১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইজিপির দপ্তরে অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় থানার ওসি লুৎফুল কবীর ও এসআই আহম্মেদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীসহ চার কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনে ৭২ ঘণ্টা আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন, টাকা দাবি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ওসি লুৎফুল কবীর ও এসআই আহম্মেদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরের “আইজিপি’স কমপ্লেইন সেলে” লিখিত অভিযোগ নির্যাতনের শিকার দুই কিশোর আজিজুল ও নিশানের বাবা। এরআগে ৭২ ঘণ্টায়ও তাদের আদালতে না তুলে থানা হেফাজতে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

ক্রিমিনাল রিভিশন মামলা নম্বর-১৩৮/২০২২। বিজ্ঞ দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার মামলাটির শুনানীর দিন ধার্য করেছে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর। এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিভাবকদের করা অভিযাগ থেকে জানা যায়, গত ৩০ জুন রাত সাড়ে আটটার দিকে গয়েশপুর-সড়াবাড়ি এলাকায় গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা লুট করে ডাকাত দল। এখন পর্যন্ত প্রৃকত ডাকাত ও লুট হওয়া টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ শিক্ষার্থীসহ চার নিরীহ কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় এনে ৭২ ঘণ্টা আটকে রেখে চরম অমানবিক নির্যাতন করে ওসি। নির্যাতন বন্ধে এবং মামলা না দেয়া শর্তে অঙ্ক উল্লেখ না করেই টাকা দাবি করে ওসি।

এদিকে তার নির্যাতনে গুরুত্বর আহত কিশোরদের একজন সুজাতকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও ভর্তি করে পুলিশ। চার কিশোরের অভিভাবকদের কাছে ওসির দাবিকৃত টাকা আদায়ে তাদের বাড়িতেও যায় এসআই আহম্মেদ। এবং টাকা নিয়ে থানায় যাওয়ার পর তাদের সন্তানদের ছেড়ে দেয়া হবে বলে আশ্বস্তও করেন তিনি। এরপরই কিশোর আজিজুলের বাবা ধারদেনা করে ৫০ হাজার টাকা ও নিশানের বাবা ধারদেনাসহ গরু বিক্রি করে ৬৭ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যান। যদিও টাকার অঙ্ক কম হওয়ায় তাদেরও ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়া হয়। ধাক্কা দেয়া হয় নিশানের বড় বোনকেও। টাকা না পেয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে চার কিশোরকে ফাঁসানো হয় ঝিনাইদহের আরেকটি সড়ক ডাকাতির পেন্ডিং মামলায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরার তালা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ক্যাডার থেকে ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপির সাংসদ হাবীবুল ইসলাম হাবীবের সুপারিশে বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ পান ওসি লুৎফুল কবীর। সুপারিশ কর্তা সেই সাংসদ হাবীবুল ইসলাম এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবরে হামলার মামলায় কারাগারে রয়েছেন। ওসি লুৎফুল কবীর তালা উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের লাউতারা গ্রামের বাসিন্দা। মামলা এবং অভিযোগের বিষয়ে ওসি লুৎফল কবির বলেন আমার বিরুদ্ধে কবে মামলা হয়েছে ? কিসের অভিযোগ , কই আমি তো জানিনা । অভিযুক্ত এসআই আহম্মেদেও ওসির সুরেই কথা বলেন এবং তিনি কিছুই জানেনা বলে জানায় ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নওগাঁর নিয়ামতপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় তিন যুবক গ্রেপ্তার

ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইজিপির দপ্তরে অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৭:৪৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় থানার ওসি লুৎফুল কবীর ও এসআই আহম্মেদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীসহ চার কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনে ৭২ ঘণ্টা আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন, টাকা দাবি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ওসি লুৎফুল কবীর ও এসআই আহম্মেদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরের “আইজিপি’স কমপ্লেইন সেলে” লিখিত অভিযোগ নির্যাতনের শিকার দুই কিশোর আজিজুল ও নিশানের বাবা। এরআগে ৭২ ঘণ্টায়ও তাদের আদালতে না তুলে থানা হেফাজতে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

ক্রিমিনাল রিভিশন মামলা নম্বর-১৩৮/২০২২। বিজ্ঞ দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার মামলাটির শুনানীর দিন ধার্য করেছে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর। এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিভাবকদের করা অভিযাগ থেকে জানা যায়, গত ৩০ জুন রাত সাড়ে আটটার দিকে গয়েশপুর-সড়াবাড়ি এলাকায় গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা লুট করে ডাকাত দল। এখন পর্যন্ত প্রৃকত ডাকাত ও লুট হওয়া টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ শিক্ষার্থীসহ চার নিরীহ কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় এনে ৭২ ঘণ্টা আটকে রেখে চরম অমানবিক নির্যাতন করে ওসি। নির্যাতন বন্ধে এবং মামলা না দেয়া শর্তে অঙ্ক উল্লেখ না করেই টাকা দাবি করে ওসি।

এদিকে তার নির্যাতনে গুরুত্বর আহত কিশোরদের একজন সুজাতকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও ভর্তি করে পুলিশ। চার কিশোরের অভিভাবকদের কাছে ওসির দাবিকৃত টাকা আদায়ে তাদের বাড়িতেও যায় এসআই আহম্মেদ। এবং টাকা নিয়ে থানায় যাওয়ার পর তাদের সন্তানদের ছেড়ে দেয়া হবে বলে আশ্বস্তও করেন তিনি। এরপরই কিশোর আজিজুলের বাবা ধারদেনা করে ৫০ হাজার টাকা ও নিশানের বাবা ধারদেনাসহ গরু বিক্রি করে ৬৭ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যান। যদিও টাকার অঙ্ক কম হওয়ায় তাদেরও ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়া হয়। ধাক্কা দেয়া হয় নিশানের বড় বোনকেও। টাকা না পেয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে চার কিশোরকে ফাঁসানো হয় ঝিনাইদহের আরেকটি সড়ক ডাকাতির পেন্ডিং মামলায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরার তালা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ক্যাডার থেকে ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপির সাংসদ হাবীবুল ইসলাম হাবীবের সুপারিশে বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ পান ওসি লুৎফুল কবীর। সুপারিশ কর্তা সেই সাংসদ হাবীবুল ইসলাম এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবরে হামলার মামলায় কারাগারে রয়েছেন। ওসি লুৎফুল কবীর তালা উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের লাউতারা গ্রামের বাসিন্দা। মামলা এবং অভিযোগের বিষয়ে ওসি লুৎফল কবির বলেন আমার বিরুদ্ধে কবে মামলা হয়েছে ? কিসের অভিযোগ , কই আমি তো জানিনা । অভিযুক্ত এসআই আহম্মেদেও ওসির সুরেই কথা বলেন এবং তিনি কিছুই জানেনা বলে জানায় ।