দরের রানওয়ে সুরক্ষায় ১২ নম্বর খাল পুনঃখনন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পুলিশ এসোসিয়েশন

প্রকাশিত : ০৩:২৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানায় গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ন্যাক্কারজনক আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ৮ জুলাই ২০২৬ খ্রি. বুধবার সন্ধ্যায় বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৬) নামে চুরি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আটক রিয়াজ ফকির মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মাদক মামলাও রয়েছে। থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি মাদকের প্রভাবে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে ৯ জুলাই ২০২৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে একদল উত্তেজিত ব্যক্তি প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে। গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচারপ্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতিও সরাসরি আঘাত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনকালে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে থাকেন। কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের আগেই গুজব ছড়িয়ে জনতাকে উত্তেজিত করা, থানায় হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

যদি কোনো ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে অসুস্থ হন, আহত হন বা অন্য কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তবে তার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্তের যথাযথ ব্যবস্থা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা গুজবের ভিত্তিতে সহিংসতা সৃষ্টি করা বিচারপ্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ণ করে।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন মনে করে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা, গুজবনির্ভর উসকানি এবং পুলিশের মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে অবৈধ উদ্দেশ্য বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করতে পারে-এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, গুজবের উৎস শনাক্ত এবং হামলার পেছনে কোনো পরিকল্পিত উসকানি বা সংগঠিত ভূমিকা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। আমরা হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে প্রচলিত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে গুজব ছড়ানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে-যাচাইবিহীন তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনকে শ্রদ্ধা করুন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন এবং যেকোনো অভিযোগ বা অসন্তোষের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করুন।

রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, সংযম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।

ডিএস./