১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

চাকরি পাওয়ার চেয়ে বয়সসীমা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেশি

করোনা মহামারির কারণে ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে চাকরিপ্রত্যাশীদের। নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে না, নতুন বিজ্ঞপ্তিও আসছে না, কিন্তু বেড়ে যাচ্ছে বয়স; তাই শঙ্কা আর অনিশ্চয়তায় কাটছে চাকরিপ্রার্থীদের জীবন। যারা সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের কাছে এখন চাকরি পাওয়ার চিন্তার চেয়েও ‘বয়সসীমার দুশ্চিন্তা’ বেশি। মহামারিতে সব স্থবির থাকলেও ‘বয়স বেড়ে চলেছে তার নিজস্ব গতিতে। হতাশায় থাকা এক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, “মহামারীর আগে চাকরির বয়স হাতে ছিল ৩ বছর। পরীক্ষাগুলো দিতে পারলে এতদিনে একটা চাকরি হয়ত হয়ে যেত। কিন্তু এখন আর দেড় বছর সময় আছে। খুব দুশ্চিন্তায় আছি এটা নিয়ে।” ওই শিক্ষার্থী বলেন“মাস্টার্সের পরে টিউশনি করে চলতাম। করোনায় সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। যে সময়টায় বাবা-মাকে চাকরি করে সাপোর্ট করার কথা, তখন ফ্যামিলি আমাদের বোঝা হিসেবে টানছে,” ।এমন অনিশ্চয়তার হতাশা, দুশ্চিন্তা ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন কোটি বেকার তরুণ। পরিবার আশায় আছে চাকরি পেয়ে সংসারের হাল ধরবে । আশা পূরণের সময় আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে সেই সাথে যুক্ত হচ্ছে অনিশ্চয়তা। মহামারি দীর্ঘ হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা কয়েকজন চাকরিপার্থীদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, এখন সরকারি চাকরির আশা ছেড়ে তুলনামূলক কম বেতনের অন্য চাকরি খুঁজছি।তাদের মত চাকরির খোঁজে থাকা সদ্য সাবেক শিক্ষার্থীরা বলছেন, মহামারীকালে সরকারি ছাড়াও বেসরকারি খাতের নিয়োগের সংখ্যা কমে আসায় তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাচ্ছেন না।
এমনকি রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর বড় একটি নিয়োগের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় চাকরি প্রত্যাশীদের অনেকে কাজ ছাড়াই ঘরবন্দি সময় কাটাচ্ছেন। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের প্রান্তসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়ানোর দাবি বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজপথে সরব আছে অসংখ্য চাকরিপার্থী, আছে সোশাল মিডিয়াও। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় স্নাতক শেষ বর্ষে আটকে থাকা শিক্ষার্থীরা আবেদনই করতে পারছেন না। সে কারণে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদে বয়স বাড়ানোর পক্ষে নন। সঙ্কট সমাধানে তারা সময়িকভাবে অল্প দিনের জন্য ছাড় দিতে বলছেন। মহামারীর কারণে গতবছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। অনলাইনে ক্লাস হলেও পরীক্ষা নেওয়ার জটিলতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এক বছরের বেশি সময়ের জটে পড়েছেন। মহামারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ এক বছরের বেশি সময় ধরে। মহামারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ এক বছরের বেশি সময় ধরে। গত বছর জুলাই মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে ১৮ লাখ ২১ হাজার ২৮৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৬ জন কর্মরত আছে, ফাঁকা আছে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি পদ। ফাঁকা এসব পদের সংখ্যা, ওই সময়ের মোট পদের ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ। মহামারীর মধ্যে সেসব পদ পূরণের কাজটি থমকে গেছে। গত বছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটির সময় সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ ছিল। পরে কিছু প্রক্রিয়া শুরু হলেও সংখ্যায় তা সামান্য। মহামারীর মধ্যেই গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ৪২তম এবং ১৯ মার্চ ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। আগামী ৬ অগাস্ট ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বয়সের ক্ষেত্রে এক দফা ছাড় দেয় সরকার। তাতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ যারা ৩০ বছর পেরিয়ে গেছেন, তারাও চাকরির জন্য আবেদন করতে পেরেছেন। তারপর পেরিয়ে গেছে আরও আট মাস। সরকারের তরফ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো না আসায় চাকরিপ্রত্যাশীদের উদ্বেগ বাড়ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চাকরি পাওয়ার চেয়ে বয়সসীমা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেশি

প্রকাশিত : ১২:০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১

করোনা মহামারির কারণে ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে চাকরিপ্রত্যাশীদের। নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে না, নতুন বিজ্ঞপ্তিও আসছে না, কিন্তু বেড়ে যাচ্ছে বয়স; তাই শঙ্কা আর অনিশ্চয়তায় কাটছে চাকরিপ্রার্থীদের জীবন। যারা সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের কাছে এখন চাকরি পাওয়ার চিন্তার চেয়েও ‘বয়সসীমার দুশ্চিন্তা’ বেশি। মহামারিতে সব স্থবির থাকলেও ‘বয়স বেড়ে চলেছে তার নিজস্ব গতিতে। হতাশায় থাকা এক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, “মহামারীর আগে চাকরির বয়স হাতে ছিল ৩ বছর। পরীক্ষাগুলো দিতে পারলে এতদিনে একটা চাকরি হয়ত হয়ে যেত। কিন্তু এখন আর দেড় বছর সময় আছে। খুব দুশ্চিন্তায় আছি এটা নিয়ে।” ওই শিক্ষার্থী বলেন“মাস্টার্সের পরে টিউশনি করে চলতাম। করোনায় সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। যে সময়টায় বাবা-মাকে চাকরি করে সাপোর্ট করার কথা, তখন ফ্যামিলি আমাদের বোঝা হিসেবে টানছে,” ।এমন অনিশ্চয়তার হতাশা, দুশ্চিন্তা ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন কোটি বেকার তরুণ। পরিবার আশায় আছে চাকরি পেয়ে সংসারের হাল ধরবে । আশা পূরণের সময় আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে সেই সাথে যুক্ত হচ্ছে অনিশ্চয়তা। মহামারি দীর্ঘ হওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা কয়েকজন চাকরিপার্থীদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, এখন সরকারি চাকরির আশা ছেড়ে তুলনামূলক কম বেতনের অন্য চাকরি খুঁজছি।তাদের মত চাকরির খোঁজে থাকা সদ্য সাবেক শিক্ষার্থীরা বলছেন, মহামারীকালে সরকারি ছাড়াও বেসরকারি খাতের নিয়োগের সংখ্যা কমে আসায় তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাচ্ছেন না।
এমনকি রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর বড় একটি নিয়োগের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় চাকরি প্রত্যাশীদের অনেকে কাজ ছাড়াই ঘরবন্দি সময় কাটাচ্ছেন। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের প্রান্তসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়ানোর দাবি বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজপথে সরব আছে অসংখ্য চাকরিপার্থী, আছে সোশাল মিডিয়াও। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় স্নাতক শেষ বর্ষে আটকে থাকা শিক্ষার্থীরা আবেদনই করতে পারছেন না। সে কারণে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদে বয়স বাড়ানোর পক্ষে নন। সঙ্কট সমাধানে তারা সময়িকভাবে অল্প দিনের জন্য ছাড় দিতে বলছেন। মহামারীর কারণে গতবছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। অনলাইনে ক্লাস হলেও পরীক্ষা নেওয়ার জটিলতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এক বছরের বেশি সময়ের জটে পড়েছেন। মহামারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ এক বছরের বেশি সময় ধরে। মহামারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ এক বছরের বেশি সময় ধরে। গত বছর জুলাই মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে ১৮ লাখ ২১ হাজার ২৮৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৬ জন কর্মরত আছে, ফাঁকা আছে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি পদ। ফাঁকা এসব পদের সংখ্যা, ওই সময়ের মোট পদের ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ। মহামারীর মধ্যে সেসব পদ পূরণের কাজটি থমকে গেছে। গত বছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটির সময় সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ ছিল। পরে কিছু প্রক্রিয়া শুরু হলেও সংখ্যায় তা সামান্য। মহামারীর মধ্যেই গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ৪২তম এবং ১৯ মার্চ ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। আগামী ৬ অগাস্ট ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বয়সের ক্ষেত্রে এক দফা ছাড় দেয় সরকার। তাতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ যারা ৩০ বছর পেরিয়ে গেছেন, তারাও চাকরির জন্য আবেদন করতে পেরেছেন। তারপর পেরিয়ে গেছে আরও আট মাস। সরকারের তরফ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো না আসায় চাকরিপ্রত্যাশীদের উদ্বেগ বাড়ছে।