০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চিকিৎসার অবহেলায় সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

মাদারীপুর জেলার রাজৈরে চিকিৎসার অবহেলায় সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে উপজেলার টেকেরহাট সেফ ডেলিভারী হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার রাত ১২টার সময় ভূক্তভোগির পরিবার ও এলাকাবাসি হসপিটালটি ঘেরাও করে চিৎকার চেচাঁমেচি করে । পরে খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক ও রাজৈর-শিবচর এসপি সার্কেল আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে বিচারের আশ্বাস দিলে ভূক্তভোগিরা চলে যায় । ওই হসপিটালে স্বামী মোঃ আবুল হোসেন ও স্ত্রী হাফিজা আক্তার রতœা দুইজনেই ডেলিভারী কাজে সর্বেসর্বা । এখানে কোন এমবিএস ডাক্তার বা ডিএমএফ বা এলএমপি নামে পল্লী চিকিৎসকও নেই। একটি প্রভাবশালী মহল এঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভূক্তভোগি প্রসূতি জেসমিন বেগমের স্বামী রাকিব জানান, আমার স্ত্রী জেসমিন বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে রোববার রাত ৯টার দিকে টেকেরহাট সেফ ডেলিভারী হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসলে ৮হাজার ৪০০ টাকায় চুক্তিতে ভর্তি করে হসপিটালের মালিক হাফিজা আক্তার রতœা । পরে ওইদিন রাত ১টার দিকে তারা স্বামী ও স্ত্রী মিলে প্রসূতির নরমাল ডেলিভারী সম্পন্ন করে। এসময় আমার বাচ্চার শ^াস প্রশ^াসে সমস্যা দেখা দিলে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে সোমবার বেলা ১২টার সময় আমাদের হসপিটাল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় । পরে আমার বাচ্চা ওইদিন রাত ১০টার দিকে মারা যায় । তিনি আরও জানান, ওই হসপিটালে কোন ডাক্তার ছিলো না । আমার বাচ্চার মৃত্যুর বিচার চাই । তবে মিমাংসা কথাবার্তা চলছে।
এব্যাপারে কথিত ডাক্তার হাফিজা আক্তার রতœা জানান, সদ্যভুমিষ্ট শিশুটি সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে গেছে। হয়ত ঠিকমত ঔষধ খাওয়াতে ভুল করায় শিশুটির মৃত্য হয়ে থাকতে পারে । তবে মিমাংসা কথাবার্তা চলছে।
হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সমিতির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন হাওলাদার জানান, ঘটনা জেনেছি। ডাক্তার ছাড়া প্রসুতির ডেলিভারী করানো কাম্য নয়, অনাকাংখিত।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ওসি শেখ সাদিক জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডাঃ মনির আহমদ খান জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অপ্রশিক্ষিত বা সনদ বিহিন ব্যক্তি এ কাজ করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সনদ বিহিন ব্যক্তিদের এ কাজে সম্পৃক্ত হবার কোন সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়, টেকেরহাট বন্দরসসহ রাজৈর উপজেলা মোট ২৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল রয়েছে। ২/১টা ব্যাতিরেকে এ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালগুলিতে কাগজে কলমে নিয়োগ দেয়া থাকলেও সার্বক্ষনিক এমবিএস ডাক্তার বা ডিএমএফ অথবা এলএমপি পল্লী চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত নার্স থাকে না । অথচ হসপিটাল চালুর করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের লাইসেন্স দিয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

চিকিৎসার অবহেলায় সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৬:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২

মাদারীপুর জেলার রাজৈরে চিকিৎসার অবহেলায় সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে উপজেলার টেকেরহাট সেফ ডেলিভারী হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার রাত ১২টার সময় ভূক্তভোগির পরিবার ও এলাকাবাসি হসপিটালটি ঘেরাও করে চিৎকার চেচাঁমেচি করে । পরে খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক ও রাজৈর-শিবচর এসপি সার্কেল আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে বিচারের আশ্বাস দিলে ভূক্তভোগিরা চলে যায় । ওই হসপিটালে স্বামী মোঃ আবুল হোসেন ও স্ত্রী হাফিজা আক্তার রতœা দুইজনেই ডেলিভারী কাজে সর্বেসর্বা । এখানে কোন এমবিএস ডাক্তার বা ডিএমএফ বা এলএমপি নামে পল্লী চিকিৎসকও নেই। একটি প্রভাবশালী মহল এঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভূক্তভোগি প্রসূতি জেসমিন বেগমের স্বামী রাকিব জানান, আমার স্ত্রী জেসমিন বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে রোববার রাত ৯টার দিকে টেকেরহাট সেফ ডেলিভারী হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসলে ৮হাজার ৪০০ টাকায় চুক্তিতে ভর্তি করে হসপিটালের মালিক হাফিজা আক্তার রতœা । পরে ওইদিন রাত ১টার দিকে তারা স্বামী ও স্ত্রী মিলে প্রসূতির নরমাল ডেলিভারী সম্পন্ন করে। এসময় আমার বাচ্চার শ^াস প্রশ^াসে সমস্যা দেখা দিলে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে সোমবার বেলা ১২টার সময় আমাদের হসপিটাল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় । পরে আমার বাচ্চা ওইদিন রাত ১০টার দিকে মারা যায় । তিনি আরও জানান, ওই হসপিটালে কোন ডাক্তার ছিলো না । আমার বাচ্চার মৃত্যুর বিচার চাই । তবে মিমাংসা কথাবার্তা চলছে।
এব্যাপারে কথিত ডাক্তার হাফিজা আক্তার রতœা জানান, সদ্যভুমিষ্ট শিশুটি সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে গেছে। হয়ত ঠিকমত ঔষধ খাওয়াতে ভুল করায় শিশুটির মৃত্য হয়ে থাকতে পারে । তবে মিমাংসা কথাবার্তা চলছে।
হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সমিতির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন হাওলাদার জানান, ঘটনা জেনেছি। ডাক্তার ছাড়া প্রসুতির ডেলিভারী করানো কাম্য নয়, অনাকাংখিত।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ওসি শেখ সাদিক জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডাঃ মনির আহমদ খান জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অপ্রশিক্ষিত বা সনদ বিহিন ব্যক্তি এ কাজ করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সনদ বিহিন ব্যক্তিদের এ কাজে সম্পৃক্ত হবার কোন সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়, টেকেরহাট বন্দরসসহ রাজৈর উপজেলা মোট ২৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল রয়েছে। ২/১টা ব্যাতিরেকে এ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালগুলিতে কাগজে কলমে নিয়োগ দেয়া থাকলেও সার্বক্ষনিক এমবিএস ডাক্তার বা ডিএমএফ অথবা এলএমপি পল্লী চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত নার্স থাকে না । অথচ হসপিটাল চালুর করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের লাইসেন্স দিয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ