০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। প্রতিবছরের ন্যায়ে এবারও হালদা নদীতে উৎসব মুখুর পরিবেশে ডিম সংগ্রহ করছেন স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরা।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকে মা মাছ হালদা নদীতে পরিপূর্ণভাবে ডিম ছাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ডিমসংগ্রহকারীও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবছরের চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে পূর্ণিমা-অমাবস্যার তিথিতে বৃস্টি হলে পাহাড়ী ঢল নামলে ও তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে কার্প জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার প্রায় ৯৮ কিলোমিটার ‍দীর্ঘ এলাকাজুড়ে এবং ফটিকছড়ি উপজেলার কিছু অংশ রয়েছে হালদা নদী।
দুই উপজেলায় হালদা নদীর সত্তার ঘাট, অংকুরী ঘোনা, মদুনাঘাট, গড়দুয়ারা, কান্তার আলী চৌধুরী ঘাট, নাপিতের ঘোনা ও মার্দাশা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মা মাছ ডিম ছেড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আর ডিম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে হালদা পাড়ে বসেছে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলা। দুই উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞসহ রয়েছেন তাদের সাথে।

ডিমসংগ্রহকারী মো:জামশেদ জানান, ‘২শত থেকে ২৫০টি নৌকা নিয়ে ৭ হতে ৮ শত জন সংগ্রহকারী ডিমসংগ্রহ করতে এখন নদীতে আছি । ডিম সংগ্রহ মোটামুটি ভাল হচ্ছে । তবে কি পরিমাণ নৌকায় ডিম সংগ্রহ হয়েছে সেটা সন্ধ্যার পর জানা যাবে।’আশা করছি ভালো পরিমাণে ডিম এবার সংগ্রহ করতে পারব।’


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে জানান , সাধারণত পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথিতে ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢল নামলেই মা মাছ ডিম ছাড়ে।
সকাল হতে হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করেছে তবে সন্ধ্যা পর মৎস্য অধিদপ্তর ও আইডিএফ ও স্থানীয় প্রশাসনে সাথে বসে জানা যাবে কি পরিমান ডিম সংগ্রহ হয়েছে। আশা করছি গতবছরে তুলনা এবছর ভালো পাওয়া যেতে পারে।

হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমিন জানান, এই বছর আমরা সর্বত্মক চেস্টা করেছি গত বছরে তুলনায় এই বছর বেশী ডিম সংগ্রহ করার। সন্ধ্যার পর হালদা সঙ্গে সপৃংক্ত আছেন যারা, তাদের সাথে বসে কি পরিমান ডিম সংগ্রহ হয়েছে তা পরিসংখ্যান করে আপনাদেরকে জানানো হবে।

এছাড়া তিনি আরো জানান, ডিম হতে রেণু ফোটানো হবে। পরিচর্যার মধ্য দিয়ে সেই ডিম থেকে পোনা হবে। ডিম ফোটানোর জন্য তিনটি হ্যাচারি ও ৬০টি কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরও কুয়া প্রস্তুত আছে।’

উল্লেখ্য , গত বছর প্রায় ৬-৭ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল হালদা থেকে। ২০১৮ সালে স্থানীয়রা ডিম সংগ্রহ করেছিলেন ২২ হাজার ৬৮০ কেজি।

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক

 

ট্যাগ :

ফাঁকিকৃত ৫৩২ কোটি টাকার আয়কর আদায় করলো আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট

হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ

প্রকাশিত : ০৮:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২০
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। প্রতিবছরের ন্যায়ে এবারও হালদা নদীতে উৎসব মুখুর পরিবেশে ডিম সংগ্রহ করছেন স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরা।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকে মা মাছ হালদা নদীতে পরিপূর্ণভাবে ডিম ছাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ডিমসংগ্রহকারীও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবছরের চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে পূর্ণিমা-অমাবস্যার তিথিতে বৃস্টি হলে পাহাড়ী ঢল নামলে ও তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে কার্প জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার প্রায় ৯৮ কিলোমিটার ‍দীর্ঘ এলাকাজুড়ে এবং ফটিকছড়ি উপজেলার কিছু অংশ রয়েছে হালদা নদী।
দুই উপজেলায় হালদা নদীর সত্তার ঘাট, অংকুরী ঘোনা, মদুনাঘাট, গড়দুয়ারা, কান্তার আলী চৌধুরী ঘাট, নাপিতের ঘোনা ও মার্দাশা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মা মাছ ডিম ছেড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আর ডিম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে হালদা পাড়ে বসেছে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলা। দুই উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞসহ রয়েছেন তাদের সাথে।

ডিমসংগ্রহকারী মো:জামশেদ জানান, ‘২শত থেকে ২৫০টি নৌকা নিয়ে ৭ হতে ৮ শত জন সংগ্রহকারী ডিমসংগ্রহ করতে এখন নদীতে আছি । ডিম সংগ্রহ মোটামুটি ভাল হচ্ছে । তবে কি পরিমাণ নৌকায় ডিম সংগ্রহ হয়েছে সেটা সন্ধ্যার পর জানা যাবে।’আশা করছি ভালো পরিমাণে ডিম এবার সংগ্রহ করতে পারব।’


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে জানান , সাধারণত পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথিতে ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢল নামলেই মা মাছ ডিম ছাড়ে।
সকাল হতে হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করেছে তবে সন্ধ্যা পর মৎস্য অধিদপ্তর ও আইডিএফ ও স্থানীয় প্রশাসনে সাথে বসে জানা যাবে কি পরিমান ডিম সংগ্রহ হয়েছে। আশা করছি গতবছরে তুলনা এবছর ভালো পাওয়া যেতে পারে।

হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমিন জানান, এই বছর আমরা সর্বত্মক চেস্টা করেছি গত বছরে তুলনায় এই বছর বেশী ডিম সংগ্রহ করার। সন্ধ্যার পর হালদা সঙ্গে সপৃংক্ত আছেন যারা, তাদের সাথে বসে কি পরিমান ডিম সংগ্রহ হয়েছে তা পরিসংখ্যান করে আপনাদেরকে জানানো হবে।

এছাড়া তিনি আরো জানান, ডিম হতে রেণু ফোটানো হবে। পরিচর্যার মধ্য দিয়ে সেই ডিম থেকে পোনা হবে। ডিম ফোটানোর জন্য তিনটি হ্যাচারি ও ৬০টি কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরও কুয়া প্রস্তুত আছে।’

উল্লেখ্য , গত বছর প্রায় ৬-৭ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল হালদা থেকে। ২০১৮ সালে স্থানীয়রা ডিম সংগ্রহ করেছিলেন ২২ হাজার ৬৮০ কেজি।

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক