এবারও থাকছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, করোনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একের পর এক সাহসী প্যাকেজ এবং সবগুলো ক্ষেত্রেই সঠিক উদ্যোগের কারণে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। করোনা মহামারির মধ্যেও ২০২০ সালে দেশে মাথাপিছু আয় ১৬৩ ডলার বেড়ে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এদিকে আগামি বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থনীতির কোন দিকটা ভালো হওয়ার কারণে মাথাপিছু আয় বেড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী করোনার সময় যে সাহসী প্যাকেজগুলো নিয়েছেন একের পর এক এবং সবগুলো ক্ষেত্রেই তিনি স্পর্শ করেছেন। সে কারণেই আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রত্যেকটাই এখন উন্নতির দিকে, নেগেটিভ কিছু নেই। আমাদের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪৭ যা আগের মতোই আছে। দুর্যোগের মধ্যেও এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের পণ্য রফতানি ৩২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যেটার গ্রোথ ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। রেমিট্যান্সের গ্রোথ হলো ৪০ শতাংশ। ১১ মাসে রেমিট্যান্স হয়েছে ২২ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভে গত জুনে ছিলে ৩৬ বিলিয়ন ডলার, এখন এটি ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এ মাসেই এটি ৪৫ বিলিয়ন ডলার হবে। আমরা আশা করি আগামী অর্থবছর নিঃসন্দেহে এটা ৫০ বিলিয়ন ডলার টাচ করবে।’ অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নো পারফরমিং লোন অনেক কমে আসছে, এখন ৭ দশমিক ৬৬ আছে। গত বছরের জুনে ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। পুঁজিবাজারে গত বছরের জুনে ৩ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ছিল। এখন সেটা বেড়ে ৪ লাখ ৯৫ হাজার হয়েছে। আমাদের জাতীয় রাজস্ব নিয়ে সবসময় বিচলিত থাকি, সেই জাতীয় রাজস্ব এপ্রিল পর্যন্ত গ্রোথ ১১ দশমিক ৮ শতাংশ।’ আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আপনাদের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে স্বীকার করতে হবে আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো করছি। ভালো করার পেছনে যুক্তি হলো প্রধানমন্ত্রী সময় উপযোগী, সময়মতো এবং প্রণোদনা দিয়েছেন যা প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছেছে। যারা চাকরি হারিয়েছেন, যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অটিস্টিক সবাইকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। সে কারণেই টাকার সাপ্লাই এখন বেশি। বিশেষ করে আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি এখন অনেক ভালো। আমাদের ইমপোর্ট আগের চেয়ে অনেক ভালো হচ্ছে।’ এসএমই খাতের বরাদ্দের টাকা দেয়া যায়নি, এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সিস্টেমে নিয়ে দিচ্ছি এটা। কোনো মিডলম্যান ব্যবহার করছি না। মিডলম্যান ব্যবহার করলে যাদের টাকা দিচ্ছি তারা পেত না। সেজন্য যাদের একাউন্ট নাম্বার নেই তাদের যার যে মাধ্যম আছে সেটি দেখে-শুনে দেয়া হচ্ছে। ১০ টাকা দিয়ে একাউন্টের বিষয়টি আনা হয়েছিল, যাতে তারা ব্যাংকমুখী হয়। সেটি করে আমরা তাদের ব্যাংকে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করেছি। আমরা সাহায্য ব্যাংকে দেব বলেই তাদের ব্যাংকমুখী করা হয়েছে।’
কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এবারও সেটি কন্টিনিউ করব। যতদিন পর্যন্ত অপ্রদর্শিত টাকা প্রদর্শিত না হবে ততোদিন আমরা এটি কন্টিনিউ করব।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অপ্রদর্শিত টাকা কি কি কারণে হয়? জমি রেজিস্ট্রেশন ফি আমরা অনেক রেখে দিয়েছি। মৌজার যে প্রাইজ রেখেছেন সেটা অনেক কম। মার্কেট প্রাইজে লেনদেন হলে অপ্রদর্শিত টাকা থাকত না। আমাদের সিস্টেমের কারণেই এখন বায়ার এবং সেলারের কাছে তাদের অপ্রদর্শিত টাকা থাকে, সেজন্য তারা বিপদে পড়ে। আগে ইনকাম ট্যাক্স রেট বেশি ছিল, কেউ দিত না। সেজন্য আমরা পর্যায়ক্রমে ইনকাম ট্যাক্স রেট কমিয়ে এনেছি। এটা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের মতো যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের মূল্যায়ন করলে যাতে একইরকম পাওয়া যায় সেজন্য ব্যবস্থাটি আমরা নিচ্ছি। আমরা আশা করি অপ্রদর্শিত টাকা আমাদের ইকোনমিক সিস্টেম থেকে বিলীন হয়ে যাবে, থাকবে না।’ করোনা রোগীর জন্য ৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুর্নীতির প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত অত্যন্ত জরুরি বিষয়। তাদের দায়িত্ব ছিল এসব চাহিদার বিষয়ে যথাযথ সময় ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু তখন সেটি করা হয়নি। করোনা পৃথিবীতে সবার জন্যই প্রথম, তাই সবাই যে, সব কাজ সম্পর্কে অবগত থাকবে তাও না। যদি বার বার একই রকম মিসটেক হয় তাহলে এগুলো ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স থেকে বাদ যাবে। তবে এখন যেগুলো আসছে সেগুলো সবই নতুন।’ করোনা সারাবিশ্বে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এরমাঝে কাজের পরিধি বাড়ছে। আমাদের এখন এগুলো চিন্তা না করে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে হবে। এই বিবেচনায় আমরা আজকে এটি অনুমোদন দিয়েছি। আমি একমত আরও আগে যথাযথভাবে যদি আমরা এগুলো করতে পারতাম তাহলে হয়ত আমাদের সাশ্রয় হতো। তারপরও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সবাইকে বলেছি সাশ্রয়ী হতে হবে।’ পায়রার একটি প্রকল্প পাস হয়েছে, যেটি রিজার্ভ থেকে লোন নেয়া, এই টাকাটা কি তারা একেবারে পেয়ে যাবে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আগামী বৈঠকে জানানোর চেষ্টা করব। এই টাকাটা সরকার দিচ্ছে রিজার্ভ থেকে। টাকা কিভাবে খরচ করা হবে এবং আদায় হবে আমরা সেই বিষয়টি দেখছি।’ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থাকা সত্যেও বিদ্যুতের নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট কেন অনুমোদন দেয়া হচ্ছে-জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব এলাকায় পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে, সেখানে অনেক পুরাতন হওয়ায় রিপ্লেস করতে হবে। যার খরচ অনেক বেশি। সে জন্য এখানে নতুন ক্যাপাসিটি যুক্ত হবে না, পুরাতন যেটি ছিল সেটি ইনক্রিস হয়ে নতুনভাবে হবে।’




















