বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস নিস্তব্ধ ও অচল করে দিয়েছে গোটা বিশ্ব। তারই ছোবলে আজ আতঙ্কে গৃহবন্দি বাংলাদেশের মানুষ। ইট পাথরের বৃহদাকার রাস্তাগুলো আজ যানবাহন ও জনমানবশূন্য। সবকিছুই যেন প্রাণহীন।
বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেয়া মরণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমনে ও জীবনের ঝুকি নিয়ে উপজেলার আটারো টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় চষে বেড়াচ্ছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সায়েদুল আরেফিন।
ফটিকছড়ি উপজেলার সাত লক্ষ মানুষকে সুস্থ রাখতে হবে। তাই সর্বসাধারণকে সুস্থ রাখতে ঘরে রাখতে দিন রাত উপজেলা জুড়ে চলাচ্ছেন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন।
গত দুই মাস ধরে করোনাভাইরাসের সংকট মোকাবেলায় এভাবেই চলছে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সায়েদুল আরেফিন’র নিত্য নৈমিত্যিক কর্মকাণ্ড।
উপজেলায় বহিরাগত প্রবেশ বন্ধ করতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সরকারী নিদের্শনা মেনে উপজেলাকে লকডাউন ঘোষনা করেছেন।
উপজেলার গুরুত্বপূর্ন স্থানে চেকপোষ্ট বসিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছেন তিনি। লকডাউন ঘোষনার পূর্বেই বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যক্তিদের যত্রতত্র জায়গায় ঘোরাফেরা না করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন।
কখনো করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফন বা সৎকার করতে ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন, আবার কখনো মানুষের ভয়কে জয় করতে ছুটছেন।
আবার কখনো খাবারের থলি নিয়ে ছুটছেন অসহায়, দুস্থ নিন্ম কিংবা মধ্যবিত্তদের বাড়ি বাড়ি। আবার কখনো লকডাউন নিশ্চিত করতে পথে প্রান্তরে ছুটছেন।
কখনো অসাধু ব্যাবসায়ীদের কবল থেকে মানুষকে রক্ষায় বাজার মনিটরিং বা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসাচ্ছেন।
গুজব রুখতে নজর দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এছাড়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং হোম কোয়ারেন্টাইন আইন অমান্যকারী ব্যক্তিদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি না করতে ব্যবসায়ীদের কঠোর নিদের্শনা প্রদান করেন তিনি।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখছেন তিনি। তারপরও আবার দেখা যায় গভীর রাতেও সরকারী বার্তা, জনসচেতনামূলক পরামর্শ প্রদান করছে তিনি।
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে উপজেলার কাচা বাজার স্কুল-কলেজ মাঠে হস্থান্তর করেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকান পাট বন্ধ, গ্রামের চা দোকানে জনসমাগম এড়িয়ে চলা নিরোধ করে প্রশংসীয় ভূমিকা পালন করেন। কোথাও কোনো সমাগম বা চা দোকান খোলার খবর পেলেই ছুটে যান সেখানে।
সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের এর পরামর্শ ও নির্দেশনায় ইউএনও”র উদ্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ও জেলা প্রশাসকের ত্রান তহবিলে বেসরকারি ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত অনুদান হতে খাদ্য সামগ্রী ফোন পেলেই পৌঁছে দিচ্ছিন উপজেলা মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার যাদের ঘরে এই মুহুর্তে খাবার নেই।
কিন্তু সংকোচে কাউকে বলতে পারছেন না তাদেরকে বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদান করছেন। আবার কখনও নিজ দায়িত্বে মানুষের বাড়ির দরজায় গিয়ে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সায়েদুল আরেফির এর নেতৃত্বে বিশেষ নাম্বারে ফোন দিলেই মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্যাকেজ উপজেলার সরকারী কর্মকর্তাদের তত্তাবধানে যাচাই-বাচাই করে পরিচয় গোপন রেখে পৌছে দেয়া হচ্ছে বাড়িতে বাড়িতে।
করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন মানুষের খাদ্য সমস্যায় সহায়তা হিসেবে উপজেলাবাসীকে সরকারিভাবে চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দের বিষয়ে জনগণ ও কখনো করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফন বা সৎকার করতে ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন, আবার কখনো মানুষের ভয়কে জয় করতে ছুটছেন। আবার কখনো খাবারের থলি নিয়ে ছুটছেন অসহায়, দুস্থ নিন্ম কিংবা মধ্যবিত্তদের বাড়ি বাড়ি। আবার কখনো লকডাউন নিশ্চিত করতে পথে প্রান্তরে ছুটছেন। কখনো অসাধু ব্যাবসায়ীদের কবল থেকে মানুষকে রক্ষায় বাজার মনিটরিং বা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসাচ্ছেন। গুজব রুখতে নজর দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মধ্যে যাতে কোন ভুল বোঝাবুঝি না হয় সেজন্য শুদ্ধাচারের অংশ হিসেবে জনগণের নিকট সঠিক জবাবদিহিতা বজায় রাখতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা তুলে ধরছেন জেলা প্রশাসক ।

সকল কিছুকে ছাপিয়ে সর্বশেষ গতকাল ৩১ মে (রবিবার) থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত এক বাচ্চাকে বাঁচাতে নিজেই রক্ত দিয়ে অনুকরণীয় নজির স্থাপন করলেন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।
উপজেলাজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সমর্পণ করে দেয়ায় সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
একই মানুষের দিনরাত একসাথে এতো দায়িত্ব পালন, এ যেন গল্প-সিনেমার হিরোদেরকেও হার মানায়।
সবকিছু ছাপিয়ে তার অতিমানবিক গুণ ও কর্মদক্ষতায় তিনি ফটিকছড়ির সবার মাঝে হয়ে উঠেছেন একজন ‘বাস্তব জীবনের সুপার হিরো’।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সায়েদুল আরেফিন বলেন, এটি আমার ওপর অর্পিত সরকারী দায়িত্ব। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করছি।
বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক




















