কুষ্টিয়ায় গত বছরে পাটের মূল্য বেশী পাওয়ায় এবার চাষিরা ব্যাপকহারে পাট চাষে ঝুকে পড়েছে। পাটের ফলনও হয়েছে ভালো। পাটের বাম্পার ফলন পাশাপাশি সার কীটনাশকের ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধির পরেও পাটের ন্যায্য মুল্য পাওয়ায় চাষিরা খুশি ।
এক সময়ের সোনালী আঁশ কালের বিবর্তনে চাষিদের গলার ফাঁস হয়ে দাড়ায়। বিষ বৃক্ষ তামাকের মূল্য বেশী পাওয়ায় কুষ্টিয়ার চাষিরা পাট চাষ ছেড়ে দিয়ে তামাক চাষে ঝুকে পড়ে। স্বল্প সময় আর অধিক আয়ের আশায় কুষ্টিয়া জেলার চাষিদের মনে তামাক যেন সোনার হরিণ। কিন্তু তামাকের মূল্য না পেয়ে চাষিরা ক্ষুব্ধ হয়ে নতুন করে আবার পুরাতন ঐতিহ্য পাট চাষে ফিরে আসে। মাঠের পর মাঠ পাট আর পাট যেন সবুজ বৃক্ষে ভরে উঠেছে। কুষ্টিয়া জেলার মাঠে মাঠে এখন পাটের নাচন। পাট কাটা, জাগ দেয়া আর পাট শুকানো নিয়ে চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৯ হাজার ৮২০ হেক্টর জমি। সেখানে আবাদ হয়েছে ৪০হাজার ৯৬৬ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫২৩ মেট্রিক টন, হেক্টর প্রতি ফলন ধরা হয়েছে ২.৬৫ মেট্রিক টন। সেখানে সম্ভবত উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন। কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলার কুষ্টিয়া সদরে ২ হাজার ১৯৫ হেক্টর, খোকসা উপজেলায় ৪ হাজার ৩৫৮ হেক্টর, কুমারখালীতে ৫হাজার ২৮৩ হেক্টর, মিরপুরে ৪ হাজার ৯৭৫ হেক্টর, ভেড়ামারায় ৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর ও দৌলতপুর উপজেলায় ১৯ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত পাট উৎপাদন হওয়ায় কৃষি বিভাগের পাশাপাশি চাষীরাও ভালো দাম পেয়ে খুশির জোয়াড়ে ভাসছে।
কথা হয় পাট চাষী আব্দুল করিমের সাথে, তিনি বলেন পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে পাটের যে মূল্য যাচ্ছে তাতে করে আমাদের বেশী লাভ হবে না। পাটের মূল্য যদি সরকার একটু বাড়িয়ে দেয় তা হলে আমরা বেশী খুশি হতাম।
অপর এক কৃষক আব্দুর রম জানান, আমরা যে হারে পাটি লাগিয়ে পরিশ্রম করছি তাতে তেমন লাভ হচ্ছেনা। পাটের মূল্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মন হলে আমরা খুশি হতাম।
কুষ্টিয়া শহরতলী বাড়াদী গ্রামের পাট চাষি ছমির উদ্দিন জানান, পাট চাষ করতে বিঘা প্রতি জমিতে যে খরচ হচ্ছে পাট বিক্রি করে ওই অর্থ ঘরে আসেনা। সার, কীটনাশকসহ সব কিছুর মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট চাষ করে লাভ হচ্ছেনা। সরকার যদি পাট চাষিদের সহযোগীতা করতো এবং পাটের মূল্য বৃদ্ধি করলে তবেই চাষিরা বাঁচবে।
কৃষিবিদ ড. হায়াত মাহমুদ, জেলা প্রশিক্ষন অফিসার, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট পচন দেয়ার জন্য যে পানির প্রয়োজন তাও চাষিরা পেয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ক্যানেল , খাল বিল ভরে গেছে তাই তারা এবার আর পাট নিয়ে চিন্তায় নেই। তবে চাষীরা পাটের মূল্য নিয়ে যে অভিযোগ তুলছে তা সঠিক না।
কৃষি বিভাগকে আরো সক্রিয় হয়ে চাষীদেরকে কৃষি ক্ষেত্রে আরো সহযোগীতাসহ পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবী সব কৃষকের।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















