১২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ যাচ্ছে বেসরকারি ব্যাংকে

ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট দূর করা ও সুদের হার কমাতে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ যাচ্ছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। ব্যাংকগুলোর অনেক দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে সরকারি আমানতের মাত্র ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার বিধান রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল রবিবার (১ এপ্রিল) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। শুক্রবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস-বিএবি’র কার্যালয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট এখন চরমে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে, ব্যক্তিখাতের ঋণ প্রবাহে ভাটা পড়েছে। এ অবস্থায় আমানত সংগ্রহে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। আমানতের সুদের হার বাড়িয়েও কাজ হচ্ছে না। উপায় না দেখে সরকারি আমানত চায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো।

এ ব্যাপারে বিএবি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট দূর করার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্যই শুক্রবার সন্ধ্যায় বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি ও বেসরকারি ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এবিবি’র সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, এখন থেকে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ অর্থ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখা হবে। এ বিষয়ে আগামী রবিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ঋণ বিতরণের মতো পর্যাপ্ত আমানত না পেয়ে অনেক ব্যাংকেরই বিনিয়োগ ঝুলে গেছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে। তারল্য সংকট কাটাতে সরকারি আমানতের যোগান বাড়াতে চায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো।

এজন্য তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখার দাবি করে আসছে। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ ব্যাপারে মৌখিক দাবি জানিয়েছিল বিএবি ও এবিবি।

বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলেও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ব্যাংকারদের সঙ্গে বৈঠক করলেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ২ লাখ কোটি টাকা সরকারি আমানত। বাকি ৮ লাখ কোটি টাকাই বেসরকারি আমানত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছলিমপুরে গণসংযোগে আসলাম চৌধূরীর স্ত্রী-কন্যা: নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ যাচ্ছে বেসরকারি ব্যাংকে

প্রকাশিত : ১১:৫৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮

ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট দূর করা ও সুদের হার কমাতে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ যাচ্ছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। ব্যাংকগুলোর অনেক দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে সরকারি আমানতের মাত্র ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার বিধান রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল রবিবার (১ এপ্রিল) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। শুক্রবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস-বিএবি’র কার্যালয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট এখন চরমে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে, ব্যক্তিখাতের ঋণ প্রবাহে ভাটা পড়েছে। এ অবস্থায় আমানত সংগ্রহে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। আমানতের সুদের হার বাড়িয়েও কাজ হচ্ছে না। উপায় না দেখে সরকারি আমানত চায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো।

এ ব্যাপারে বিএবি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট দূর করার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্যই শুক্রবার সন্ধ্যায় বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি ও বেসরকারি ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এবিবি’র সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, এখন থেকে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ অর্থ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখা হবে। এ বিষয়ে আগামী রবিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ঋণ বিতরণের মতো পর্যাপ্ত আমানত না পেয়ে অনেক ব্যাংকেরই বিনিয়োগ ঝুলে গেছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে। তারল্য সংকট কাটাতে সরকারি আমানতের যোগান বাড়াতে চায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো।

এজন্য তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখার দাবি করে আসছে। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ ব্যাপারে মৌখিক দাবি জানিয়েছিল বিএবি ও এবিবি।

বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলেও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ব্যাংকারদের সঙ্গে বৈঠক করলেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ২ লাখ কোটি টাকা সরকারি আমানত। বাকি ৮ লাখ কোটি টাকাই বেসরকারি আমানত।