০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আফগানদের কাছে টাইগারদের সিরিজ হার

ভারতের দেরাদুনে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারাল আফগানিস্তান। এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিল আফগানিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানকে ১৩৫ রানের লক্ষ্য বেঁধে দেয় বাংলাদেশ। ৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জয় পায় স্বাগতিক দল।

স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরুতেই প্রয়োজন ছিল উইকেটের। সেটা হয়নি কিন্তু ধারালো আক্রমণ করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। তার করা প্রথম দুই ওভার থেকে কোনো রানই নিতে পারেনি আফগানিস্তানের ওপেনাররা। শুরুতেই ভালো বোলিং করায় এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

দলে ফিরেই ভালো করেন পেসার আবু হায়দার রনি। বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই দলকে দিলেন সাফল্য। বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। ১৮ বলে ২৪ রান করে রনির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শাহজাদ। এরপর রুবেলের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে সৌম্যর হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন আফগানিস্তানের ওপেনার উসমান গনি। ৩১ বলে ২১ রান করেন ডানহাতি এই ওপেনার।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ হয় বাংলাদেশের। ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে খেলতে নামে লিটন দাস। তবে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় সাজঘরে। শাপুর জাদরানের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে রশিদ খানের হাতে ধরা পরেন তিনি। লিটন দাস আউট হওয়ার আগে করে ৩ বলে ১ রান। এরপর মাত্র ৮ বলে ১৩ রান করে সাজ ঘরে ফিরে যান টি-টোয়েন্টি মাস্টার সাব্বির রহমান।

তামিমকে সাথে নিয়ে বেশ দারুণই খেলছিলেন মুশফিক কিন্তু মোহাম্মদ নবীর বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরে যান তিনি। ১৮ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। মাঠে নেমেই ভালো করার জাগান দিয়েছিলো মাহমুদউল্লাহ। মুখোমুখি প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু করিম জানাতের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যায় সাজ ঘরে। এরপর রশিদ খানের স্পিন ঘূর্ণিতে চাপে পরে বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ঠিক আজ এক ওভারেই নিলেন ৩ উইকেট। ১৬তম ওভারে মাত্র ২ রান দিয়েই নিয়েছে ৩ উইকেট। প্রথম বলে নজিবুল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার আগে করে ৭ বলে মাত্র ৩ রান। চতুর্থ বলে বোল্ড হয়ে সাজ ঘরে যায় ওপেনার তামিম ইকবাল। সাবাই যখন ব্যাট হাতে ব্যার্থ তখন দলকে একাই টেনেছে তামিম আউট হওয়ার আগে করে ৪৮ বলে ৪৩ রান। পরের বলে মোসাদ্দেককে এলবিডব্লিউ করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়ে ছিলেন রশিদ।

এরপরে আবারো বাংলাদেশ শিবিরে আঘাত হানে রশিদ খান এভারের শিকার সৌম্য সরকার। প্রথম ম্যাচে একাদশে ছিলেন না। দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে এসেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তিনি। নিজের আগের ওভারে ৩ উইকেট নেওয়ার রশিদ খানের শিকার হয়েছেন তিনিও আউট হওয়ার আগে করে ৯ বলে ৩রান। এরপর আবু হায়দার রনির ১৪ বলের ২১ রানের ঝড়ো ইনিংসে বাংলাদেশ করে ১৩৪ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান: ১৩৫/৪ (১৮ ওভার ৫ বল)
বাংলাদেশ: ১৩৪/৮ (২০ ওভার)।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

আফগানদের কাছে টাইগারদের সিরিজ হার

প্রকাশিত : ১১:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ জুন ২০১৮

ভারতের দেরাদুনে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারাল আফগানিস্তান। এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিল আফগানিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানকে ১৩৫ রানের লক্ষ্য বেঁধে দেয় বাংলাদেশ। ৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জয় পায় স্বাগতিক দল।

স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরুতেই প্রয়োজন ছিল উইকেটের। সেটা হয়নি কিন্তু ধারালো আক্রমণ করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। তার করা প্রথম দুই ওভার থেকে কোনো রানই নিতে পারেনি আফগানিস্তানের ওপেনাররা। শুরুতেই ভালো বোলিং করায় এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

দলে ফিরেই ভালো করেন পেসার আবু হায়দার রনি। বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই দলকে দিলেন সাফল্য। বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। ১৮ বলে ২৪ রান করে রনির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শাহজাদ। এরপর রুবেলের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে সৌম্যর হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন আফগানিস্তানের ওপেনার উসমান গনি। ৩১ বলে ২১ রান করেন ডানহাতি এই ওপেনার।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ হয় বাংলাদেশের। ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে খেলতে নামে লিটন দাস। তবে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় সাজঘরে। শাপুর জাদরানের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে রশিদ খানের হাতে ধরা পরেন তিনি। লিটন দাস আউট হওয়ার আগে করে ৩ বলে ১ রান। এরপর মাত্র ৮ বলে ১৩ রান করে সাজ ঘরে ফিরে যান টি-টোয়েন্টি মাস্টার সাব্বির রহমান।

তামিমকে সাথে নিয়ে বেশ দারুণই খেলছিলেন মুশফিক কিন্তু মোহাম্মদ নবীর বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরে যান তিনি। ১৮ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। মাঠে নেমেই ভালো করার জাগান দিয়েছিলো মাহমুদউল্লাহ। মুখোমুখি প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু করিম জানাতের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যায় সাজ ঘরে। এরপর রশিদ খানের স্পিন ঘূর্ণিতে চাপে পরে বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ঠিক আজ এক ওভারেই নিলেন ৩ উইকেট। ১৬তম ওভারে মাত্র ২ রান দিয়েই নিয়েছে ৩ উইকেট। প্রথম বলে নজিবুল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার আগে করে ৭ বলে মাত্র ৩ রান। চতুর্থ বলে বোল্ড হয়ে সাজ ঘরে যায় ওপেনার তামিম ইকবাল। সাবাই যখন ব্যাট হাতে ব্যার্থ তখন দলকে একাই টেনেছে তামিম আউট হওয়ার আগে করে ৪৮ বলে ৪৩ রান। পরের বলে মোসাদ্দেককে এলবিডব্লিউ করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়ে ছিলেন রশিদ।

এরপরে আবারো বাংলাদেশ শিবিরে আঘাত হানে রশিদ খান এভারের শিকার সৌম্য সরকার। প্রথম ম্যাচে একাদশে ছিলেন না। দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে এসেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তিনি। নিজের আগের ওভারে ৩ উইকেট নেওয়ার রশিদ খানের শিকার হয়েছেন তিনিও আউট হওয়ার আগে করে ৯ বলে ৩রান। এরপর আবু হায়দার রনির ১৪ বলের ২১ রানের ঝড়ো ইনিংসে বাংলাদেশ করে ১৩৪ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান: ১৩৫/৪ (১৮ ওভার ৫ বল)
বাংলাদেশ: ১৩৪/৮ (২০ ওভার)।