১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

৬ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয় জেলায় আটজন নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিহত সবাই চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা।

শুক্রবার (২৫ মে) দিবাগত রাত ১২ থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে এসব ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। এর মধ্যে কুমিল্লায় দু’জন, দিনাজপুরে দু’জন, জয়পুরহাটে একজন, চাঁদপুরে একজন, ময়মনসিংহে একজন ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজন নিহত হন।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৫) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও এক রাউন্ড বুলেটসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। নিহত বাবুল উপজেলার আশাবাড়ি ও আলমাস উত্তর তেতাভূমি এলাকার বাসিন্দা।

ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির জানান, বাবুলের
বিরুদ্ধে ১৬টি ও আলমাসের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন ও সদর উপজেলার রামসাগরে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গুলি বিনিময়ে আরো একজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ মে) রাত ৩টা দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বীরগঞ্জ উপজেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সাবদারুল ইসলাম (৪২) ও সদর উপজেলার রামসাগর আব্দুস সালাম (৪৭)।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১৩ দিনাজপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক (সিও) মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, ভোরে বীরগঞ্জে বিপুল মাদক পাচারের খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে সাবদারুল গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে তার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা, প্রায় দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হন দুই র‌্যাব সদস্য।

এ ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সদর উপজেলার ছয় নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গুলি বিনিময়ে আব্দুস সালাম (৪৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ মে) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রামসাগর পশ্চিম দেয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সালাম ওই এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম জানান, রাতে রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল সেখানে গেলে আব্দুস সালামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ অবস্থায় আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, চারটি হাত বোমা, একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভিমপুর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রেন্টু নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প কমান্ডার শামীম হোসেন জানান, মাদকের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল রাতে ভিমপুর এলাকায় যায়। টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকি তিন/চারজন পালিয়ে যান। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, এক নলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান (৩০) নামে শীর্ষ একমাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের তেলওয়ারী গন্ডিমোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহানের বিরুদ্ধে মাদক আইনে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, রাতে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ভাগাভাগি করছেন। এমন তথ্যের ভিিত্তিতে জেলা ডিবি ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা ইট, পাটকেল ও গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হন। এ অবস্থায় শাহজাহানকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, বন্দুকযুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম খান, আঠারবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার মামুন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোজাহারুল আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, পাঁচটি গুলির খোসা, একটি রামদা ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

চাঁদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বাবলু (৩৫) নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১০ নম্বর আশরাফপুর ইউনিয়নের বনরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তার বাড়ি থেকে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

নিহত বাবলু ওই গ্রামের সুলতার মিয়ার ছেলে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা ডিবি ও কচুয়া থানা পুলিশ বাবলুর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন বাবলু। এ অবস্থায় বাবলুকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। মরদেহ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা করেসপন্ডেন্ট শারিফুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোবারক হোসেন কুট্টি (৪৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৬ মে) ভোর রাতে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। মোবারক হোসেন সদর উপজেলার ছিট চিলারং গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে।

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফরহাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান তার বিরুদ্ধে সদর থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

৬ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

প্রকাশিত : ১০:৫৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয় জেলায় আটজন নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিহত সবাই চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা।

শুক্রবার (২৫ মে) দিবাগত রাত ১২ থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে এসব ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। এর মধ্যে কুমিল্লায় দু’জন, দিনাজপুরে দু’জন, জয়পুরহাটে একজন, চাঁদপুরে একজন, ময়মনসিংহে একজন ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজন নিহত হন।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৫) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও এক রাউন্ড বুলেটসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। নিহত বাবুল উপজেলার আশাবাড়ি ও আলমাস উত্তর তেতাভূমি এলাকার বাসিন্দা।

ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির জানান, বাবুলের
বিরুদ্ধে ১৬টি ও আলমাসের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন ও সদর উপজেলার রামসাগরে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গুলি বিনিময়ে আরো একজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ মে) রাত ৩টা দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বীরগঞ্জ উপজেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সাবদারুল ইসলাম (৪২) ও সদর উপজেলার রামসাগর আব্দুস সালাম (৪৭)।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১৩ দিনাজপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক (সিও) মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, ভোরে বীরগঞ্জে বিপুল মাদক পাচারের খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে সাবদারুল গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে তার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা, প্রায় দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হন দুই র‌্যাব সদস্য।

এ ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সদর উপজেলার ছয় নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গুলি বিনিময়ে আব্দুস সালাম (৪৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ মে) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রামসাগর পশ্চিম দেয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সালাম ওই এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম জানান, রাতে রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল সেখানে গেলে আব্দুস সালামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ অবস্থায় আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, চারটি হাত বোমা, একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভিমপুর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রেন্টু নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প কমান্ডার শামীম হোসেন জানান, মাদকের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল রাতে ভিমপুর এলাকায় যায়। টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকি তিন/চারজন পালিয়ে যান। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, এক নলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান (৩০) নামে শীর্ষ একমাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের তেলওয়ারী গন্ডিমোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহানের বিরুদ্ধে মাদক আইনে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, রাতে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ভাগাভাগি করছেন। এমন তথ্যের ভিিত্তিতে জেলা ডিবি ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা ইট, পাটকেল ও গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হন। এ অবস্থায় শাহজাহানকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, বন্দুকযুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম খান, আঠারবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার মামুন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোজাহারুল আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, পাঁচটি গুলির খোসা, একটি রামদা ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

চাঁদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বাবলু (৩৫) নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১০ নম্বর আশরাফপুর ইউনিয়নের বনরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তার বাড়ি থেকে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

নিহত বাবলু ওই গ্রামের সুলতার মিয়ার ছেলে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা ডিবি ও কচুয়া থানা পুলিশ বাবলুর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন বাবলু। এ অবস্থায় বাবলুকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। মরদেহ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা করেসপন্ডেন্ট শারিফুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোবারক হোসেন কুট্টি (৪৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৬ মে) ভোর রাতে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। মোবারক হোসেন সদর উপজেলার ছিট চিলারং গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে।

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফরহাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান তার বিরুদ্ধে সদর থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।