০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁয় আবারো সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড

উত্তরের হিমেল বাতাস বয়ে যাওয়ায় নওগাঁয় এ দিনের ব্যবধানে আবারো সারাদেশের মধ্যে সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯ টায় জেলায় বদলগাছী আবহাওয়া অফিসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধে ও ভোরে ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে ঠান্ডা জণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে ১০ বেডের পরিবর্তে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে দুই/তিন গুণ। ফলে ঠান্ডায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে একই বেডে ২/৩ জন করে থাকতে হচ্ছে।
জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। যা গত তিন দিনের চেয়ে নওগাঁয় বেশ কম। তবে, সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেছে। সন্ধ্যা থেকে রাতভর কুয়াশা আর সকালে সূর্য ওঠার কারণে কয়েক দিন ধরেই দিন ও রাতের তাপমাত্রার ওঠানামা করছে। আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষকেরা জানান, সন্ধ্যা থেকে রাতভর হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিসের টেলিফোন অপারেটর রিপন আহম্মেদ বলেন, সকাল ৯টায় নওগাঁয় দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবারও নওগাঁয় জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
শীতের দাপট বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। সময়মত কাজে যেতে পারছেন না তারা। সন্ধে ও ভোরে ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানবাহন দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অপরদিকে নওগাঁয় সদর হাসপাতালেসহ জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডা জণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ১০ বেডের পরিবর্তে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে দুই/তিন গুণ। ফলে ঠান্ডায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে একই বেডে ২/৩ জন করে থাকতে হচ্ছে স্বজনদের। ঠান্ডায় আক্রান্ত রোগিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
নওগাঁ শহরের রিক্স চালক আবু বক্কর, মিনহাজ রহমান, শ্রমিক বেলাল উদ্দিন জানান, উত্তরাঞ্চালের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্য প্রবাহে নওগাঁয় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। দুপূরের দিকে একটু সূর্যের দেখা মিললেও সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের ঠান্ডায় তাদের মতো খেটে মানুষরা কাহিল হয়ে পরেছেন। এর পাশাপাশি বৃদ্ধ ও শিশুরা কাহিল হয়ে পরেছে।
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা: এবিএম আবু হানিফ জানান, নওগাঁর ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডা জণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা কম থাকায় রোগিদের সমস্য হলেও চিকিৎসার কোন সমস্য নেই।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সারাদেশে ব‍্যাপি চাঁদাবাজদের তালিকা করছে: র‍্যাব

নওগাঁয় আবারো সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড

প্রকাশিত : ০৪:০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১

উত্তরের হিমেল বাতাস বয়ে যাওয়ায় নওগাঁয় এ দিনের ব্যবধানে আবারো সারাদেশের মধ্যে সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯ টায় জেলায় বদলগাছী আবহাওয়া অফিসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধে ও ভোরে ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে ঠান্ডা জণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে ১০ বেডের পরিবর্তে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে দুই/তিন গুণ। ফলে ঠান্ডায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে একই বেডে ২/৩ জন করে থাকতে হচ্ছে।
জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। যা গত তিন দিনের চেয়ে নওগাঁয় বেশ কম। তবে, সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেছে। সন্ধ্যা থেকে রাতভর কুয়াশা আর সকালে সূর্য ওঠার কারণে কয়েক দিন ধরেই দিন ও রাতের তাপমাত্রার ওঠানামা করছে। আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষকেরা জানান, সন্ধ্যা থেকে রাতভর হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিসের টেলিফোন অপারেটর রিপন আহম্মেদ বলেন, সকাল ৯টায় নওগাঁয় দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবারও নওগাঁয় জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
শীতের দাপট বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। সময়মত কাজে যেতে পারছেন না তারা। সন্ধে ও ভোরে ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানবাহন দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অপরদিকে নওগাঁয় সদর হাসপাতালেসহ জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডা জণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ১০ বেডের পরিবর্তে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে দুই/তিন গুণ। ফলে ঠান্ডায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে একই বেডে ২/৩ জন করে থাকতে হচ্ছে স্বজনদের। ঠান্ডায় আক্রান্ত রোগিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
নওগাঁ শহরের রিক্স চালক আবু বক্কর, মিনহাজ রহমান, শ্রমিক বেলাল উদ্দিন জানান, উত্তরাঞ্চালের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্য প্রবাহে নওগাঁয় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। দুপূরের দিকে একটু সূর্যের দেখা মিললেও সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের ঠান্ডায় তাদের মতো খেটে মানুষরা কাহিল হয়ে পরেছেন। এর পাশাপাশি বৃদ্ধ ও শিশুরা কাহিল হয়ে পরেছে।
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা: এবিএম আবু হানিফ জানান, নওগাঁর ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডা জণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা কম থাকায় রোগিদের সমস্য হলেও চিকিৎসার কোন সমস্য নেই।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ