সাতক্ষীরা শহরের বুক চিরে বহমান খালটির নাম প্রাণসায়ের। এই প্রাণসায়ের খাল ঘিরে গড়ে উঠেছিল একসময় সাতক্ষীরা শহর। ১৮৫০ সালের দিকে সাতক্ষীরার জমিদার প্রাণনাথ রায় চৌধুরী নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা ও শহরের শ্রীবৃদ্ধির জন্য খালটি খনন করেন।তার নাম অনুসারে খালটির নামকরণ করা হয় প্রাণসায়ের খাল। খননের শুরু থেকেই সাতক্ষীরা শহরের সৌন্দর্য বহনকরে আসছে ঐতিহ্যবাহী এই প্রাণসায়ের খাল। মরিচ্চাপ নদের সঙ্গে বেতনা নদীর সরাসরি যোগাযোগ রক্ষার জন্য সাতক্ষীরা শহরের ওপর দিয়ে ১৪ কিলোমিটার এ খাল খনন করা হয়।
সাতক্ষীরার প্রাণ কেন্দ্র এ খালটি এখন মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। খালের অর্ধেকাংশ ময়লা আবর্জনা আর কচুরিপনায় ভরা। বাকি অংশের পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খালের এই পচা পানিতে এডিস মশা জন্মানোর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ফলে পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়ের শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের পরিবর্তে খালটি এখন পরিবেশ দূষনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে খালটি সাতক্ষীরা শহরের ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বদ্ধ খালটিতে ফেলা হচ্ছে শহরের ময়লা আবর্জনা। ফলে খনন কাজ শেষ হওয়ার দেড় বছর যেতে না যেতেই খালটি আবার ভরাট হয়ে গেছে। ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশিত হতে না পারায় খালের কালো পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে সর্বত্র। খালের পাড়ের সড়ক দিয়ে লোকজনকে চলতে হয় নাক চেপে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ইচ্ছেমতো। বাজারের সব ময়লার পাশাপাশি পশু জবাই করার পর সমস্ত আর্বজনা ফেলা হচ্ছে খালের মধ্যে। শহরের পাকাপুল থেকে বড়বাজার ব্রীজ হয়ে কুখরালী পর্যন্ত খালটি ভরাট হয়ে গেছে। কচুরিপনায় ভরা খালের এই অংশের পাশে কয়েকটি স্থানে খালের মাঝ বরাবর বিভিন্ন আগাছা জন্মেছে। আর পাকাপুল থেকে গার্লস স্কুলের ব্রীজ হয়ে নারিকেলতলা পর্যন্ত খালের পানি পঁচে কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পথ চারীরা নাকে কাপড় দিয়ে হাটা চলা করছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, খালের পানি পঁচে কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এভাবে আর কিছুদিন থাকলে খাল ধারের রাস্তায় হাটলে অসুস্থ হয়ে পড়তে হবে।
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ তালুকদার জানান, খালটি পাউবো খনন করলেও জমির মালিক পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন। তাদেরই এটি রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা। যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় খালটির এ অবস্থা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমদ চিশতী বলেন, মানুষ যাতে খালটিতে ময়লা–আবর্জনা না ফেলেন, সে জন্য বারবার বলা হচ্ছে। কিন্তু কেউ শুনছেন না। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির জানান, প্রাণসায়ের খালপাড়ের বাসিন্দা ও দোকানদারদের নোটিশ করে নিষেধ করা হবে। তাঁরা না শুনলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছেন না। খাল রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















