০২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কা‌ঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জে‌লেরা

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কা‌ঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলেরা। অভয়াশ্রম শেষে নতুন ক‌রে বোনা জাল ও নৌকা নি‌য়ে জেলেরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ছুটে গিয়েছিলেন। অপরদিকে চাহিদা অনুযায়ী আমদানি না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ইলিশের মাছঘাট চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছের আড়তেও নেই কোনাে প্রাণচাঞ্চলতা। ফলে মাছঘাটের দেড় সহস্রাধিক শ্রমিকের অ‌নেকের কাজ নেই, অ‌নেক‌ শ্রমিক ঘা‌টে অলস সময় কাটা‌চ্ছেন।

গত ৩০ মার্চ শেষ হয়েছে জাটকা রক্ষায় ইলিশের অভয়াশ্রম মৌসুম। দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে পহেলা এপ্রিল থেকে বহু আশা নিয়ে পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলােমিটার এলাকায় বিচরণ করছে চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে। কিন্তু কা‌ঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন ওইসব জেলে।

সরেজমিন মেঘনা নদীর তীরবর্তী হরিণা, বহরিয়া, লক্ষ্মীপুর ও আনন্দবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দলবদ্ধভাবে নদীতে ইলিশ ধরতে যেয়েও খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা। আর যে পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন তা দিয়ে তাদের নৌকায় জ্বালানি খরচও উঠছে না। ফলে দৈনন্দিন সাংসারিক খরচ মেটাতে গিয়ে নতুন করে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানালেন জেলেরা । বহরিয়া ও লক্ষ্মীপুর এলাকার জেলে রতমউল্লা গাজী, বাচ্চু মিয়া ও ফারুক দেওয়ান জানায়, নি‌ষেধাজ্ঞা পর ভেবেছি মাছ পাব, গত দুই মাস যে ক‌ষ্টে ছিলাম মাছ পে‌লে হয়‌তো কষ্টটা কষ্ট ম‌নে হ‌তো না। কিন্তু যে পরিমাণ ইলিশ মাছ পাই তা একেবারেই সামান্য। এ দিয়ে তাে নৌকার তে‌লের খরচ ও‌ঠে না। আর সংসার চলে কি ক‌রে।

অপরদিকে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের আমদানি কম থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। স্বল্পসংখ্যক ইলিশ আমদানি হলেও দাম অনেক বেশি। অথচ বিগত বছরের এই সময়ে অনেকটাই সরগরম ছিল মাছঘাট। যদিও এ বছর সেই আড়তেই চলছে সুনসান নিরবতা। ফলে এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত অধিকাংশ শ্রমিকরা অন্য পেশার খুঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। আলাপকালে একাধিক শ্রমিক জানায়, মাছ না এলেও সারাদিন ঘাটে বসে অপেক্ষায় থাকি। তবে যে পরিমাণ মাছ আসে তা দিয়ে নিজেদের পকেট খরচই হয় না। তারপরও ঘা‌টে ব‌সে থা‌কি অন‌্য কাজ এখন কোথায় পাব।

এ বিষয়ে চাদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটের আড়তদাররা জানান, ইলিশের আমদানি কম থাকায় বর্তমানে এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতিকেজি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও ৭-৮শ গ্রামের ইলিশ প্রতিকেজি ১ হাজার ৮০০ টাকা ও ৫-৬শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪শ টাকায়।

মাছঘাটের ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান, মাে. রুবেল গাজী ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ইলিশের আমদানি খুবই কম। বর্তমানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মণ ইলিশ ঘাটে আসছে। এতে করে প্রতিদিন আমাদের হাজার হাজার টাকা লােকসান গুনতে হচ্ছে।

চাঁদপুর মৎস্য ও বণিক সমিতির সভাপ‌তি মা‌নিক জমাদার বলেন, বিগত বছর নি‌ষেধাজ্ঞার প‌রে যা মাছ এস‌ছে তা‌তে ঘাট সরগরম ছিল। কিন্তু এ বছর জে‌লে‌দের জা‌লে ভাল মাছ ধরা পর‌ছে না তাই ঘা‌টেও মাছ কম। পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ নেই, তবে আশা করছি আগামী জুন-জুলাই মাস থেকে জেলেরা ইলিশ পাবে। তখন আমদানিও বাড়বে।

কা‌ন্ট্রি ফি‌সিং বোর্ড মা‌লিক স‌মি‌তির সভাপ‌তি শাহ আলম ম‌ল্লিক ব‌লেন, দুই মা‌সের নি‌ষেধাজ্ঞার সম‌য়ে অ‌নেক জে‌লে ঋন নি‌য়ে নৌকা মেরামত ও নতুন ক‌রে জাল বু‌নে‌ছে। পদ্মা মেঘনায় প্রতি‌দিন জে‌লেরা চ‌ষে বেড়াচ্ছে ‌কিন্তু দিন‌শে‌ষে হতাশ হ‌য়ে নদী থে‌কে ফির‌তে হ‌চ্ছে। এভা‌বে মাছ না পে‌লে ঋনগ্রস্থ জে‌লে ও নৌকার মালিক‌দের প‌থে বস‌তে হ‌বে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ২০ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান

কা‌ঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জে‌লেরা

প্রকাশিত : ০৫:৩৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মে ২০২২

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কা‌ঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলেরা। অভয়াশ্রম শেষে নতুন ক‌রে বোনা জাল ও নৌকা নি‌য়ে জেলেরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ছুটে গিয়েছিলেন। অপরদিকে চাহিদা অনুযায়ী আমদানি না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ইলিশের মাছঘাট চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছের আড়তেও নেই কোনাে প্রাণচাঞ্চলতা। ফলে মাছঘাটের দেড় সহস্রাধিক শ্রমিকের অ‌নেকের কাজ নেই, অ‌নেক‌ শ্রমিক ঘা‌টে অলস সময় কাটা‌চ্ছেন।

গত ৩০ মার্চ শেষ হয়েছে জাটকা রক্ষায় ইলিশের অভয়াশ্রম মৌসুম। দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে পহেলা এপ্রিল থেকে বহু আশা নিয়ে পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলােমিটার এলাকায় বিচরণ করছে চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে। কিন্তু কা‌ঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন ওইসব জেলে।

সরেজমিন মেঘনা নদীর তীরবর্তী হরিণা, বহরিয়া, লক্ষ্মীপুর ও আনন্দবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দলবদ্ধভাবে নদীতে ইলিশ ধরতে যেয়েও খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা। আর যে পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন তা দিয়ে তাদের নৌকায় জ্বালানি খরচও উঠছে না। ফলে দৈনন্দিন সাংসারিক খরচ মেটাতে গিয়ে নতুন করে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানালেন জেলেরা । বহরিয়া ও লক্ষ্মীপুর এলাকার জেলে রতমউল্লা গাজী, বাচ্চু মিয়া ও ফারুক দেওয়ান জানায়, নি‌ষেধাজ্ঞা পর ভেবেছি মাছ পাব, গত দুই মাস যে ক‌ষ্টে ছিলাম মাছ পে‌লে হয়‌তো কষ্টটা কষ্ট ম‌নে হ‌তো না। কিন্তু যে পরিমাণ ইলিশ মাছ পাই তা একেবারেই সামান্য। এ দিয়ে তাে নৌকার তে‌লের খরচ ও‌ঠে না। আর সংসার চলে কি ক‌রে।

অপরদিকে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের আমদানি কম থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। স্বল্পসংখ্যক ইলিশ আমদানি হলেও দাম অনেক বেশি। অথচ বিগত বছরের এই সময়ে অনেকটাই সরগরম ছিল মাছঘাট। যদিও এ বছর সেই আড়তেই চলছে সুনসান নিরবতা। ফলে এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত অধিকাংশ শ্রমিকরা অন্য পেশার খুঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। আলাপকালে একাধিক শ্রমিক জানায়, মাছ না এলেও সারাদিন ঘাটে বসে অপেক্ষায় থাকি। তবে যে পরিমাণ মাছ আসে তা দিয়ে নিজেদের পকেট খরচই হয় না। তারপরও ঘা‌টে ব‌সে থা‌কি অন‌্য কাজ এখন কোথায় পাব।

এ বিষয়ে চাদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটের আড়তদাররা জানান, ইলিশের আমদানি কম থাকায় বর্তমানে এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতিকেজি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও ৭-৮শ গ্রামের ইলিশ প্রতিকেজি ১ হাজার ৮০০ টাকা ও ৫-৬শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪শ টাকায়।

মাছঘাটের ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান, মাে. রুবেল গাজী ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ইলিশের আমদানি খুবই কম। বর্তমানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মণ ইলিশ ঘাটে আসছে। এতে করে প্রতিদিন আমাদের হাজার হাজার টাকা লােকসান গুনতে হচ্ছে।

চাঁদপুর মৎস্য ও বণিক সমিতির সভাপ‌তি মা‌নিক জমাদার বলেন, বিগত বছর নি‌ষেধাজ্ঞার প‌রে যা মাছ এস‌ছে তা‌তে ঘাট সরগরম ছিল। কিন্তু এ বছর জে‌লে‌দের জা‌লে ভাল মাছ ধরা পর‌ছে না তাই ঘা‌টেও মাছ কম। পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ নেই, তবে আশা করছি আগামী জুন-জুলাই মাস থেকে জেলেরা ইলিশ পাবে। তখন আমদানিও বাড়বে।

কা‌ন্ট্রি ফি‌সিং বোর্ড মা‌লিক স‌মি‌তির সভাপ‌তি শাহ আলম ম‌ল্লিক ব‌লেন, দুই মা‌সের নি‌ষেধাজ্ঞার সম‌য়ে অ‌নেক জে‌লে ঋন নি‌য়ে নৌকা মেরামত ও নতুন ক‌রে জাল বু‌নে‌ছে। পদ্মা মেঘনায় প্রতি‌দিন জে‌লেরা চ‌ষে বেড়াচ্ছে ‌কিন্তু দিন‌শে‌ষে হতাশ হ‌য়ে নদী থে‌কে ফির‌তে হ‌চ্ছে। এভা‌বে মাছ না পে‌লে ঋনগ্রস্থ জে‌লে ও নৌকার মালিক‌দের প‌থে বস‌তে হ‌বে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর