১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

রূপগঞ্জে ঝালমুড়ির ব্যবসা হারিয়ে দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকার চা বিক্রি করেন হেলাল মিয়া!

হেলাল মিয়া!

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে ভুলতা এলাকায় অতি পরিচিত মুখ হেলাল মিয়া । সবাই তাকে ‘চা হেলাল’ নামেই চেনেন। রূপগঞ্জে ভুলতা এলাকায় এপাশ থেকে ওপাশ তার অগাধ বিচরণ। ফোন পেলেই তিনি দু’হাতে চায়ের ফ্লাক্স ও ব্যাগ নিয়ে হাজির হন বিভিন্ন দোকানে বা অফিসে। লাল চা ও দুধ চায়ের সাথে থাকে ।
হেলাল হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে। বাবা পেশায় কৃষক। মা মরিচমতি বেগম গৃহিণী। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হেলাল তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। অল্প-শিক্ষিত বাবার অর্থনৈতিক দুর্বলতা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখতে দেয়নি। তবুও হেলাল পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নিজের চেষ্টায় পড়েছেন।

পরে হেলাল জীবিকা নির্বাহের তাগিদে চলে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায়। এখানে সে ঘুরে-ঘুরে জাল মুড়ির বিক্রি করতেন । কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে হেলাল মুড়িবিক্রি ছেড়ে দেয় । এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন। স্ত্রী নিয়ে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন, সে চিন্তা করতে থাকেন।

অনেক ভেবে-চিন্তে হেলাল ঠিক করেন, তিনি ফেরি করে চা বিক্রি করবেন । সেভাবে যদি মানুষকে বাড়ি-বাড়ি বা বিভিন্ন অফিসে-দোকানে গিয়ে চা সরবরাহ করেন, তাহলে সবাই নিজ জায়গা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা খেতে পারবেন । এতে তার উপার্জনের পথও তৈরি হবে। তাই সে দুটি ফ্ল্যাক্স কিনে একটিতে দুধ চা ও অন্যটিতে লাল চা নিয়ে শুরু করেন ব্যবসা।

এ ব্যাপারে হেলাল বলেন, ‘জালমুড়ি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবার পর আমি প্রায় তিন মাস বসে ছিলাম। স্ত্রী নিয়ে সংসার সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। তাই অনেক চিন্তা-ভাবনা করি যে, কীভাবে সংসার চালাবো? অবশেষে অনেক ভেবে-চিন্তে ফেরি করে চা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিই।’

তিনি বলেন, ‘রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা বাজারের বিভিন্ন জায়গায় কাগজে আমার ফোন নম্বরসহ লিখে দেই, ‘ফোন করলেই পাওয়া যাবে চা’। এ ছাড়াও বিভিন্ন অফিসে গিয়ে বলে আসি আমার ব্যবসার কথা। সেইসঙ্গে মোবাইল নম্বরও দিয়ে আসি।’

প্রথমদিকে হেলাল তেমন সাড়া না পেলেও এখন দৈনিক প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার চা বিক্রি করেন।

হেলাল আরও বলেন, ‘বর্তমানে এ টাকা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছি। আমি প্রথম লকডাউন থেকে এ পর্যন্ত ৯ মাস হলো এ কাজ করছি। আমি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাগজের কাপে চা দিয়ে থাকি। তাই সবার কাছেই আমার চা জনপ্রিয়।’

হেলালের ফোনে বেশিরভাগ চায়ের অর্ডার আসে বেসরকারি অফিস ও বিভিন্ন রকমের দোকান থেকে। মহামারী করোনাভাইরাস কমে গেলে তিনি অন্য ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রূপগঞ্জে ঝালমুড়ির ব্যবসা হারিয়ে দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকার চা বিক্রি করেন হেলাল মিয়া!

প্রকাশিত : ০৩:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মে ২০২১

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে ভুলতা এলাকায় অতি পরিচিত মুখ হেলাল মিয়া । সবাই তাকে ‘চা হেলাল’ নামেই চেনেন। রূপগঞ্জে ভুলতা এলাকায় এপাশ থেকে ওপাশ তার অগাধ বিচরণ। ফোন পেলেই তিনি দু’হাতে চায়ের ফ্লাক্স ও ব্যাগ নিয়ে হাজির হন বিভিন্ন দোকানে বা অফিসে। লাল চা ও দুধ চায়ের সাথে থাকে ।
হেলাল হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে। বাবা পেশায় কৃষক। মা মরিচমতি বেগম গৃহিণী। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হেলাল তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। অল্প-শিক্ষিত বাবার অর্থনৈতিক দুর্বলতা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখতে দেয়নি। তবুও হেলাল পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নিজের চেষ্টায় পড়েছেন।

পরে হেলাল জীবিকা নির্বাহের তাগিদে চলে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায়। এখানে সে ঘুরে-ঘুরে জাল মুড়ির বিক্রি করতেন । কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে হেলাল মুড়িবিক্রি ছেড়ে দেয় । এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন। স্ত্রী নিয়ে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন, সে চিন্তা করতে থাকেন।

অনেক ভেবে-চিন্তে হেলাল ঠিক করেন, তিনি ফেরি করে চা বিক্রি করবেন । সেভাবে যদি মানুষকে বাড়ি-বাড়ি বা বিভিন্ন অফিসে-দোকানে গিয়ে চা সরবরাহ করেন, তাহলে সবাই নিজ জায়গা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা খেতে পারবেন । এতে তার উপার্জনের পথও তৈরি হবে। তাই সে দুটি ফ্ল্যাক্স কিনে একটিতে দুধ চা ও অন্যটিতে লাল চা নিয়ে শুরু করেন ব্যবসা।

এ ব্যাপারে হেলাল বলেন, ‘জালমুড়ি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবার পর আমি প্রায় তিন মাস বসে ছিলাম। স্ত্রী নিয়ে সংসার সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। তাই অনেক চিন্তা-ভাবনা করি যে, কীভাবে সংসার চালাবো? অবশেষে অনেক ভেবে-চিন্তে ফেরি করে চা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিই।’

তিনি বলেন, ‘রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা বাজারের বিভিন্ন জায়গায় কাগজে আমার ফোন নম্বরসহ লিখে দেই, ‘ফোন করলেই পাওয়া যাবে চা’। এ ছাড়াও বিভিন্ন অফিসে গিয়ে বলে আসি আমার ব্যবসার কথা। সেইসঙ্গে মোবাইল নম্বরও দিয়ে আসি।’

প্রথমদিকে হেলাল তেমন সাড়া না পেলেও এখন দৈনিক প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার চা বিক্রি করেন।

হেলাল আরও বলেন, ‘বর্তমানে এ টাকা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছি। আমি প্রথম লকডাউন থেকে এ পর্যন্ত ৯ মাস হলো এ কাজ করছি। আমি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাগজের কাপে চা দিয়ে থাকি। তাই সবার কাছেই আমার চা জনপ্রিয়।’

হেলালের ফোনে বেশিরভাগ চায়ের অর্ডার আসে বেসরকারি অফিস ও বিভিন্ন রকমের দোকান থেকে। মহামারী করোনাভাইরাস কমে গেলে তিনি অন্য ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ