১০:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

মনোপলি ব্যবসা ভেঙে দিয়েছে সিএমএসডি

কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার বা সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপোতে (সিএমএসডি) গত কয়েক বছর ধরে চলা মনোপলি ব্যবসা ভেঙে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনিয়মের মাধ্যমে উচ্চমূল্যে করোনা কিট সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের বিলও আটকে দিয়েছেন বর্তমান পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান। সরকারের সকল ঔষধ সামগ্রী কেনার দায়িত্বে রয়েছে সিএমএসডি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই করোনা পরীক্ষার কিট নিয়ে সিএমএসডিতে একক মনোপলি ব্যবসা করেছে ওভারসিস মার্কেটিং কোম্পানি (ওএমসি) নামক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা চীনের সেনচুর বায়োটেক নামের একটি কোম্পানির আরটি-পিসিআর কিট এককভাবে দেশের সমস্ত হাসপাতালে সরবরাহ করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ৭৫০ টাকার কিট তারা প্রথমে সিএমএসডিতে সরবরাহ করেছে ৪২০০ টাকা দরে। সাবেক পরিচালক ব্রিঃ জেঃ শহিদুল্লাহ অনিয়ম করে সে সকল কিট কিনলেও বিল আটকে দিয়েছে বর্তমান পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান, যিনি স্বচ্ছ ইমেজের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। অনিয়ম করে কেনা টেস্টিং কিটের ১০৩ কোটি টাকার বিল আটকে দেওয়ার ফলে অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানের স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ওঠে পড়ে লেগেছে ওএমসি সহ এই সিন্ডিকেটের ১৩৫ জন ঠিকাদার। এই সিন্ডিকেটটি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে জিএস বায়োটেক নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেটে রুপান্তর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিএমএসডি সুত্রে জানা যায়, জিএস বায়োটেক সর্বশেষ অর্ডারের চেয়ে ১৫০ টাকা কমে ১ লক্ষ কিটের অর্ডার নেয়। জিএস বায়োটেক কার্যাদেশ পাওয়ায় সরকারের দেড় কোটি টাকা অর্থ ব্যয় কম হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জিএস বায়োটেকের কার্যাদেশের পূর্বে পাঁচ লক্ষ কিট সরাবরাহ করে ওএমসি, যার কার্যাদেশ মুল্য ছিল যথাক্রমে ১৫৫০, ১৫২০, ১৩৫০, ১০৫০ টাকা। এতে কিট ক্রয়ে সরকারের প্রায় ২০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হয়। সিএমএসডিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান পরিচালক আসার পর থেকেই প্রত্যেকটি দরপত্র স্বচ্ছতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, এমনকি প্রত্যেকটি দরপত্রে পুর্বের চেয়ে কম দামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে সরকারের প্রায় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এদিকে কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার ওএমসির চক্র থেকে বের হয়ে আসতে চাইলেও পারছে না। কারণ সবগুলি আরটি পিসিআর ল্যাবের মেশিন প্রথমেই সরবরাহ করে ফেলেছে ওএমসি। জানা গেছে, জিএস বায়োটেক উম্মুক্ত দরপত্রে অংশগ্রহণ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ১ লক্ষ কিট আনে হংকং থেকে। অভিযোগ রয়েছে, ওএমসি’র বাধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি চায়নার উৎপাদনকারী থেকে কিট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়। এই প্রসঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এটিএম গোলাম কিবরিয়া জানান, জিএস বায়োটেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল প্রকার নিয়ম মেনেই ঔষধ প্রশাসনের ছাড়পত্র পেয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটলে ছাড়পত্র ইস্যু করতো না, এমনকি ছাড়পত্র না পেলে জিএস বায়োটেক কিট আমদানি করতে পারতো না। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ওএমসির পরিচালক মো. মারুফ হাসানকে ফোন দেওয়া হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। ঘটনার বিষয়ে জিএস বায়োটেক কর্তৃপক্ষেরও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মনোপলি ব্যবসা ভেঙে দিয়েছে সিএমএসডি

প্রকাশিত : ১২:০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১

কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার বা সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপোতে (সিএমএসডি) গত কয়েক বছর ধরে চলা মনোপলি ব্যবসা ভেঙে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনিয়মের মাধ্যমে উচ্চমূল্যে করোনা কিট সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের বিলও আটকে দিয়েছেন বর্তমান পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান। সরকারের সকল ঔষধ সামগ্রী কেনার দায়িত্বে রয়েছে সিএমএসডি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই করোনা পরীক্ষার কিট নিয়ে সিএমএসডিতে একক মনোপলি ব্যবসা করেছে ওভারসিস মার্কেটিং কোম্পানি (ওএমসি) নামক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা চীনের সেনচুর বায়োটেক নামের একটি কোম্পানির আরটি-পিসিআর কিট এককভাবে দেশের সমস্ত হাসপাতালে সরবরাহ করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ৭৫০ টাকার কিট তারা প্রথমে সিএমএসডিতে সরবরাহ করেছে ৪২০০ টাকা দরে। সাবেক পরিচালক ব্রিঃ জেঃ শহিদুল্লাহ অনিয়ম করে সে সকল কিট কিনলেও বিল আটকে দিয়েছে বর্তমান পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান, যিনি স্বচ্ছ ইমেজের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। অনিয়ম করে কেনা টেস্টিং কিটের ১০৩ কোটি টাকার বিল আটকে দেওয়ার ফলে অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানের স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ওঠে পড়ে লেগেছে ওএমসি সহ এই সিন্ডিকেটের ১৩৫ জন ঠিকাদার। এই সিন্ডিকেটটি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে জিএস বায়োটেক নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেটে রুপান্তর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিএমএসডি সুত্রে জানা যায়, জিএস বায়োটেক সর্বশেষ অর্ডারের চেয়ে ১৫০ টাকা কমে ১ লক্ষ কিটের অর্ডার নেয়। জিএস বায়োটেক কার্যাদেশ পাওয়ায় সরকারের দেড় কোটি টাকা অর্থ ব্যয় কম হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জিএস বায়োটেকের কার্যাদেশের পূর্বে পাঁচ লক্ষ কিট সরাবরাহ করে ওএমসি, যার কার্যাদেশ মুল্য ছিল যথাক্রমে ১৫৫০, ১৫২০, ১৩৫০, ১০৫০ টাকা। এতে কিট ক্রয়ে সরকারের প্রায় ২০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হয়। সিএমএসডিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান পরিচালক আসার পর থেকেই প্রত্যেকটি দরপত্র স্বচ্ছতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, এমনকি প্রত্যেকটি দরপত্রে পুর্বের চেয়ে কম দামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে সরকারের প্রায় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এদিকে কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার ওএমসির চক্র থেকে বের হয়ে আসতে চাইলেও পারছে না। কারণ সবগুলি আরটি পিসিআর ল্যাবের মেশিন প্রথমেই সরবরাহ করে ফেলেছে ওএমসি। জানা গেছে, জিএস বায়োটেক উম্মুক্ত দরপত্রে অংশগ্রহণ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ১ লক্ষ কিট আনে হংকং থেকে। অভিযোগ রয়েছে, ওএমসি’র বাধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি চায়নার উৎপাদনকারী থেকে কিট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়। এই প্রসঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এটিএম গোলাম কিবরিয়া জানান, জিএস বায়োটেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল প্রকার নিয়ম মেনেই ঔষধ প্রশাসনের ছাড়পত্র পেয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটলে ছাড়পত্র ইস্যু করতো না, এমনকি ছাড়পত্র না পেলে জিএস বায়োটেক কিট আমদানি করতে পারতো না। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ওএমসির পরিচালক মো. মারুফ হাসানকে ফোন দেওয়া হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। ঘটনার বিষয়ে জিএস বায়োটেক কর্তৃপক্ষেরও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।