১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পালিত হচ্ছে না এবার কবি গুরুর ১৬০তম জন্মবার্ষিকী

২৫শে বৈশাখ মানে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহের কুঠিবাড়ি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। ২৫শে বৈশাখ মানে কুমারখালীর শিলাইদহের কুঠিবাড়ির চার পাশে গন মানুষের সমাগম। ২৫শে বৈশাখ মানে কুঠিবাড়ি মূখরিত মানুষের কোলাহলে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী আজ। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে ১২৬৮ বঙ্গাব্দে পঁচিশে বৈশাখ জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯১৩ সালে কবিগুরুর নোবেল পুরস্কার বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদা এনে দেয়।আর ২৫বৈশাখের কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উৎসবের আয়োজন এবার কুমারখালীর কুঠিবাড়ীতে পালিত হচ্ছে না।
প্রায় একক প্রচেষ্টায় তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আধুনিক করে তুলেছিলেন। কবিগুরুর জন্মদিনের উৎসবে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান আয়োজন করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো প্রিয় কবির স্মৃতির প্রতি। জন্মের দেড় শতাধিক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সব বাঙালির কাছেই এক আনন্দঘন উৎসবের এ দিনটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা বিপুল পরিমাণে, বিষয়ে বৈচিত্র্যময়। কবিতা, সংগীত, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণ, শিশুতোষ রচনাসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখাই সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর মেধা-মনন-সৃজনশীলতায় জীবনের শেষ পর্যায়ে চিত্রকলা চর্চায় মনোনিবেশ করে সেখানেও অনন্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। রবীন্দ্র জয়ন্তীর এবারও মহামারী করোনায় কবির স্মৃতি বিজরিত শিলাইদহে সরাসরি কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে না।
কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী ঘিরে প্রতিবছর কুষ্টিয়াসহ সারা দেশে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও গত বছর ও এ বছর করোনার কারণে তা হয়নি। তবে অনলাইনে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উদযাপন করবে।
ড. সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, তবে কুষ্টিয়ার কুঠিবাড়ীতে এবছর যেন এক অন্য ২৫ বৈশাখ। কুঠিবাড়ির চার পাশে আজ ধ্বনিত হচ্ছে না কবিগুরুর গান ও গন মানুষের সমাগম । চতুদিকে যেন খাঁ-খাঁ করেছে। করোনা ঘিরে সর্বত্রই সতর্কতা। আগামী বছর ছবিটা পাল্টাবে। ফের রবীন্দ্রনাথ যাপন সম্ভব হবে বড় পরিসরে আশা তেমনটাই। ঘরে বসেই রবীন্দ্র-অনুরাগীরা স্মরণ করবে তাঁদের প্রাণের রবিকে।
কুষ্টিয়া জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান বলেন ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন।
১৯৩৭ সালে একবার অচৈতন্য হয়ে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থা হয়েছিল কবির। সেবার সেরে উঠলেও ১৯৪০ সালে অসুস্থ হওয়ার পর আর তিনি সেরে উঠতে পারেননি। এই সময় পর্বে রচিত রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলো ছিল মৃত্যুচেতনাকে কেন্দ্র করে। মৃত্যুর সাত দিন আগ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টিশীল ছিলেন। দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৯৪১ সালে জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পালিত হচ্ছে না এবার কবি গুরুর ১৬০তম জন্মবার্ষিকী

প্রকাশিত : ০৫:১৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মে ২০২১

২৫শে বৈশাখ মানে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহের কুঠিবাড়ি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। ২৫শে বৈশাখ মানে কুমারখালীর শিলাইদহের কুঠিবাড়ির চার পাশে গন মানুষের সমাগম। ২৫শে বৈশাখ মানে কুঠিবাড়ি মূখরিত মানুষের কোলাহলে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী আজ। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে ১২৬৮ বঙ্গাব্দে পঁচিশে বৈশাখ জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯১৩ সালে কবিগুরুর নোবেল পুরস্কার বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদা এনে দেয়।আর ২৫বৈশাখের কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উৎসবের আয়োজন এবার কুমারখালীর কুঠিবাড়ীতে পালিত হচ্ছে না।
প্রায় একক প্রচেষ্টায় তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আধুনিক করে তুলেছিলেন। কবিগুরুর জন্মদিনের উৎসবে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান আয়োজন করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো প্রিয় কবির স্মৃতির প্রতি। জন্মের দেড় শতাধিক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সব বাঙালির কাছেই এক আনন্দঘন উৎসবের এ দিনটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা বিপুল পরিমাণে, বিষয়ে বৈচিত্র্যময়। কবিতা, সংগীত, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণ, শিশুতোষ রচনাসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখাই সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর মেধা-মনন-সৃজনশীলতায় জীবনের শেষ পর্যায়ে চিত্রকলা চর্চায় মনোনিবেশ করে সেখানেও অনন্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। রবীন্দ্র জয়ন্তীর এবারও মহামারী করোনায় কবির স্মৃতি বিজরিত শিলাইদহে সরাসরি কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে না।
কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী ঘিরে প্রতিবছর কুষ্টিয়াসহ সারা দেশে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও গত বছর ও এ বছর করোনার কারণে তা হয়নি। তবে অনলাইনে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উদযাপন করবে।
ড. সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, তবে কুষ্টিয়ার কুঠিবাড়ীতে এবছর যেন এক অন্য ২৫ বৈশাখ। কুঠিবাড়ির চার পাশে আজ ধ্বনিত হচ্ছে না কবিগুরুর গান ও গন মানুষের সমাগম । চতুদিকে যেন খাঁ-খাঁ করেছে। করোনা ঘিরে সর্বত্রই সতর্কতা। আগামী বছর ছবিটা পাল্টাবে। ফের রবীন্দ্রনাথ যাপন সম্ভব হবে বড় পরিসরে আশা তেমনটাই। ঘরে বসেই রবীন্দ্র-অনুরাগীরা স্মরণ করবে তাঁদের প্রাণের রবিকে।
কুষ্টিয়া জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান বলেন ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারি তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন।
১৯৩৭ সালে একবার অচৈতন্য হয়ে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থা হয়েছিল কবির। সেবার সেরে উঠলেও ১৯৪০ সালে অসুস্থ হওয়ার পর আর তিনি সেরে উঠতে পারেননি। এই সময় পর্বে রচিত রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলো ছিল মৃত্যুচেতনাকে কেন্দ্র করে। মৃত্যুর সাত দিন আগ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টিশীল ছিলেন। দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৯৪১ সালে জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ