ঢাকা দুপুর ২:৪৫, শনিবার, ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মোংলা-খুলনা রেললাইনের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ

বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে মোংলা-খুলনা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজে সাময়িক ধীর গতি থাকলেও, নতুন করে কাজে গতি ফিরে এসেছে। এরই মধ্যে রেললাইন, টেলিকমিউনিকেশন, সিগনালিং ও রূপসা নদীতে সেতু নির্মাণসহ প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অবকাঠামোর অগ্রগতির কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাদবাকি কাজ শেষ হতেআগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে কয়েকগুণ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোংলা-খুলনা বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মোংলা-খুলনা রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেই যেকোনো দিন চালু করে দেওয়া হবে এ রেললাইন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধিতে বন্দরকে সংযুক্ত করে মোংলা-খুলনা রেল লাইন প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। গত ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন হয়। জমি অধিগ্রহণ, রেল লাইন ও রেল সেতু নির্মাণসহ সমগ্র প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এরপর পাঁচবার সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এরই সাথে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

চলমান এ প্রকল্পের ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইরকন ইন্টারন্যাশনালের প্রজেক্ট ম্যানেজার বলরাম দে জানান, এ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পে ছোট বড় মিলিয়ে ৩১টি ব্রিজ ও ১০৮টি কালভার্ট নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। রূপসা নদীর উপর রেল সেতুর কাজ ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। পাইলিংয়ের কাজ প্রায় সম্পন্ন। এরপর মাত্র দুইটি স্প্যান জোড়া লাগবে। এ ছাড়া এখনো ৯টি ভেকুলার আন্ডারপাসের কাজ বাকি আছে। এগুলোর ড্রইং হাতে এলে এ কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

মোংলা-খুলনা রেল লাইন নির্মাণ কাজের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আরিফুজ্জামান জানান, রেলপথের কিছু অংশ, রেল সেতুর পাঁচ শতাংশ ও ফিনিশিং ওয়ার্ক বাকি আছে। তবে, নতুন ডিজাইনের নয়টি রোড আন্ডারপাস নির্মাণ, পাইলের লেন সংখ্যা বৃদ্ধি ও মাটির কাজসহ নতুন কিছু কাজ সংযোজন হয়েছে। সে হিসেবে আগের এক শ’ শতাংশ কাজের সঙ্গে আরও ১২ শতাংশ কাজ বেড়েছে। বর্তমানে রেল লাইনের মূল ভৌত অবকাঠামোর ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে।

সময় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনাকালে ভারত থেকে মালামাল আসতে ও নানা সংকটে শুরুতেই নির্মাণ কাজে বিলম্ব হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, চলমান এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের গতি আরও সঞ্চার হবে। মোংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও বাংলাবান্ধা হয়ে ভারতে শিলিগুঁড়ির রেল যোগাযোগ। ফলে, কম খরচে ভারত, নেপাল ও ভুটানের মালামাল পরিবহন সহজ হবে। এতে করে আমদানি- রফতানি বৃদ্ধির সঙ্গে কন্টেইনার সার্ভিসও বাড়বে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ