সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। এ দরপতনকে স্বাভাবিক বলছেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেয়ার জন্য বিক্রির চাপ বাড়িয়েছেন। ফলে বাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হয়েছে। তারা আরও বলেন, এই দরপতন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। টানা উত্থানের পর কিছুটা মূল্য সংশোধন হবে এটাই স্বাভাবিক। সার্বিকভাবে বর্তমানে শেয়ারবাজার বেশ ভালো অবস্থানে আছে। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে মুনাফাও তুলে নিচ্ছেন। তবে বিনিয়োগকারীদের তথ্যনির্ভর বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। হুজুগে বা গুজবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না।
বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু লেনদেনের সময় ১০ মিনিট পার হওয়ার আগেই একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দরপতন হতে থাকে। ফলে ঋণাত্মক হয়ে পড়ে সূচক। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা। শেষ দিকে এসে বাজারে রীতিমতো ধস নামে। এতে দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮১৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সবকটি মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। বাজারটিতে দিনভর লেনদেনে অংশ নেয়া ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৪টির এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। এখন সেটার মূল্য সংশোধন হয়েছে। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। সূচক কমে গেলে চিন্তার কিছু নেই। দেখতে হবে লেনদেনের গতি কেমন। ১৬ কোটি টাকার ওপর লেনদেন হয়েছে। এটা ভালো লক্ষণ। তিনি বলেন, শেয়ারের দাম টানা বাড়া ভালো নয়। দাম বাড়বে আবার কমবে, এটাই শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। তিনি আরও বলেন, এখন ব্যাংকে টাকা রাখলে ৫ শতাংশের মতো মুনাফা পাওয়া যায়। কিন্তু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে কেউ কেউ রাতারাতি বড় লোক হতে চায়। এত লোভ ভালো নয়। আপনি ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৫-১০ হাজার টাকা মুনাফা পেলে তাতেই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। কিন্তু ৫ লাখ টাকা ১০ লাখ হয়ে যাবে, এমন লোভ করা ঠিক নয়। ডিএসইর এক সদস্য বলেন, গত কয়েক দিনে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে। এ সময়ে অনেক দুর্বল কোম্পানির শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এখন সেসব প্রতিষ্ঠানের দরপতন হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার দাম কিন্তু তেমন কমেনি। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুরক্ষার ব্যবস্থা তাদেরই করতে হবে। গুজবে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে লোকসানের মুখে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। এদিকে সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৫২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় দুই হাজার ৯৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৪৪৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। টাকার অংকে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ২১৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৪৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক। এছাড়াও ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এনআরবিসি ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, ন্যাশনাল ফিড, জিনেক্স ইনফোসিস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, কনফিডেন্স সিমেন্ট এবং জিবিবি পাওয়ার। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২১৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৯টির এবং ৪১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।




















