১০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

কিউবায় ছয় দশকের কাস্ত্রো যুগের অবসান

মহামারির সঙ্গে দেশ যখন ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে, ঠিক তখন কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ৮৯ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো। স্থানীয় সময় শুক্রবার দলীয় কংগ্রেসে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টম কংগ্রেসে রাউল কাস্ত্রোর দলীয় সেক্রেটারির পদ ছাড়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে কিউবায় ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা কাস্ত্রো যুগের অবসান হচ্ছে। রাউল অবশ্য বলেছেন, অপেক্ষাকৃত তরুণদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য পদ ছাড়ছেন তিনি। ২০১৮ সালে রাউল প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ৬০ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল। রাউল কাস্ত্রোর বড় ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার গোড়াপত্তন ঘটে। চার দিনের দলীয় কংগ্রেসের প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার এক ভাষণে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে রাউল কাস্ত্রো বলেন, ‘ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব শেষ করেছি। নবীন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বের ভার তুলে দিতেই আমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ভাষণে রাউল বলেন, তার আশা নবীন নেতৃত্ব নিখাদ আবেগ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনায় দলকে এগিয়ে নেবে এবং দলীয় আদর্শের প্রতি অনুগত থাকবে। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬২ সাল থেকে বাণিজ্য অবরোধ দিয়ে রেখেছে। তবে একদলীয় শাসনব্যবস্থার দেশ কিউবায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান অর্থাৎ ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন সে সম্পর্কে কিছু বলেননি রাউল কাস্ত্রো। তবে তিনি উত্তরসূরী হিসেবে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেলের নাম ইঙ্গিত করেছিলেন। শুক্রবার রাজধানী হাভানায় দলের কয়েকশ প্রতিনিধির সামনে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে রাউল বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি, পিতৃভূমি, বিপ্লব ও সমাজতন্ত্র রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকবো।’ ওই ভাষণে তিনি প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেলের প্রশংসাও করেছেন। ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে কিউবার যে ‘ঐতিহাসিক প্রজন্ম’ মার্কিন সমর্থিত তৎকালীন স্বৈরশাসক বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটিয়েছিল, রাউল কাস্ত্রোর এমন ঘোষণার মধ্য দিয়ে কিউবায় সেই প্রজন্মের নেতৃত্বের অবসান ঘটতে চলেছে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ফিদেল কাস্ত্রো কিউবার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর স্বাস্থ্যগত কারণে ২০০৮ সালে ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ২০১৬ সালে মৃত্যু হয় ফিদেল কাস্ত্রোর।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি

কিউবায় ছয় দশকের কাস্ত্রো যুগের অবসান

প্রকাশিত : ১২:০১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১

মহামারির সঙ্গে দেশ যখন ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে, ঠিক তখন কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ৮৯ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো। স্থানীয় সময় শুক্রবার দলীয় কংগ্রেসে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টম কংগ্রেসে রাউল কাস্ত্রোর দলীয় সেক্রেটারির পদ ছাড়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে কিউবায় ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা কাস্ত্রো যুগের অবসান হচ্ছে। রাউল অবশ্য বলেছেন, অপেক্ষাকৃত তরুণদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য পদ ছাড়ছেন তিনি। ২০১৮ সালে রাউল প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ৬০ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল। রাউল কাস্ত্রোর বড় ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার গোড়াপত্তন ঘটে। চার দিনের দলীয় কংগ্রেসের প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার এক ভাষণে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে রাউল কাস্ত্রো বলেন, ‘ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব শেষ করেছি। নবীন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বের ভার তুলে দিতেই আমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ভাষণে রাউল বলেন, তার আশা নবীন নেতৃত্ব নিখাদ আবেগ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনায় দলকে এগিয়ে নেবে এবং দলীয় আদর্শের প্রতি অনুগত থাকবে। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬২ সাল থেকে বাণিজ্য অবরোধ দিয়ে রেখেছে। তবে একদলীয় শাসনব্যবস্থার দেশ কিউবায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান অর্থাৎ ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন সে সম্পর্কে কিছু বলেননি রাউল কাস্ত্রো। তবে তিনি উত্তরসূরী হিসেবে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেলের নাম ইঙ্গিত করেছিলেন। শুক্রবার রাজধানী হাভানায় দলের কয়েকশ প্রতিনিধির সামনে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে রাউল বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি, পিতৃভূমি, বিপ্লব ও সমাজতন্ত্র রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকবো।’ ওই ভাষণে তিনি প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেলের প্রশংসাও করেছেন। ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে কিউবার যে ‘ঐতিহাসিক প্রজন্ম’ মার্কিন সমর্থিত তৎকালীন স্বৈরশাসক বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটিয়েছিল, রাউল কাস্ত্রোর এমন ঘোষণার মধ্য দিয়ে কিউবায় সেই প্রজন্মের নেতৃত্বের অবসান ঘটতে চলেছে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ফিদেল কাস্ত্রো কিউবার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর স্বাস্থ্যগত কারণে ২০০৮ সালে ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ২০১৬ সালে মৃত্যু হয় ফিদেল কাস্ত্রোর।