০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভাষা শিখে কাজের ওপর দক্ষতা অর্জন করে ইতালি যাওয়ার দ্বার উন্মোচন

ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইতালির শ্রমবাজারে বাংলাদেশীরা ইতালীয় ভাষা শিখে ও সুনির্দিষ্ট কাজের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে যাওয়ার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। ইতালীয়ান ভাষা ও সেখানকার শ্রমবাজারের উপযুক্ত কাজের ওপর প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ ১০০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মাঝে আজ সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। রাজধানীর ডেমরায় আমুলিয়া মডেল টাউনে ইতালবাংলা গ্রীনল্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার ও গ্রীনল্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার উদ্যমী তরুনদের বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ ও ভাষাশিক্ষা কোর্স শেষে ইন্টারভিউ ও সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্টানের আয়োজন করে।
অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ও ইতালীয় ডেলিকেট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিথাগোরা কালচার এন্ড এডুকেশন, পিথাগোরা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভিনসেঞ্জো লুইজি খিরোল্লি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রবাসি উন্নয়ন সমন্বয় সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান। ইতালীয়ান ভাষা কোর্স (এ-ও) সম্পন্নকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্টানে ইতালবাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ খফরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ও ইতালীয় ডেলিকেট ভিনসেঞ্জো লুইজি খিরোল্লি জানান, ইতালিতে বর্তমানে ৫ লাখ শ্রমিকের শুন্যতা বিরাজমান। অবৈধ উপায়ে ইতালিতে প্রবেশ করছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিবাসী।
কিন্তু তারা ভাষা ও কাজে অদক্ষ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাই ইতালীয়ান ভাষা শিক্ষা ও শ্রমবাজারের উপযোগী কাজের ওপর প্রশিক্ষণ নেয়া তরুনদের ইতালী শ্রমবাজারের যাওয়ার সূযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ইতালি ও বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তের আলোকেই বাংলাদেশে অভিবাসন প্রত্যাশি তরুনদের কারিগরি ও ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষা করে সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে।
ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে শিগগিরই সার্টিফিকেট প্রাপ্ত তরুনরা ইতালিতে সরাসরি কাজে যোগ দিতে সক্ষম হবে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের ইতালিতে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রধান বাধা ভাষাগত অদক্ষতা। আমরা এর মানোন্নয়নে বাংলাদেশে ইতালীয়ান ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছি। ঢাকা, শরিয়তপুরের নড়িয়ার, গাজীপুর, ব্রাম্মণবাড়িয়াসহ মোট ১০ জায়গায় এখন ইতালীয়ান ভাষা শিখার জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে এটি দেশে আরো বিস্তৃত করা হবে।
আগামীতে ইতালি অভিবাসন প্রত্যাশিরা নিজেদের প্রস্তুত করে সেখানে যেতে পারবেন। গত ৭ জুন ইতালির রাজধানী রোমে দেশটির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায়; বিশেষ করে নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ ও পর্যটন খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে ইতালি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব রিকার্ডো গুয়ারিগলিয়া আলোচনায় নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন বলে জানা গেছে ।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নির্বাচন পরবর্তী ধানের শীষের কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি বিএনপির

ভাষা শিখে কাজের ওপর দক্ষতা অর্জন করে ইতালি যাওয়ার দ্বার উন্মোচন

প্রকাশিত : ০৮:৫২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩
ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইতালির শ্রমবাজারে বাংলাদেশীরা ইতালীয় ভাষা শিখে ও সুনির্দিষ্ট কাজের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে যাওয়ার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। ইতালীয়ান ভাষা ও সেখানকার শ্রমবাজারের উপযুক্ত কাজের ওপর প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ ১০০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মাঝে আজ সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। রাজধানীর ডেমরায় আমুলিয়া মডেল টাউনে ইতালবাংলা গ্রীনল্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার ও গ্রীনল্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার উদ্যমী তরুনদের বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ ও ভাষাশিক্ষা কোর্স শেষে ইন্টারভিউ ও সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্টানের আয়োজন করে।
অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ও ইতালীয় ডেলিকেট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিথাগোরা কালচার এন্ড এডুকেশন, পিথাগোরা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভিনসেঞ্জো লুইজি খিরোল্লি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রবাসি উন্নয়ন সমন্বয় সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান। ইতালীয়ান ভাষা কোর্স (এ-ও) সম্পন্নকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্টানে ইতালবাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ খফরুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ও ইতালীয় ডেলিকেট ভিনসেঞ্জো লুইজি খিরোল্লি জানান, ইতালিতে বর্তমানে ৫ লাখ শ্রমিকের শুন্যতা বিরাজমান। অবৈধ উপায়ে ইতালিতে প্রবেশ করছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিবাসী।
কিন্তু তারা ভাষা ও কাজে অদক্ষ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাই ইতালীয়ান ভাষা শিক্ষা ও শ্রমবাজারের উপযোগী কাজের ওপর প্রশিক্ষণ নেয়া তরুনদের ইতালী শ্রমবাজারের যাওয়ার সূযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ইতালি ও বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তের আলোকেই বাংলাদেশে অভিবাসন প্রত্যাশি তরুনদের কারিগরি ও ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষা করে সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে।
ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে শিগগিরই সার্টিফিকেট প্রাপ্ত তরুনরা ইতালিতে সরাসরি কাজে যোগ দিতে সক্ষম হবে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের ইতালিতে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রধান বাধা ভাষাগত অদক্ষতা। আমরা এর মানোন্নয়নে বাংলাদেশে ইতালীয়ান ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছি। ঢাকা, শরিয়তপুরের নড়িয়ার, গাজীপুর, ব্রাম্মণবাড়িয়াসহ মোট ১০ জায়গায় এখন ইতালীয়ান ভাষা শিখার জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে এটি দেশে আরো বিস্তৃত করা হবে।
আগামীতে ইতালি অভিবাসন প্রত্যাশিরা নিজেদের প্রস্তুত করে সেখানে যেতে পারবেন। গত ৭ জুন ইতালির রাজধানী রোমে দেশটির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায়; বিশেষ করে নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ ও পর্যটন খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে ইতালি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব রিকার্ডো গুয়ারিগলিয়া আলোচনায় নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন বলে জানা গেছে ।