০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মিরসরাইয়ে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত মহামায়া

ষড়ঋতুর আবর্তে আবারও এলো শীত। শীত এলেই শুরু হয় পরিযায়ী তথা ‘অতিথি’ পাখিদের আগমন। এ সময়টাতে মেরু অঞ্চল, ইউরোপ, সাইবেরিয়া, এশিয়ার কিছু অঞ্চল এবং হিমালয়ের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত বরফ পড়ার কারণে তুলনাম‚লক কম শীতের বাংলাদেশে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় চলে আসে অতিথি পাখিরা। এসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন হাওড়-বাওড়, খাল-বিল ভরে উঠে পাখিদের আনাগোনা ও কলকাকলীতে। আবার এরা দেশের সবস্থানে যায় না। সেসব স্থানে পাখিদের খাদ্যের প্রাচুর্য্য বেশি এবং বিশালাকার জলাশয়ের এলাকাতেই ছুটে যায়। আর এরই সুবাদে পরিযায়ী পাখিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক মিরসরাইয়ের ‘মহামায়া’। শীতের শুরুর দিকটাতে পাখিদের আনাগোনা কম থাকলেও বর্তমানে বেড়েছে পাখিদের সংখ্যা। অতিথি পাখিদের আগমনে মহামায়ার রূপ-বৈচিত্রে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। আর সেই পাখিদের সাথে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে আসছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সাত সাগর তের নদী ফেরিয়ে বেড়াতে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখিরা। নানা প্রজাতির এসব পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হচ্ছে সমগ্র জনপদ। তবে শিকারীদের শ্যেন দৃষ্টি আর পরিবেশ দূষণের কারণে ধীরে ধীরে অতিথি পাখিদের এ জনপদে ভ্রমণ কমে এসেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোন প্রকার সরকারি ঘোষণা ছাড়াই একসময় পাখির অবয়ারণ্য হয়ে উঠেছিল মিরসরাইয়ের মহুরী প্রজেক্ট এলাকার সুবিশাল বিল আর জলাশয়। এখন এ অঞ্চলে কমে আসছে অতিথি পাখির আগমন। শিকারিদের শ্যেন দৃষ্টি আর কৃত্রিম মাছের প্রকল্পে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসা পাখির বিচরণ কমতে শুরু করেছে বলে ধারণা করছেন এলাকার লোকজন।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ময়ামায়ার প্রায় ১১ বর্গকিলোমিটার লেক এখন পরিযায়ী পাখিদের দখলে। শীতের শুরু থেকে তারা এখানে আসতে শুরু করে। বর্তমানে পাখিদের কিচিরমিচির ডাকে মুখোরিত হচ্ছে পুরো এলাকা। মহামায়ায় আগত পর্যটকরাও মন ভরে উপভোগ করছে পাখির উড়া-উড়ি, কালকাকলি আর কিচিরমিচির ডাকে। অনেকে পাখিদের অবাদ বিচরণ আর ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো কিংবা দলবেঁধে পানিতে ভেসে চলার ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ডিঙি নৌকায় ছড়ে লেকের কাফতলি এলাকায় গিয়ে দেখা মেলে পরিযায়ীদের। ক্যামেরায় ক্লিক পড়তেই ঝাঁক বেঁধে কিচিরমিচির শব্দে উড়তে শুরু করে আকাশে। লেকের চারদিক চেয়ে দেখা মেলে নানা প্রজাতির ছোট-বড় অসংখ্য পাখির।

এহামায়ায় ঘুরতে আসা পর্যটক ও পাখি প্রেমি গোলাম কাউসার বলেন, ‘বরাবরের মতো আমি পাখি প্রিয় মানুষ । একসময় বাসায় পাখি লালন-পালন করতাম। বর্তমানে পাখিদের ছেড়ে দিয়েছি। গত বছর শীতের সকালে পাখি দেখবো বলে মহামায়ায় এসেছিলাম। এমন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখিদের দেখা মেলেনি। এবার সত্যিই তাদের দল বেঁধে আকাশে উড়ে বেড়ানো আর কলকাকলি দেখে ভালো লেগেছে।’

একসময় শীত এলেই উপজেলার উপক‚লীয় মুহুরী প্রকল্প থেকে শাহেরখালী অঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকার খাল-বিল আর জলাশয় নানা রং আর আকৃতির অতিথি পাখিদের ক‚জনে মুখোরিত হতো। এখন কমতে শুরু করেছে প্রকৃতির পরিযায়ীদের আগমন। একসময় বালিহাঁস,পানকৌড়ি, ডাহুক, কানা বক, সরালি, মাছরাঙ্গা, গাংচিলসহ অসংখ্য পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটতে এখানে।

জানতে চাইলে মিরসরাই উপক‚লীয় বন রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময় আমরা পাখি ধরা কিংবা শিকারীদের বিষয়ে অভিযান করেছি। এখনো আমরা সজাগ রয়েছি।’ যে কেউ আমাদের এমন অপরাধের তথ্য প্রদান করলে আমরা তাৎক্ষনিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডে নিজের জীবন দিয়েও মেয়েকে বাঁচতে পারলেন না মা

মিরসরাইয়ে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত মহামায়া

প্রকাশিত : ০৭:০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জানুয়ারী ২০২২

ষড়ঋতুর আবর্তে আবারও এলো শীত। শীত এলেই শুরু হয় পরিযায়ী তথা ‘অতিথি’ পাখিদের আগমন। এ সময়টাতে মেরু অঞ্চল, ইউরোপ, সাইবেরিয়া, এশিয়ার কিছু অঞ্চল এবং হিমালয়ের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত বরফ পড়ার কারণে তুলনাম‚লক কম শীতের বাংলাদেশে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় চলে আসে অতিথি পাখিরা। এসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন হাওড়-বাওড়, খাল-বিল ভরে উঠে পাখিদের আনাগোনা ও কলকাকলীতে। আবার এরা দেশের সবস্থানে যায় না। সেসব স্থানে পাখিদের খাদ্যের প্রাচুর্য্য বেশি এবং বিশালাকার জলাশয়ের এলাকাতেই ছুটে যায়। আর এরই সুবাদে পরিযায়ী পাখিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক মিরসরাইয়ের ‘মহামায়া’। শীতের শুরুর দিকটাতে পাখিদের আনাগোনা কম থাকলেও বর্তমানে বেড়েছে পাখিদের সংখ্যা। অতিথি পাখিদের আগমনে মহামায়ার রূপ-বৈচিত্রে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। আর সেই পাখিদের সাথে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে আসছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সাত সাগর তের নদী ফেরিয়ে বেড়াতে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখিরা। নানা প্রজাতির এসব পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হচ্ছে সমগ্র জনপদ। তবে শিকারীদের শ্যেন দৃষ্টি আর পরিবেশ দূষণের কারণে ধীরে ধীরে অতিথি পাখিদের এ জনপদে ভ্রমণ কমে এসেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোন প্রকার সরকারি ঘোষণা ছাড়াই একসময় পাখির অবয়ারণ্য হয়ে উঠেছিল মিরসরাইয়ের মহুরী প্রজেক্ট এলাকার সুবিশাল বিল আর জলাশয়। এখন এ অঞ্চলে কমে আসছে অতিথি পাখির আগমন। শিকারিদের শ্যেন দৃষ্টি আর কৃত্রিম মাছের প্রকল্পে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসা পাখির বিচরণ কমতে শুরু করেছে বলে ধারণা করছেন এলাকার লোকজন।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ময়ামায়ার প্রায় ১১ বর্গকিলোমিটার লেক এখন পরিযায়ী পাখিদের দখলে। শীতের শুরু থেকে তারা এখানে আসতে শুরু করে। বর্তমানে পাখিদের কিচিরমিচির ডাকে মুখোরিত হচ্ছে পুরো এলাকা। মহামায়ায় আগত পর্যটকরাও মন ভরে উপভোগ করছে পাখির উড়া-উড়ি, কালকাকলি আর কিচিরমিচির ডাকে। অনেকে পাখিদের অবাদ বিচরণ আর ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো কিংবা দলবেঁধে পানিতে ভেসে চলার ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ডিঙি নৌকায় ছড়ে লেকের কাফতলি এলাকায় গিয়ে দেখা মেলে পরিযায়ীদের। ক্যামেরায় ক্লিক পড়তেই ঝাঁক বেঁধে কিচিরমিচির শব্দে উড়তে শুরু করে আকাশে। লেকের চারদিক চেয়ে দেখা মেলে নানা প্রজাতির ছোট-বড় অসংখ্য পাখির।

এহামায়ায় ঘুরতে আসা পর্যটক ও পাখি প্রেমি গোলাম কাউসার বলেন, ‘বরাবরের মতো আমি পাখি প্রিয় মানুষ । একসময় বাসায় পাখি লালন-পালন করতাম। বর্তমানে পাখিদের ছেড়ে দিয়েছি। গত বছর শীতের সকালে পাখি দেখবো বলে মহামায়ায় এসেছিলাম। এমন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখিদের দেখা মেলেনি। এবার সত্যিই তাদের দল বেঁধে আকাশে উড়ে বেড়ানো আর কলকাকলি দেখে ভালো লেগেছে।’

একসময় শীত এলেই উপজেলার উপক‚লীয় মুহুরী প্রকল্প থেকে শাহেরখালী অঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকার খাল-বিল আর জলাশয় নানা রং আর আকৃতির অতিথি পাখিদের ক‚জনে মুখোরিত হতো। এখন কমতে শুরু করেছে প্রকৃতির পরিযায়ীদের আগমন। একসময় বালিহাঁস,পানকৌড়ি, ডাহুক, কানা বক, সরালি, মাছরাঙ্গা, গাংচিলসহ অসংখ্য পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটতে এখানে।

জানতে চাইলে মিরসরাই উপক‚লীয় বন রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময় আমরা পাখি ধরা কিংবা শিকারীদের বিষয়ে অভিযান করেছি। এখনো আমরা সজাগ রয়েছি।’ যে কেউ আমাদের এমন অপরাধের তথ্য প্রদান করলে আমরা তাৎক্ষনিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর